| |

আমন্ত্রনপত্রে ভুল বুঝাবুঝি ও বির্তকের অবসানের জন্য পদায়নক্রম অনুসরন করা উচিত

আপডেটঃ ১০:৩৩ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ৩০, ২০১৯

Ad

প্রদীপ ভৌমিকঃ রাষ্টীয় অনুষ্ঠান ও আনুষ্ঠানিক কর্মকান্ডের ক্ষেত্রে আমন্ত্রনপত্রে পদমানক্রম সঠিকভাবে অনুসরন না করার ফলে অনেক সময় ভুল বুঝাবুঝি ও বির্তকের সৃষ্টি হয়। যারা আমন্ত্রনপত্রগুলি তৈরী করেন কোন কোন ক্ষেত্রে তাদের পদমানক্রম সম্বন্ধে পুরোপুরি জ্ঞান না থাকা এর জন্য দায়ী।

বাংলাদেশের অভ্যুদ্বয়ের পর ১৯৭২ সালের পর থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত সামান্য কিছু পরিবর্তন ও সংশোধন করে যে পদমানক্রমটি চালু করা হয়েছিল তা এখনো বহাল আছে।

সংসদীয় পদ্ধতির সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে ১৯৯১ সালের ডিসেম্বর মাসে পদমানক্রমে বড় ধরনের সংশোধন করা হয়েছিল। সরকারি এবং নির্বাচিত ব্যক্তিগণকে তাদের পদমর্যাদা অনুসারে প্রতিটি স্তরে এমনভাবে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে যা তাদের পদমান নির্দেশ করে।

সাধারনত প্রথমদিকে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পীকার ও প্রধান বিচারপতি ছাড়া প্রতিটি স্তরেই একাধিক অন্তর্ভূক্তি আছে। পদমানক্রমের ক্রমিক সংখ্যাগুলিকে স্তর বলা হয়ে থাকে।

পদমানক্রম স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে, প্রতি স্তরে বিভিন্ন কর্মকর্তার ভূক্তি কেবল তালিকাভূক্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। পদমানক্রম রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ও আনুষ্ঠানিক কর্মকান্ডের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে এবং দৈনন্দিন সরকার পরিচালনার কর্মকান্ডে প্রযোজ্য হবে না। সর্বশেষ জারিকৃত পদমানক্রমে ২৫টি স্তরের ক্রমিক অবস্থান নিম্নরূপঃ

১। প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি

২। প্রজাতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রী

৩। জাতীয় সংসদের স্পীকার

৪। বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতিবৃন্দ

৫। প্রজাতন্ত্রের মন্ত্রীবর্গ, প্রধান হুইপ, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার, সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা

৬। মন্ত্রীপরিষদের সদস্য না হলেও মন্ত্রীর পদমর্যাদাপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ, মন্ত্রী পরিষদের সদস্যবর্গ, ঢাকার মেয়র

৭। বাংলাদেশ নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ও কমনওয়েলথ ভোক্ত দেশসমূহের হাই কমিশনারবৃন্দ

৮। প্রজাতন্ত্রের প্রতিমন্ত্রীগন, সংসদে বিরোধী দলীয় উপনেতা, হুইপ, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, পরিকল্পনা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান, সুপ্রিম কোর্টের বিচারকগন (আপিল বিভাগ)

৯। প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদাপ্রাপ্ত ব্যক্তিগন, নির্বাচন কমিশনারগন, সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিগন

১০। প্রজাতন্ত্রের উপমন্ত্রীগণ

১১। উপমন্ত্রীর মর্যাদাপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ, বাংলাদেশে নিযুক্ত বিদেশী দূতবর্গ

১২। কেবিনেট সচিব, সরকারের মূখ্য সচিব, সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রধানগন

১৩। জাতীয় সংসদ সদস্যবর্গ

১৪। বাংলাদেশে নিযুক্তনন এমন সফররত বিদেশী রাষ্ট্রদূত ও হাই কমিশনারগন

১৫। এটর্নি জেনারেল, কম্পট্রোলার ও অডিটর জেনারেল, বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর, ন্যায়পাল

১৬। সরকারের সচিবগণ, সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল এবং নৌ ও বিমানবাহিনীর সম পদমর্যাদার অফিসারগন, পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান, বিশ্ববিদ্যালয় মুঞ্জরি কমিশনের চেয়ারম্যান

১৭। সচিব পদমর্যাদায় অধিষ্ঠিত সরকারী কর্মকর্তাবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের উপাচার্যগণ, জাতীয় অধ্যাপকগণ, জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগের মহাপরিচালক

১৮। পৌর কর্পোরেশনের মেয়রগন (স্ব-স্ব এলাকার)

১৯। সরকারের অতিরিক্ত সচিবগণ, বাংলাদেশে নিযুক্ত সাময়িক দায়িত্বপ্রাপ্ত বিদেশী রাষ্ট্রদূতগন, বাংলাদেশী রাষ্ট্রদূত ও হাই কমিশনারগণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেকশন গ্রেডের প্রফেসরগণ, রাষ্ট্রীয় কর্পোরেশন সমূহের চেয়ারম্যান, কমিশনের চেয়ারম্যান, দূর্নীতি দমন কমিশনের মহাপরিচালক

২০। অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার সরকারী কর্মকর্তাবৃন্দ, বাংলাদেশ বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্যগণ, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্যগন, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার

২১। সরকারের যুগ্ম সচিবগন, বিভাগীয় কমিশনারগন (স্ব-স্ব দায়িত্বের আওতায়), পুলিশের অতিরিক্ত ইন্সপেক্টর জেনারেল, চেয়ারম্যান রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), সেনাবাহিনীর বিগ্রেডিয়ার এবং নৌ ও বিমানবাহিনীর সমপদমর্যাদার অফিসারগণ, সার্ভেয়ার জেনারেল অফ বাংলাদেশ

২২। যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার সরকারী কর্মকর্তাগণ, বিভাগীয় কমিশনার (স্বীয় দায়িত্বের আওতা বহির্ভূত), পুলিশের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (স্ব-স্ব দােিয়ত্বর আওতায়), কারা মহাপরিদর্শক, সেনাবাহিনীতে পূর্ণ কর্ণেল পদে অধিষ্ঠিত অফিসার এবং সদস্যপদে অধিষ্ঠিত নৌ ও বিমানবাহিনীর অফিসারবৃন্দ

২৩। অতিরিক্ত কমিশনারগণ (স্ব-স্ব দােিয়ত্বর আওতায়) , পৌর কর্পোরেশনের মেয়রগণ (স্বীয় দায়িত্বের আওতা বহির্ভূত)

২৪। জেলা পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান (স্ব-স্ব দােিয়ত্বর আওতায়), ডেপুটি কমিশনারগণ (স্বীয় দায়িত্বের আওতায়), পুলিশের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (স্বীয় দায়িত্বের আওতা বহির্ভূত), জেলা ও দায়রা জজ (স্বীয় দায়িত্বের আওতায়), সেনাবাহিনীর ল্যাফটেনেন্ট কর্ণেল এবং নৌ ও বিমানবাহিনীর সমপর্যায়ের অফিসারগণ

২৫। সরকারের উপসচিবগণ, প্রথম শেণ্রীর পৌরসভার নির্বাচিত চেয়ারম্যান (স্বীয় দায়িত্বের আওতায়), উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান (স্বীয় দায়িত্বের আওতায়), সেনাবাহিনীর মেজর পদমর্যাদায় অফিসার এবং বিমানবাহিনীর সমপর্যায়ের অফিসারবৃন্দ। এখানে পদমানক্রম অনুসারে আমন্ত্রণপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ও তাদের আসনের অবস্থান সংক্ষিপ্ত আকারে বর্ণনা করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ময়মনসিংহে সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে আমন্ত্রনপত্রে পদমানক্রম অনুসরণ করা হচ্ছেনা বলে সূধী ও জনসাধারনের মাঝে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রীয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উদাহরনসরূপঃ জাতীয় যুব দিবস ২০১৯ ও জাতীয় সমবায় দিবস ২০১৯ উপলক্ষে আমন্ত্রন পত্র ২টিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে যাদের নাম অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে তা পদমানক্রম অনুসারে হয়েছে কিনা এব্যাপারে বিভ্রান্তি রয়েছে। আমন্ত্রন পত্র দুটিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে নি¤œলিখিত সম্মানিত ব্যক্তিবর্গের নাম নিম্নের নমুনা অনুযায়ী সংযুক্ত করা হয়েছে।

 

                              বিশেষ অতিথি    

    

জনাব খোন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান এনডিসি                                     জনাব ইকরামুল হক টিটু 

বিভাগীয় কমিশনার, ময়মনসিংহ                                                            মেয়র, ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন, ময়মনসিংহ

জনাব নিবাস চন্দ্র মাঝি                                                                          অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান

ডিআইজি, ময়মনসিংহ রেঞ্জ, ময়মনসিংহ                                               চেয়ারম্যান, জেলা পরিষদ, ময়মনসিংহ

জনাব মোঃ মিজানুর রহমান

জেলা প্রশাসক, ময়মনসিংহ

এক্ষেত্রে পদায়নক্রম অনুসারে বামপার্শ না ডানপার্শ থেকে মূল্যায়ন করা হবে তা অস্পষ্ট। যদি বামপার্শ থেকে মূল্যায়ন করা হয় তাহলে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র জনাব ইকরামুল হক টিটুর অবস্থান কোথায় হবে তা বোধগম্য নয়। যদি ডানপার্শ থেকেও পদায়নক্রমের স্তরের বিবেচনা করা হয় তাহলে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইউসুফ খান পাঠানের অবস্থান সঠিক জায়গায় হয়েছে বলে মনে হয়না। তাই অভিজ্ঞজনেরা মনে করেন অতি সুকৌশলে এই আমন্ত্রন পত্রটি মুদ্রন করা হয়েছে।

ঠিক তদ্রুপভাবে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আমন্ত্রপত্রটিও মুদ্রন করা হয়েছে। এ অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসার জন্য প্রয়োজন পদমানক্রম অনুসারে আমন্ত্রনপত্র মুদ্রুন করা। যা নিয়ে বিতর্ক ও ভুল বুঝাবুঝির অবকাশ আছে। এব্যাপারে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক ফারজানা পারভিনের সাথে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রসঙ্গটি এড়িয়ে গিয়ে বলেন আগামীকাল মিটিং আছে আপনি আসুন কথা হবে বলে ফোনটি রেখে দেন। এই লেখাটির পদমানক্রমের স্তরের বিন্যাস বাংলাদেশ জাতীয় জ্ঞানকোষ (বাংলা পিডিয়া) থেকে নেওয়া।

ব্রেকিং নিউজঃ