| |

এমপিওভুক্ত হলো যুদ্ধাপরাধের আসামির নামের স্কুল

আপডেটঃ 7:49 pm | October 24, 2019

Ad

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আসামি আলহাজ শামছুল আলম ঝুনু মিয়ার নামে নামকরণকৃত একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এমপিওভুক্ত হয়েছে। ঝুনু মিয়া ২০০৯ সালে গ্রামের বাড়ি জামালগঞ্জের লক্ষ্মীপুরে ঝুনু মিয়া হাই স্কুল নামের এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন।

বুধবার (২৩ অক্টোবর) সারাদেশের ২ হাজার ৭৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির ঘোষণা আসে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে দীর্ঘ সাড়ে নয়বছরের এমপিওভুক্তির বন্ধ দ্বার খুলেন, যেখানে স্থান পায় সুনামগঞ্জের এই বিদ্যালয়টিও।

এদিকে, মানবতাবিরোধী এক অপরাধীর প্রতিষ্ঠিত ও নামাঙ্কিত এক হাইস্কুল এমপিওভুক্তির তালিকায় আসায় সুনামগঞ্জে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের লোকজন সরকারের এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করছেন।

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সদস্য আকবর হোসেন বলেন, লাল মিয়া একাত্তরে ছিলেন হাওরাঞ্চলের ত্রাস। তার নেতৃত্বাধীন রাজাকার বাহিনী লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ, খুনের অসংখ্য ঘটনা ঘটিয়েছে। ঝুনু মিয়াও একজন পরিণত বয়সের মানুষ হিসেবে এই অপকর্মে জড়িত বলে যুদ্ধাপরাধ মামলার অভিযোগ ও এলাকাবাসীর মুখ থেকে শুনেছি। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার রাজাকারের নামে প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি দেওয়াটা আমাদের জন্য কষ্টের।

এদিকে, নিজের নামের প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হওয়ায় স্থানীয় সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ঝুনু মিয়া। তার সমর্থকরাও স্থানীয় এমপিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ঝুনু মিয়ার নামে জামালগঞ্জ আমলগ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সদরকান্দি গ্রামের আব্দুল জলিল একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ঝুনু মিয়াসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এই মামলাটি যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্তের জন্য পাঠিয়েছিলেন আদালত।

ট্রাইব্যুনাল এই মামলাটির অভিযোগ গ্রহণ করে তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছেন। এছাড়াও বাদী আবারও মামলাটির অগ্রগতির বিষয়ে আবেদন করেছেন বলে জানা গেছে।

মামলায় আনিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শামছুল আলম ঝুনুর পিতা মৃত আবুল মনসুর আহমদ লাল মিয়া ৭১ সালে রাজাকার বাহিনী, শান্তি কমিটি, আলবদর, আল সামস বাহিনীর প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। যুদ্ধের সময়ে লাল মিয়া তাহার যুবক পুত্র শামছুল আলম ঝুনুসহ অপর আসামীদের নিয়ে হালিয়ার হাওরে টহল দিতেন। এ হাওর দিয়ে বালাট সীমান্তে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে রওয়ানা হলে তাদের উপর চালানো হতো নির্মম নির্যাতন। সুন্দরী মহিলাদের জোর করে ধরে এনে ধর্ষণ করতেন। এমনকি সুনামগঞ্জ পাক আর্মি ক্যাম্পে নিয়ে আসা হতো সুন্দরী মেয়েদের।

এজাহারে বাদী আরও উল্লেখ করেন তার পিতা মুক্তিযুদ্ধের সময় বালাট ক্যাম্পে ছিলেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের রিক্রুটিংয়ের কাজে দেশে এসে যুবকদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে উদ্বুদ্ধ করতেন। মামলার আসামিরা ৭১ সালে তাদের বাড়িঘর পুড়ে ছাই করে লুটপাটের অভিযোগ আনা হয়। এ ছাড়া কালিপুর গ্রামে আলতাব আলীর ৪টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ,ধর্ষণ সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ইউসুফ আল আজাদের ১০টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, লুটতরাজ কালিপুর গ্রামের ৫ জন মুক্তিযোদ্ধা যথাক্রমে সুলতান মিয়া, নুরুল মিয়া, সিকান্দর আলী, শফিকুল ইসলাম কলমদর, সুরুজ মিয়ার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, লুট, ধর্ষণ সদরকান্দি গ্রামের মৃত আব্দুল গফুর, কালিপুর গ্রামের আফু মিয়াকে তাদের সহযোগিতায় গুলি করে হত্যা, লম্বাবাক গ্রামের নাগর আলীকে গুলি করে হত্যা মফিজনগর গ্রামের নানু মিয়াকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ আনা হয়।

বিএনপি নেতা ও একটা সময়ে ধানের শীষের প্রার্থী হয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত ঝুনু মিয়া গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-১ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্ত হন। সর্বশেষ উপজেলা নির্বাচনেও তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন।

ব্রেকিং নিউজঃ