| |

জামালপুরে গৃহবধূকে গণ ধর্ষণের পর স্বামীকে হত্যা

আপডেটঃ ১২:১৫ অপরাহ্ণ | নভেম্বর ২০, ২০১৯

Ad

মোঃ রিয়াজুর রহমান লাভলু ঃ জামালপুর সদর উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের রামকৃষ্ণ পুর গ্রামে নিজবাড়িতে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে এক গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, ধর্ষণের পর গাছের সঙ্গে হাত-পা বেঁধে পাশবিক নির্যাতন ও গৃহবধূর স্বামী খলিলুর রহমান (৩৫) কে হত্যার পর গলায় রশি পেচিয়ে বাড়ির পাশে কাঁঠাল গাছে ঝুলিয়ে রাখে ধর্ষকরা। শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) রাতে এ ঘটনা ঘটে।

পরদিন শনিবার সকালে ধর্ষিতার স্বামীর লাশ উদ্ধার ও ধর্ষক ছানুর বাড়ি থেকে গাছে বেঁধে রাখা অবস্থায় ধর্ষিতাকে উদ্ধার করে সদর থানা পুলিশ। এদিকে, স্বামীর ময়নাতদন্তের পর লাশের সঙ্গে ধর্ষিতাকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেয় পুলিশ।

পুলিশের কাছে ঘটনা খুলে বললেও ধর্ষণ ও হত্যা মামলা নেয়নি। প্রভাবশালী চেয়ারম্যান ও পুলিশ হত্যার ঘটনা আত্মহত্যার প্রচার চালিয়ে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করে ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ করেছে ধর্ষিতা ও তার পরিবার।

স্থানীয় প্রভাবশালী চেয়ারম্যান আজিজুল হক (ফনি) ও ধর্ষকরা ধর্ষিতার পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রাখে। সোমবার রাতে পালিয়ে এসে জামালপুর প্রেসক্লাবে আশ্রয় নেয় ধর্ষিতা ও তার পরিবার। সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূকে নিয়ে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। কর্তব্যরত ডাক্তার হাসানুল বারী শিশির জানায়, প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে। মেডিকেল পরীক্ষার পর রিপোর্ট আসলে নিশ্চিত করে বলা যাবে।

দায়িত্বরত এসআই গুলজার হোসেনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ভিকটিম ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনা আমাকে জানিয়েছে। আমি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। তারা ব্যবস্থা না নিলে আমার কি করার আছে। ঘটনার পরদিন সকালে জামালপুর সদর থানার ওসি (তদন্ত) রাশেদুল ইসলা্মের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, দুই বউয়ের যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে খলিলুর রহমান আত্মহত্যা করেছে।

সোমবার রাতে বক্তব্যটি নিয়ে ফের প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, তাৎক্ষণিক বক্তব্যটি দিয়েছিলাম। ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ হাসপাতালের বেডে কান্নারত কণ্ঠে বলেন, শুক্রবার রাত ৮টার দিকে প্রকৃতির ডাকে ঘর থেকে বাইরে বের হলে প্রতিবেশী ছানোয়ার হোসেন (ছানু) শাওন ও রফিজ উদ্দিন প্রথমে গামছা দিয়ে আমার মুখ বেধে ফেলে তার পর আমাকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায়।

পরে আমাকে ছানু্র বাড়ির পেছনে একটি জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ এবং গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করে। এরপর ওই গৃহবধূকে ছানু্র বাড়িতে আটকে রেখে তার স্বামী খলিলুর রহমানকে ডেকে এনে মারধর করে হত্যার পর তার লাশ বাড়ির পাশে একটি গাছে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। পরদিন সকালে পুলিশ গিয়ে তার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায় এবং একটি অপমৃত্যু মামলা করে।

গৃহবধূকে ধর্ষণ ও গাছের সঙ্গে বেঁধে পাশবিক নির্যাতনের ঘটনা ফাঁস হয়ে গেলে তোলপাড় শুরু হয়ে যায়। পরে সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে মামলা নেয় পুলিশ। গৃহবধূ নিজে বাদী হয়ে জামালপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করে। মামলা দায়েরের পর রাতেই সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেমুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশের একটিদল অভিযান চালিয়ে ধর্ষক শাউনকে গ্রেফতার করেন।

জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সালেমুজ্জামান জানান, আমার কাছে অভিযোগ নিয়ে কেউ আসেনি। পুলিশের দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ সঠিক নয়। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ৩ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। তিনি আরো বলেন ঐই রাতেই এক জনকে গ্রেফতার করা হয়।

ব্রেকিং নিউজঃ