| |

স্মৃতির পাতায় তুমি অম্লান, প্রয়াত জননেতা আলতাফ হোসেন গোলন্দাজ স্বরন করি তোমাকে গভীর শ্রদ্বাভরে

আপডেটঃ 1:02 am | February 17, 2016

Ad

প্রদীপ ভৌমিক  :  ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) থেকে তিনবার নির্বাচিত সাবেক জাতীয় সংসদ সদস্য সকলের জনপ্রিয় নেতা মরহুম আলহাজ্ব আলতাফ হোসেন গোলন্দাজের আজ মৃত্যু বার্ষিকী। আমরা এই দিনে হারিয়েছি এমন একজন সাহসী রাজনৈতিক সৈনিককে যিনি কোন দিন মাথা নত করেন নাই আধিপত্যবাদ ও গোষ্টিতন্ত্রের কাছে। তিনি ছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্বে একজন নির্ভীক সুর্য সৈনিক। রাজনীতি কিংবা প্রশাসনিক সর্বক্ষেত্রেই অন্যায়ের বিরুদ্বে তিনি ছিলেন প্রতিবাদী কন্ঠস্বর। নিজ দল আওয়ামীলীগ কিংবা সামাজিক যেকোন ক্ষেত্রেই স্বৈরাচার, স্বেচ্ছাচার, কিংবা একনায়কতন্ত্রী যেকোন নেতা কিংবা ব্যাক্তির বিরুদ্বে নির্ভীক ভাবে প্রতিবাদ করেছেন যা আজও স্বরনীয় হয়ে আছে জনগনের মাঝে। এখনও নেতাকর্মীদের বলতে শোনা যায় আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে এই মুহুর্তে আর একজন আলতাফ হোসেন গোলন্দাজের দরকার যিনি স্বেচ্ছাচারী নেতাদের বিরুদ্বে নির্ভীক ভাবে প্রতিবাদ করতে পারেন। স্বার্থনেষী নেতাদের বিরুদ্বে প্রতিরোধ গড়ে তোলতে পারে। ৭৫ পরবর্তি সময়ে ময়মনসিংহ জেলা ও উনার নিজ এলাকা গফরগাঁয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের যে কজন নেতা জীবন বাজি রেখে লড়াই সংগ্রাম করে গেছেন তাদের মধ্যে আলতাফ হোসেন গোলন্দাজ ছিলেন অন্যতম। সেই সময়কার সময়ে ঢাকায় কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের যতগুলি সভা সমাবেশ হয়েছে আলতাফ হোসেন গোলন্দাজের নেত্বত্বে মিছিল হত সর্ববৃহৎ। শত বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে আলতাফ হোসেন গোলন্দাজ হাজার হাজার দলীয় নেতাকর্মী ও জনতাকে সাথে নিয়ে উপস্থিত হতেন সেই সমস্থ সমাবেশে। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে অনেক সময় বলতে শুনা গেছে আমার গোলন্দাজ বাহিনী এসে গেছে। প্রত্যক্ষদর্শিরা আজও সেই কথা গুলো স্বরন করেন। আজ ময়মনসিংহে অনেক সময় সমাবেশ মিছিল কিংবা জনসভায় যোগদান কারী রাজনৈতিক দলীয় অনেক মিছিল থেকে স্লোগান শোনা যায় “কিদেখাইল্যা…. ভাই ময়মনসিংহে জায়গা নাই। আমার যদি ভুল নাহয় এই স্লোগাটি প্রথম দিতে শোনেছি গফরগাঁও এর আলতাফ হোসেন গোলন্দাজের নেতৃত্বে জননেত্রী শেখ হাসিনার সার্কিট হাউজ মাঠে জনসভায় যোগ দিতে আসা নেতাকর্মীদের মিছিল থেকে। মিছিলটিতে এত বেশী নেতাকর্মী অংশ গ্রহন করেছিলোযে রেলওয়ে স্টেশনথেকে সার্কিট হাউজ মাঠ পর্যন্ত বিস্তীৃতি ছিলো। সেদিন তিল ধারনের জায়গা ছিলোনা ময়মনসিংহ শহরের রাজপথ। ঠায় দাড়িয়ে থেকে নেতাকর্মীরা স্লোগান দিয়েছিল “কি দেখাইল্যা আলতাফ ভাই ময়মনসিংহে জায়গা নাই”। এই কথাগুলি এই জন্য লিখলাম যে তিনি কত বড় সাংগঠনিক মাপের নেতা ছিলেন যার নেতৃত্বে হাজার হাজার নেতা কর্মী গফরগাঁও থেকে ঢাকা কিংবা ময়মনসিংহ থেকে যোগ দিত যা আজ পর্যন্ত অন্য কারও ক্ষেত্রে সম্ভব হয়নি। আজকের দিনে যেমন বাসট্রাক বন্ধ থাকলে বোঝা যায় হরতাল হচ্ছে সেই সময়ে ট্রেন বন্ধ থাকলে বোঝা যেত হরতাল চলছে। আমরা তখন দেখতাম ঢাকা থেকে ট্রেন ছেড়ে আসলেও মশাখালি কিংবা গফরগাঁও স্টেশনে এসে ট্রেন আটকে যেত আর এব্যাপারে যিনি স্বশরীরে রেল লাইনের উপরে দাড়িয়ে ট্রেন আটকে দিতেন তিনি আমাদের প্রিয় গোলন্দাজ ভাই।
গোলন্দাজ ভাইকে আমরা দেখেছি আওয়ামীলীগের জেলা কমিটির মিটিংয়ে যেকোন অন্যায় স্বিদ্বান্তের বিরুদ্বে নির্ভীক একজন নেতা হিসাবে প্রতিবাদ করতে আজকের এই দিনে অনেক নেতা অন্যায় ও অনিয়মতান্ত্রিক স্বিদ্বান্ত জেনেও প্রতিবাদ করেন না। গোলন্দাজ ভাই ছিলেন তার ব্যাতিক্রম। আমরা তখনকার সময় যারা ছাত্রলীগ, যুবলীগের সাথে যুক্ত ছিলাম সাংগঠনিক কারনে যদি গফরগাঁও যেতে হত তাহলে আমাদের খাওয়া, আশ্রয় স্থল ও নিরাপত্তার ব্যাবস্থা করতেন আমাদের প্রিয় নেতা আলতাফ ভাই। আমরা যারা এখনও রাজনিতীর সাথে যুক্ত আছি তারা অনুভব করি আর একজন গোলন্দাজ ভাইয়ের প্রয়োজনীয়তা।
গোলন্দাজ ভাই ছিলেন একজন নির্ভীক ন্যায়পরায়ন, সৎ ও কর্মীবান্ধব একজন নেতা। উনার কাছের লোকও কোন অন্যায় করলে তিনি সবকিছুর  উর্দ্বে উঠে ন্যায় বিচার করতে পিছ পা হতেন না। তাই তিনি ছিলেন গফরগাঁও এর জনগনের কাছে সর্বজন শ্রদ্বেয় একজন রাজনৈতিক নেতা। ধনী গরীব নির্বিশেষে সবাই তাকে প্রান দিয়ে ভালোবাসতেন যার নজীর পাওয়া যায় উনার জানাযায় লক্ষ লক্ষ শোকার্ত মানুষের উপস্থিতির মধ্য দিয়ে।
যেকোন রাজনৈতিক আন্দোলনের সময় প্রতিপক্ষের প্রথম আঘাত আসত উনার উপর। উনি অত্যান্ত সাহসিকতার সহিত নির্ভয়ে তা মোকাবেলা করতেন উনি জীবনে বহুবার রাজনৈতিক কারনে কারা বরন করেছেন। আমার জন্মস্থান ও আলতাফ হোসেন গোলন্দাজ ভাইয়ের জন্মস্থানের দুরুত্ব ছিলো ৫ মাইল। আমি কৈশোর থেকেই আলতাফ ভাইকে চিনতাম। সেই সময় উনার সাথে অনেক রাজনৈতিক কর্মসূচীতে এক সাথে অংশ গ্রহন করেছি। উনি আমাদেরকে ভালোবাসতেন গভীর ভাবে। সেই সময় থেকেই দেখেছি উনার মত নির্ভীক তরুন খুব কমছিল আমাদের এলাকায়। ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) থেকে তিনবার নির্বাচিত সাবেক জাতীয় সংসদ সদস্য সকলের জনপ্রিয় নেতা মরহুম আলহাজ্ব আলতাফ হোসেন গোলন্দাজ ভাইয়ের সমন্দে আরও অনেক কথা লিখার ছিল যা পরবর্তিতে এক সময় লিখার আশা রাখি। আজ শুধু অন্য সবার মত অমিও বলতে চাই আমাদের আলতাফ হোসেন গোলন্দাজ ভাইয়ের মত আর একজন নির্ভীক স্পষ্ঠবাদী সৎ নিষ্ঠাবান নেতার ভীষন প্রয়োজন।

13675_342060862667843_     1596013557240346065_n
উল্লেক্ষ, ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) থেকে তিনবার নির্বাচিত সাবেক জাতীয় সংসদ সদস্য সকলের জনপ্রিয় নেতা মরহুম আলহাজ্ব আলতাফ হোসেন গোলন্দাজের আজ (১৭ ফেবয়ারি) ৯বম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০০৭ সনের ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি ঢাকায় ইন্তেকাল করেন। মরহুম আলতাফ গোলন্দাজ গফরগাঁও উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সনের মধ্যে তিন বার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী থেকে তিনি বিপুল ভোটে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। মরহুমের দ্বিতীয় ছেলে ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ফাহমী গোলন্দাজ বাবেল। মরহুম গফরগাঁও উপজেলা সদরের আলতাফ গোলন্দাজ ডিগ্রী কলেজের প্রতিষ্ঠাতা। উনার যোগ্য উত্তরসূরী উনার ছেলে ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য ফাহমি গোলন্দাজের কাছে আমাদের প্রত্যাশা উনি যেন উনার পিতার মত যোগ্য একজন নেতা হিসাবে গড়ে উঠেন। এবং উনার পিতার অসমাপ্ত রাজনৈতিক ও এলাকার উন্নয়নের কাজ গুলি সম্পন্য করেন।

ব্রেকিং নিউজঃ