| |

বীর মুক্তিযোদ্ধা কালামের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার না করা হলে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রত্যাখানসহ আমরন অনশন কর্মসূচির ঘোষনা

আপডেটঃ ৮:৫৪ অপরাহ্ণ | নভেম্বর ১৭, ২০১৯

Ad

স্টাফ রিপোর্টারঃ গত ১৩/১১/১৯ইং তারিখে ত্রিশাল উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি ময়মনসিংহ জেলার নাগরিক আন্দোলন ও ময়মনসিংহ বিভাগ বাস্তবায়ন কমিটির সাধারন সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নুরুল আমিন কালামের বিরুদ্ধে ত্রিশাল থানা পুলিশ কর্তৃক মিথ্যা মারামারি মামলায় চার্জশীট প্রদান করা উপলক্ষে বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্বারক লিপি প্রদান করে ত্রিশাল উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধারা। স্মারকলিপিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার নুরুল আমিন কালামের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা না হলে ত্রিশাল উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধারা কোন প্রকার রাষ্ট্রীয় মর্যাদা গ্রহন করবেনা বলে জানায়। ইঞ্জিনিয়ার নুরুল আমিন কালামের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দ্রুত প্রত্যাহার ও আরজি উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচিত সদস্যদের দ্বারা কমিটি গঠন করে শিক্ষার সুষ্ঠ পরিবেশ বজায় রাখতে উপজেলা নির্বাহি অফিসারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্বারকলিপিটি প্রদান করে। স্বারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয় ইঞ্জিনিয়ার নুরুল আমিন কালাম তার বাড়ি সংলগ্ন আরজি উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনে তার সমর্থিত প্যানেলে সব সদস্য অর্থাৎ ৫ জন অভিভাবক সদস্য ও ৩ জন শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে পরাজিত শক্তি ঈর্ষাবশত এহেন মিথ্যা মামলা দায়ের করে। শুধু তাই নয় গত ২৫/০৭/১৯ ইং তারিখে ত্রিশাল মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে সভাপতি নির্বাচনের সভায় তার প্রতিপক্ষরা স্থানীয় গোন্ডাপান্ডা বাহিনি দ্বারা অস্ত্রসস্ত্রসহ আক্রমন করে সভা পন্ড করে দেয়। বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভহিত করা হয়। তার পরেও একটি মিথ্যা মামলায় ইঞ্জিনিয়ার নুরুল আমিন কালামকে আসামী হিসেবে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে ত্রিশাল থানা পুলিশ বিনা তদন্তে ব্যক্তি বিশেষের প্ররোচনায়। এ সময় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের ডেপুটি কমান্ডার আব্দুল মান্নান, উপজেলা আঃলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক বর্তমান আঃলীগের সম্মেলন প্রস্ততি কমিটির সদস্য সচিব হামিদুর রহমান, সাবেক কমান্ডার মুজাহিদ খান ভোলা, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম মুমেনসহ অর্ধশতাধিক স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাগন উপস্থিত ছিলেন। স্কুল ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনকে ঘিরে চলতি বছরের ৬ মে হরিরামপুর ইউনিয়নের সাউদ কান্দা গ্রামের আরজি উচ্চ বিদ্যালয়ের কমিটি গঠন কেন্দ্র করে মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার নুরুল আমিন কালামের প্যানেলের সাথে প্রতিপক্ষ গ্রুপের এক পর্যায়ে কথা কাটাকাটি হয় যা পরবর্তিতে সংঘর্ষে রূপ নেয়। ঘটনার দিন ইঞ্জিনিয়ার নুরুল আমিন কালাম ঘটনাস্থল থেকে ৩০ কিমি দূরে ময়মনসিংহ শহরের যুবলীঘাটস্থ জেলা নাগরিক আন্দোলনের কার্যালয়ে কার্যকরি পরিষদের এক জরুরী সভায় উপস্থিত ছিলেন। অথচ তাকে আসামী করে ত্রিশাল থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মারামারির ঘটনাটি যখন ঘটে তখন বিকাল ৫ টার সময় নুরুল আমিন কালাম জেলা নাগরিক আন্দোলন অফিসে সভা পরিচালনা করছিল। এখানে উল্লেখ থাকে যে, প্রতিপক্ষের এজাহারে বিকাল ৫টার সময় নুরুল আমিন কালাম জনৈক ব্যক্তিকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে বলে অভিযোগ করা হয়। কিন্তু কোন ব্যক্তির পক্ষে ৩০ মাইল দূরে কিভাবে লাঠি দিয়ে আঘাত করা সম্ভব হলো তা বোধগম্য নয়। যেহেতু ঘটনাটি ঘটার সময় ইঞ্জিনিয়ার নুরুল আমিন কালাম ঘটনাস্থল থেকে ৩০ মাইল দূরে জেলা নাগরিক অফিসে সভা পরিচালনা করছিলেন এতেই প্রমানিত হয় যে ইঞ্জিনিয়ার নুরুল আমিন কালামকে আসামী হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করা মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রনদিত। পরবর্তীতে ত্রিশাল থানা পুলিশ কতিপয় ব্যক্তির যোগসাযুসে ২২মে কোন তদন্ত ছাড়ায় চার্জশীটে বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার নুরুল আমিন কালামকে আসামী হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করে অভিযোগ পত্র বিচারের জন্য জমা দেয়। এ প্রসঙ্গে যারা ঘটনার দিন জেলা নাগরিক অফিসে যারা উপস্থিত ছিলেন তারা আশ্চর্যান্নিত হয়ে যায়। উক্ত নাগরিক আন্দোলনের সভায় সভাপতিত্ব করছিলেন জেলা আঃলীগের যুগ্ম সম্পাদক কাজি আজাদ জাহান শামিম। আরও উপস্থিত ছিলেন পরউআর সাধারন সম্পাদক এড. শিব্বির আহমেদ লিটন, প্রফেসার এম এ বারি, মোঃ জাহাঙ্গির হোসেন, ড. সিরাজুল ইসলাম, দৈনিক কালের কন্ঠের সাংবাদিক ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব সদস্য নিয়ামুল কবির সজল, দৈনিক আলোকিত ময়মনসিংহ টোয়েন্টিফোর ডট কমের সম্পাদক ও দৈনিক শ^াশত বাংলার নির্বাহি সম্পাদক বাবু প্রদীপ ভৌমিক, দৈনিক আমাদের সময়ের সাংবাদিক নজরুল ইসলামসহ একাধিক রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংবাদিকবৃন্দসহ নাগরিক আন্দোলনের কার্যকরি কমিটির সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন যারা এই ঘটনাটিকে উদ্দেশ্য প্রনদিত বলে আখ্যায়িত করেছেন। এমন একটি মিথ্যা ঘটনার সাথে বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার নুরুল আমিন কালামকে অন্তর্ভূক্ত করায় ত্রিশাল থানা পুলিশের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্বারকলিপি প্রদানকালে মুক্তিযোদ্ধারা এই ঘোষনা দেন যে, ইঞ্জিনিয়ার নুরুল আমিন কালামকে মিথ্যা মামলা হতে অব্যাহতি প্রদান না করা পর্যন্ত ত্রিশাল থানার মুক্তিযোদ্ধারা মৃত্যুর পর কোন প্রকার রাষ্ট্রীয় মর্যাদা গ্রহন করবে না। এ ব্যাপারে মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার নুরুল আমিন কালাম বলেন, আমি আমার এলাকার আরজি উচ্চ বিদ্যালয়ের নির্বাচিত সভাপতি হওয়ার পর স্থানীয় সন্ত্রাসী বাহিনীর ভয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে প্রবেশ করতে পারিনি। পরবর্তীতে ঘটনাস্থল থেকে ৩০ কিমি দূরে থাকার পরেও লাঠি দিয়ে আঘাত করার মত অপরাধে আমাকে মিথ্যা মামলায় পুলিশ তদন্ত না করেই ব্যক্তি বিশেষের ইচ্ছা অনুযায়ী চার্জশীটভুক্ত আসামী করেছে। আমি এর সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে চার্জশীট প্রদানকারী ত্রিশাল থানার পুলিশ কর্মকর্তা ও ব্যক্তি বিশেষের বিচার দাবি করছি। তিনি আরও বলেন তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর না করলে ত্রিশাল থানা মুক্তিযোদ্ধারা বৃহৎ আন্দোলন গড়ে তুলবে। পাশাপাশি কোন রাষ্ট্রীয় মর্যাদা গ্রহন করবেনা বলে তিনি জানান। ইঞ্জিনিয়ার নুরুল আমিন কালাম ও ত্রিশাল উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধারা আরও ঘোষনা করেন যে, আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে যদি দাবি পূরন করা না হয় ও মিথ্যা মামলা দায়েরকারী ব্যক্তিবর্গ এবং চার্জশীট প্রদানকারী পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা না হয় তাহলে ময়মনসিংহ মুক্ত দিবস থেকে ত্রিশাল উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধারা ও ইঞ্জিনিয়ার নূরুল আমিন কালাম আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করবে।

ব্রেকিং নিউজঃ