| |

মানব সভ্যতার ইতিহাসে বেদনাময় এক কলঙ্কিত দিন

আপডেটঃ ১১:২৬ অপরাহ্ণ | নভেম্বর ০২, ২০১৯

Ad

মোঃ মাহমুদুল হাসান সবুজ: লক্ষ লাশের যন্ত্রণায় বিদীর্ণ বুক নিয়েও যে সাফল্য অহরহ আমাদের গর্বিত করে রাখে , তা হলো আমাদের ‘স্বাধীনতা’ ।
একটি নিজস্ব পতাকা।
একটি পৃথক মাণচিত্র।
এবং আমাদের ভাষা আন্দোলনের সাফল্য। এই প্রাপ্তি বিশ্বসভায় আমাদের উজ্জ্বল এক অহংকারকে সমুন্নত করে রেখেছে। চিরকালই রাখবে।
আর সেই প্রাপ্তির পাশাপাশি যে লজ্জা চিরকাল ম্রিয়মাণ করে রাখবে , সে হলো জাতির জনক হত্যাকাণ্ড (১৫ আগস্ট ১৯৭৫) যারা স্বাধীনার বিজয় কে মেনে নিতে পারেনি তারাই জাতির জনক বিশ্ববন্ধুকে হত্যা করে।
আর সেই চূড়ান্ত লজ্জা-দুঃখ এবং লজ্জাজনক ঘটনার ধারাবাহিকতায় জেল হত্যাকাণ্ড ( ৩ নভেম্বর, ১৯৭৫) জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়েছিলো-
কারন হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা চিরতরে যেন বাঙালীর হৃদয় থেকে মুছেফেলা যায়।

৩ নভেম্বর, জেলহত্যা দিবস। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর মধ্যরাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের নিভৃত প্রকোষ্ঠে বন্দি অবস্থায় হত্যা করা হয় জাতীয় ৪ নেতাকে; শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, শহীদ ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী এবং শহীদ আবু হেনা মোহাম্মদ কামরুজ্জামান।
এঁরা কারা?
এই চার বঙ্গ সন্তানই বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তাঁরা যেমন ছিলেন নির্ভীক, তেমন সৎ, ঠিক তেমনই দুরদৃষ্টি সম্পন্ন। এই কলঙ্কিত হত্যাকান্ডই প্রমাণ করে যে, বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ড ছিল বাংলাদেশের বিরুদ্ধে একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।
কারন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীরা ঠিকই জানত, এই চারজন যদি বেঁচে থাকেন, তবে ঠিকই বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিতে পারবে, যেমন তাঁরা দিয়েছিল ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে।

মুক্তিযুদ্ধকালে মুজিবনগর সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে থেকে জাতীয় চার নেতা ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেছিলেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। ওই সরকারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমেদ, অর্থমন্ত্রী ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী, খাদ্য ও ত্রাণ মন্ত্রী এ এইচ এম কামারুজ্জামান।
শুধু মুক্তিযুদ্ধ নয়, সকল আন্দোলন-সংগ্রামে এই চার নেতা বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহযোদ্ধা হিসেবে বঙ্গবন্ধুর পাশে থেকেছেন। বিভিন্ন সময় বঙ্গবন্ধুকে যখন কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে তখন আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব দিয়ে এই চার নেতা আন্দলন-সংগ্রামকে এগিয়ে নিয়েছেন।

ঘাতক চক্রের লক্ষ্য ছিলো বাঙালিকে নেতৃত্ব শূন্য করে বাংলাদেশকে পুনরায় পাকিস্তানের পদানত করে মুক্তিযুদ্ধের পরাজয়ের প্রতিশোধ নেয়া। এ কারণে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানে আটক করে রাখার পর যে চার নেতা বঙ্গবন্ধুর হয়ে যোগ্য নেতৃত্ব দিয়ে বিজয় ছিনিয়ে আনেন সেই চার নেতাকেও বঙ্গবন্ধুর মতো নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

হত্যাকারীদের দিক থেকে এটি ছিল একটি সফল অভিযান। কারন, এই হত্যাকান্ডের মধ্যদিয়েই শুরু হয় বাংলাদেশে অন্ধকার যুগ।
যে যুগে, নিষিদ্ধ হয়ে যায় হত্যাকারীদের বিচার, রাজাকাররা হয়ে যায় “দেশ প্রেমিক”, নিষিদ্ধ হয়ে যায় বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ, সমঅধিকার, গণতন্ত্র, শোষিতের অধিকার, ইত্যাদি।
এর পর থেকেই তো শুরু হয় একের পর এক মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তা হত্যা। ফাঁসি দেওয়ারও সময় ছিল না, গুলি করে হত্যা করা হয় হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা সেনা।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিনত হয় মেধাশুন্য অস্ত্রবাজে, পাকিস্থান সেনাবাহিনীর ‘বি-টিম’ হিসাবে।
তারা দখল করে জনগণের ক্ষমতা।
যে দারোয়ানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, বাইরের গেট পাহারা দেওয়ার জন্য, তারা হয়ে যায় বাড়ির কর্তা!
১৫ বছরের এই অন্ধকার যুগে নষ্ট হয়ে যায় বাংলাদেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয় সহ সব প্রতিষ্ঠান।

তাই, মানব সভ্যতার ইতিহাসে বেদনাময় এক কলঙ্কিত দিন।
বাঙালি জাতিকে নেতৃত্ব শূন্য করতে ৩৬ বছর আগে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করেই ক্ষান্ত ছিল না, গুলিবিদ্ধ নিথর দেহকে বেয়নেট দিয়ে খুচিয়ে ক্ষত-বিক্ষত করে ’৭১-এর পরাজয়ের জ্বালা মিটিয়েছিল।
মুলত, তাঁরা নিজেরাই নিজেদের মৃত্যুদন্ডদিয়েছিল, মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়ে।

খুনিরা তোমরা জেনে রাখ, এই নৃশংস হত্যাকান্ডে আমারা মুচড়ে পরব না,
ভয় পাব না।
এই হত্যাকান্ড আমাদের আলোড়িত করে। এই হত্যাকান্ড আমাদের অনুপ্রানিত করে দেশের জন্য কাজ করতে, নি:শ্বার্থ ভাবে মানুষের উপকার করতে।
আমরা গর্বিত আমাদের পুর্বপুরুষদেরকে নিয়ে।

আজকের এই দিনে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নিকট প্রত্যাশা করি যেন জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তানদের কে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করেন এবং বিশ্ববন্ধুর সুযোগ্য তনয়া বিশ্বরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারের কাছে আকুল আবেদন রাখছি জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হারানোর দিনটি কে জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হউক।

লেখক মোঃ মাহমুদুল হাসান সবুজ-বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আনন্দ মোহন কলেজ শাখার একজন নিয়মিত কর্মী

ব্রেকিং নিউজঃ