| |

৭ নভেম্বর মুক্তিযোদ্ধা-সৈনিক হত্যা দিবস .

আপডেটঃ ৭:১৬ অপরাহ্ণ | নভেম্বর ০৭, ২০১৯

Ad

স্টাফ রিপোর্টার: তথাকথিত সিপাহী বিপ্লবের নামে ১৯৭৫ সালের এদিন থেকে শুরু হয় মুক্তিযোদ্ধা সেনা সদস্যদের হত্যার ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর জেলখানার অভ্যন্তরে ৩ নভেম্বর জাতীয় চার নেতাকে নির্মমভাবে হত্যা করে। এর মাত্র চারদিন পর ৭ই নভেম্বর থেকে শুরু হয় মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক হত্যাকান্ড।

৭৫ সালের এদিন তথাকতিত সিপাহী বিপ্লবের নামে প্রথমে হত্যা করা হয় তিন খ্যাতনামা মুক্তিযোদ্ধা খালেদ মোশাররফ বীরউত্তম, কে এন হুদা বীরউত্তম এবংএ টি এম হায়দার বীরবিক্রমকে। দশম বেঙ্গল রেজিমেন্ট সদর দপ্তরে সকালে তাদের কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করে দুজন কোম্পনি কমান্ডার আসাদ এবং জলিল। সাংবাদিক অ্যান্থনি ম্যাসকারেন হ্যাস এ ব্যাপারে তার গ্রন্থে লিখেছেন ‘এ ছাড়া এদিন উচ্ছৃংখল জওয়ানরা একজন মহিলা ডাক্তারসহ ১৩ জন সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করে। এমনকি একজন সেনা কর্মকর্তার স্ত্রীকেও এ সময় হত্যা করা হয়।’

লেখক গবেষক গোলাম মুরশিদ তার ‘মুক্তিযুদ্ধ ও তারপর’ গ্রন্থে লিখেছেন কর্নেল শাফায়াত জামিল বিদ্রোহের খবর পেয়েও থাকেন বঙ্গভবনে। যখন বিদ্রোহী সেনারা স্লোগান দিয়ে বঙ্গভবনের কাছাকাছি পৌছায় তখন সঙ্গীদের নিয়ে দেয়াল টপকে পালাতে গিয়ে পা ভেঙ্গে ধরা পড়ে। তার জায়গা হয় সামরিক হাসপাতালে। অবশ্য তিনি বেঁচে গিয়েছিলেন।

এর আগে ৬ নভেম্বর ভোর রাতে গৃহবন্দী জিয়াকে মুক্ত করতে যায় বঙ্গবন্ধুর খুনি ফারুকের ল্যান্সার বাহিনীর দল। বঙ্গবন্ধু, তাঁর পরিবার সদস্যদ হত্যার অন্যতম ঘাতক ল্যান্সার মহিউদ্দিন ছিলো এই দলের নেতৃত্বে। তারা জিয়াকে মুক্ত করে নিয়ে আসে কর্নেল রশিদের দুই নম্বর অ্যাটিলারি রেজিমেন্ট দপ্তরে। মুক্তি পেয়েই জিয়া সদ্য নিযুক্ত রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাদাত মো: সায়েমের অনুমতি ব্যতিরেকে বেতারে ভাষণ দিতে চলে যান। ’৭১-এর ২৭ মার্চের মতোই সংক্ষিপ্ত ঘোষণা দিয়ে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে নিজেকে দাবি করে।

পরবর্তী সময়ে গণভোট (হ্যাঁ-না), প্রেসিডেন্ট নির্বাচন, স্থানীয় পরিষদ এবং পার্লামেন্ট নির্বাচন দিয়ে জিয়া নিজেকে প্রেসিডেন্ট প্রতিষ্ঠিত করলেও তার আমলে ২০টির বেশী অভুত্থানে অসংখ্য সামরিক সদস্য নিহত হয়। গোলাম মুরশিদ বলেন, ফারুক-রশিদ গংদের শৃংখলা ভঙ্গকে ক্ষমার পর সেনা বাহিনীতে শৃংখলা ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করে। কিন্তু একটার পর একটা অভ্যুত্থান হয়। প্রতিটি অভ্যুত্থান পর বহু সেনা সদস্যকে তিনি ফাঁসিতে ঝোলায়। অনেককে বিনা বিচারে পাইকারি ভাবে হত্যা করে গণকবর দেয়। বিশেষ করে ’৭৭ সালের ২ অক্টোবর বিমান বাহিনীর অভ্যুত্থান পর শত শত লোককে হত্যা করে। ফলে এমন অবস্থা দাঁড়ায়, বিমান বাহিনীতে মাত্র ১১ জন কর্মকর্তা থাকে। তাদের মধ্যে বিমান চালাতে পারতো মাত্র তিন জন।’ মার্কাস ফ্র্যান্ডার মতে এই অভ্যুত্থানে আড়াই হাজার সেনা সদস্য নিহত হয়।

সর্বশেষ ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্রগ্রামে এক পূর্ণ সামরিক অভ্যুত্থানে স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর মেজর মঞ্জুরসহ ১১ জন সামরিক কর্মকর্তা যাদের মুক্তিযুদ্ধে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা ছিলো সাত্তার সরকার প্রহসনের বিচারে ফাঁসি দিয়ে ও গুলি করে তাদের হত্যা করে।

ব্রেকিং নিউজঃ