| |

জামালপুরে মেলান্দহ গর্ভবতী মা ও শিশুর পুষ্টি কার্ডের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ইউপি সদস্য গ্রেপ্তার

আপডেটঃ 9:05 pm | October 26, 2019

Ad

মোঃ রিয়াজুর রহমান লাভলু ঃ জামালপুর মেলান্দহে উপজেলার চরবানিপাকুরিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ শফিকুল ইসলামকে গর্ভবতী মায়েদের যত্ন মাতৃসেবার পুষ্টি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে অবৈধভাবে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার করেন পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে তার বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার তাকে আদালতের মাধ্যমে জামালপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিশেষ প্রকল্প যত্ন মাতৃসেবা প্রকল্পের আওতায় হতদরিদ্র গর্ভবতী মা ও শূন্য থেকে পাঁচ বছরের শিশুদের পুষ্টি কার্ড দেওয়া হবে। ইউএনডিপির আর্থিক সহায়তায় প্রকল্পটিতে অর্থায়ন করবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর-এলজিইডি এবং বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক মাঠপর্যায়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় প্রতিটি ইউনিয়নে এই প্রকল্পের জন্য এক হাজার ৩৫১ জন উপকারভোগী গর্ভবতী মা ও শিশুর তালিকা তৈরির নির্দেশনা রয়েছে। সরকারি এই যত্ন মাতৃসেবা প্রকল্পের পুষ্টি কার্ডের জন্য উপকারভোগীদের তালিকা তৈরি করতে টাকা নেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। কিন্তু মেলান্দহ উপজেলার চরবানিপাকুরিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ শফিকুল ইসলাম সেই তালিকা তৈরি করতে গিয়ে হতদরিদ্র গর্ভবতী মায়েদের কাছ থেকে অবৈধভাবে পাঁচ হাজার থেকে সাত হাজার টাকা পর্যন্ত উৎকোচ নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠে। পুষ্টি কার্ডের জন্য টাকা দেওয়ার নিয়ম না থাকার বিষয়টি জানতে পেরে একই ইউনিয়নের ভাবকি গ্রামের প্রতিবন্ধী নরসুন্দর আব্দুল মান্নানের স্ত্রী রোকেয়া বেগম গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ইউপি সদস্য মোঃ শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে মেলান্দহ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে রাতেই ইউপি সদস্য মোঃ শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে মেলান্দহ থানায় একটি মামলা দায়ের হয়। ওই রাতেই ভাবকি গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার তাকে আদালতে হাজির করে জামালপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। চরবানিপাকুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ শাহাদাত হোসেন প্রকল্পটি প্রসঙ্গে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের যত্ন মাতৃসেবা প্রকল্পটি নিয়ে জামালপুর এলজিইডিতে একটি বৈঠক করেছি। এখনো উপকারভোগী গর্ভবতী মায়েদের তালিকা তৈরির কার্যক্রম মাঠপর্যায়ে শুরু করিনি। আমরা ফরম পাইনি। ফরম হাতে পেলে ইউনিয়নের এক হাজার ৩৫১ জন উপকারভোগীর তালিকা তৈরি করার জন্য এলাকায় মাইকিং করা হবে। আমি শুনেছি যে ইউপি সদস্য মোঃ শফিকুল ইসলাম তালিকায় নাম উঠানোর জন্য কারো কারো কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। যদি নিয়ে থাকেন তিনি কাজটি ঠিক করেননি। মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ রেজাউল ইসলাম খান বলেন, এটি একটি সরকারি প্রকল্প। তাই ভুক্তভোগী রোকেয়া বেগমের অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইউপি সদস্য মোঃ শফিকুল ইসলামকে বৃহস্পতিবার রাতেই গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে শুক্রবার সকালে আদালতের মাধ্যমে জামালপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ব্রেকিং নিউজঃ