| |

শিক্ষক নেই, শিক্ষার্থীও নেই তবুও এমপিওভুক্তি!

আপডেটঃ ১২:৫৮ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ২৬, ২০১৯

Ad

সবজি ও ধানক্ষেত সংলগ্ন ফাঁকা মাঠে টিনসেডের কয়েকটি আধাপাকা ঘর কর্ম-দিবসেও মেলেনি কোন শিক্ষার্থী, তবে শিক্ষার্থী না থাকলেও ক্লাস রুমের সাথে বারান্দায় দেখা যায় বেশ কয়েকটি গরু বেধে রাখা। ফুলবাড়ী-ঢাকা মহাসড়কের পার্শ্বে স্থাপন করা হয়েছে কলেজের সাইনবোর্ড। নাম তার ফুলবাড়ী মহিলা বিএম কলেজ। নেই শিক্ষার্থী,নেই শিক্ষক, তবুও সেই কলেজের নাম রয়েছে সম্প্রতি ঘোষিত এমপিওভুক্তির তালিকায়। ঘটনাটি ফুলবাড়ী উপজেলার খয়েরবাড়ী ইউনিয়নে।

সরেজমিনে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায় ফুলবাড়ী মহিলা বিএম কলেজের কোন কার্যক্রম নেই এই এলাকায়। তবে দুবছর আগে একদিন পিকনিক খাওয়ার জন্য কিছু অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের ছাত্র/ছাত্রী আসে। এরপর থেকে কলেজের কোনো কার্যক্রম স্থানটিতে ছিল না বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয়রা। কাগজ কলমে পরিচালনা করা এ প্রতিষ্ঠানটি এমপিও ভুক্তি তালিকায় কিভাবে গেল তা নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য।

ফুলবাড়ী টেকনিক্যাল এন্ড বিএম ইনস্টিটিউট কলেজের অধ্যক্ষ সালাউদ্দিন এই কলেজটির নাম দিয়ে তার নিজ কলেজেই কার্যক্রম চালান বলে জানান এলাকাবাসী । মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, কলেজটির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি তিনি। আর কলেজটির অধ্যক্ষ তার শ্যালক রবিউল আউয়াল।

ফুলবাড়ী মহিলা বিএম কলেজের এমপিও এর বিষয়ে বর্তমানে সভাপতির দ্বায়িত্বে থাকা ফুলবাড়ী টেকনিক্যাল এন্ড বিএম ইনস্টিটিউট কলেজের অধ্যক্ষ সালাউদ্দিন জানান,২০১৪ সালে একাডেমিক স্বীকৃতির পর ফুলবাড়ী মহিলা বিএম কলেজটির কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে দুইটি ট্রেডে ১৭০ জন ছাত্রী ও ৩জন শিক্ষক রয়েছেন । চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ৩৯ জন শিক্ষার্থী এর মধ্যে পাশ করেছে ৩৫ জন। তবে কাগজে কলমে সব ঠিকঠাক থাকলেও প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম চলে ফুলবাড়ী শহরে স্থাপিত তার নিজ কলেজে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।

এদিকে এই প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্তির তালিকায় থাকা নিয়ে স্থানীয়রা বিস্ময় প্রকাশ করলেও দীর্ঘদিন থেকে এমপিও ভূক্তির অপেক্ষায় রয়েছে উপজেলার বঙ্গবন্ধু ডিগ্রী কলেজ, ফুলবাড়ী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, শালগ্রাম নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, চকসাহাবাজপুর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আমডুঙ্গি হাট ইমান উদ্দিন চৌধুরী আলিম মাদরাসা, লালপুর বালিকা দাখিল মাদরাসা, লক্ষিপুর স্কুল এন্ড কলেজ। এমপিও না হওয়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দীর্ঘদিন থেকে শিক্ষকতা করেও হতাশ হয়ে পড়েছেন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। এদের মধ্যে অনেক শিক্ষক রয়েছে যারা দীর্ঘ ২০ বছর চাকুরি করেও পাননি কোন সরকারী সুবিধা। কারো কারো আবার আগামী দুই-এক বছর পর অবসরে যাবার সময়ও ঘনে এসেছে।

এমপিও না পাওয়া ফুলবাড়ী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবুল হোসেন বলেন দীর্ঘ ২০ বছরের অধিক সময় থেকে শিক্ষকতা করেও এখন পর্যন্ত বেতন-ভাতার কিছুই পাননি ৯ম ও ১০ম শ্রেনীর শিক্ষকেরা। তাদের অনেকের চাকুরীর সময়সীমাও শেষ হয়ে আসছে। তিনি বলেন ফুলবাড়ী মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এ পর্যন্ত ১৭টি ব্যাচ এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে ওই শিক্ষার্থীরা ভাল ফলাফল করে এখন বিভিন্ন জায়গায় কর্মরত। আবার অনেক শিক্ষার্থী ভাল ফলাফল করে দেশের খ্যাতিমান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। কিন্তু যারা শিক্ষা দিয়েছে, তারা এখনো পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জিবন-যাপন করছে ।

তালিকায় দেখা যায় গত ২৩ অক্টোবর সারা দেশে ২হাজার ৭শত ৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সরকার এমপিও তালিকায় নিলেও সেখানে ফুলবাড়ী উপজেলার মাত্র একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ঠাঁই হয়েছে । এদিকে উপজেলার একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ফুলবাড়ী মহিলা বিএম কলেজকে এমপিও দেয়া হলেও, সেই প্রতিষ্ঠানটির এখন পর্যন্ত কোন কার্যক্রম শুরুই হয়নি,কাগজ-কলমে কলেজ থাকলেও তার কার্যক্রম চলে অন্য একটি কলেজে। যে কারনে এমপিও তালিকার পুঃন বিবেচনার দাবী তুলেছেন ভুক্তভুগী শিক্ষক-কর্মচারীগণ।

এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সমসের মন্ডল বলেন, এমপিওভুক্তির বিষয়ে আমাদের কোন ভূমিকা নেই,সচিব ও মন্ত্রীরা এসব কাজে জড়িত। উনারা কিভাবে এমপিওভুক্তির তালিকা দিয়েছেন সেটি উনারাই ভাল জানেন।শরীয়তপুর-চাঁদপুর মহাসড়কের ভেদরগঞ্জ এলাকায় জিএস পরিবহন নামে একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে বস্তাভর্তি প্রায় ৪০ কেজি মা ইলিশ আটক করেছে স্থানীয় জনগণ।

বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে ডিএমখালী ইউনিয়নের কাশিমপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ সময় ওই বাস ও স্টাফদের প্রায় ১ ঘণ্টা আটকে রাখে উত্তেজিত শত শত সাধারণ জনতা। আটককৃত মাছগুলো চাঁদপুর জেলার নরসিংহপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ গিয়াসউদ্দিন মাদারীপুর নেয়ার জন্য তুলে দেন বলে জানিয়েছেন বাসের সুপারভাইজার সোহেল মিয়া।

এদিকে ঘটনার পর পরই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে নৌ-পুলিশ চাঁদপুর জোন। শুক্রবার বিষয়টি তদন্তের জন্য ঘটনাস্থলে আসেন নৌ-পুলিশের এএসপি ইসমাইল হোসেন।

জিএস পরিবহনের সুপারভাইজার সোহেল মিয়া বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম থেকে খুলনার উদ্দেশে ছেড়ে আসে জিএস পরিবহনের বাসটি। বাসটি চাঁদপুর-শরীয়তপুর ফেরিঘাট পারাপারকালে ফেরীটি মেঘনা নদীর মাঝখানে আসলে স্পিডবোটযোগে এসে মাছগুলো মাদারীপুরে নেয়ার জন্য বাসে তুলে দেন নরসিংহপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ গিয়াসউদ্দিন। এ সময় সুপারভাইজার মাছ নিতে অপরাগতা জানালেও ইনচার্জ গিয়াসউদ্দিন জোরপূর্বক মাছ তুলে দেন বলে অভিযোগ করেন সোহেল।

গিয়াসউদ্দিনের বাড়ি মাদারীপুর জেলায়। এছাড়া নরসিংহপুরে যোগদানের পর থেকেই ইনচার্জ গিয়াসউদ্দিন মা ইলিশ রক্ষা অভিযানে বিভিন্ন অনিয়ম শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় মেম্বার শরফুদ্দিন ঢালী ও অন্যান্যরা বলেন, মা ইলিশ বহনকারী জিএস পরিবহনের বাসটি কাশিমপুর এলাকায় আসলে স্থানীয় জনগণ বাসটি গতিরোধ করে। এ সময় বাসের স্টাফরা জানায় মাছগুলো নরসিংহপুর পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার গিয়াসউদ্দিনের। পরে যাত্রীবাহী বাস হওয়ায় মাছগুলো এতিমখানায় বিতরণ করে বাসটি ছেড়ে দেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আব্দুস সামাদ।

ভেদরগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ বলেন, ডিএমখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের ফোন পেয়ে রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে মাছগুলো উদ্ধার করি। এ সময় বাসের লোকজন জানায়, মাছগুলো নরসিংহপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির কোনো এক সদস্যের।

তবে নরসিংহপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ গিয়াসউদ্দিন বলেন, মাছগুলো আমার না। অন্য কোনো ব্যক্তি বাঁচার জন্য হয়তো আমার নাম বলেছে। আমি মাছের বিষয়ে কিছুই জানি না।

এ বিষয়ে নৌ-পুলিশ চাঁদপুর জোনের পুলিশ সুপার জমশের আলী বলেন, বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ব্রেকিং নিউজঃ