| |

আওয়ামীলীগে শুদ্ধি অভিযান ও করণীয়

আপডেটঃ 9:32 pm | November 24, 2019

Ad

প্রদীপ ভৌমিকঃ বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার দূর্নীতি বিরোধী শুদ্ধি অভিযান দেশ বিদেশে প্রশংসিত হচ্ছে। এবারের এই দূর্নীতি বিরোধী অভিযানের ভালো দিকটি হলো শেখ হাসিনা অভিযানটি নিজ দল আঃলীগ ও সরকারের প্রশাসনের মাঝের দূর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে শুরু করেছেন প্রথম। দূর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ, তদবীরবাজ, দলবাজ, কমিটিবাজ ও অনুপ্রবেশকারী বিতর্কিত নেতাকর্মীদের হাত থেকে দলকে মুক্ত করার জন্য তিনি এই শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন।

ক্লিন ইমেজের নেতাকর্মীদের দলীয় কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত ও নেতৃত্বে আসীন করার তার এই অভিপ্রায়ে এতদিনের বঞ্চিত, নিপিড়িত, ত্যাগী আওয়ামীলীগ ও তার অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের কর্মী সমর্থকদের মাঝে আশার আঁলো জাগিয়েছে। শুধু নেতাকর্মী নয় সাধারন দলীয় সমর্থক ও জনগনের মাঝেও দেখা দিয়েছে আস্থা। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সাংগঠনিক কমিটি গুলিতে অনুপ্রবেশকারী, আদর্শবিহীন, অসৎ, স্বার্থবাজ ও স্বজনপ্রীতির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য আওয়ামীলীগ নেত্রী কঠিন চ্যালেঞ্জ গ্রহন করেছেন।

এ চ্যালেঞ্জে তিনি জয়ী হতে পারলে আওয়ামীলীগ তার অতীত ঐতিহ্য ফিরে পাবে পরিনত হবে জনপ্রত্যাশার একটি আদর্শিক গণমুখী রাজনৈতিক সংগঠনে। বিতর্কিত স্বাধীনতা বিরোধী, দূর্নীতিবাজদের আওয়ামীলীগের কোন স্তরের কমিটিতে জায়গা দেওয়া হবেনা বলে ঘোষনা করেছেন দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

উনার এই ঘোষনায় রাজনৈতিক সচেতন মহলে শুরু হয়েছে নতুন হিসাব নিকাশ। আঃলীগের পাশাপাশি অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলি যদি আঃলীগে প্রদর্শিত পথে না এগোয় তাহলে তারা হারিয়ে যাবে জনসমর্থন থেকে। আঃলীগ যদি তাদের নেত্রীর নির্দেশিত পথে সফল হয় তবে দলটির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাবে দলনেত্রী শেখ হাসিনা হবে জনগনের আস্থার ঠিকানা। তৃণমূলে বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে ত্যাগী, আদর্শবান নেতৃত্বের প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে কতটুকু সফল হয় দলটি তার অপেক্ষায় আছে জনগন।

এর জন্য প্রয়োজন সততা ও নিষ্ঠার সহিত ব্যাপক অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা। অন্যথায় শুদ্ধি অভিযানটি ব্যর্থ হতে পারে। আঃলীগ ও তার অঙ্গসহযোগী সংগঠন সমূহে সম্মেলনে ক্লিন ইমেজের নেতাদের মূল্যায়ন করার প্রচেষ্ঠা চলছে কিন্তু তার পরেও কোন কোন ক্ষেত্রে কেন্দ্র, জেলা, উপজেলা থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়ে নেতৃত্বে বিতর্কিতরা স্থান পেয়ে গেছে। জাতীয় শ্রমিকলীগে ১জন ও ঢাকা স্বেচ্ছাসেবকলীগের নেতৃত্বে ২জন বিতর্কিত নেতা স্থান পাওয়ায় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় সৃষ্টি হয়েছে।

একজন বঙ্গবন্ধুর খুনি ফারুকের অনুমোদিত কমিটিতে তার শ্যালকের সহযোগী অন্যজন দখলবাজ হিসেবে চিহ্নিত কক্সবাজারে যুদ্ধঅপরাধী জামাত নেতা গোলাম আজমের বডিগার্ড বলে চিহ্নিত একজন আওয়ামীলীগে যোগদানের ৭ দিনের মাথায় ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছে। এ ব্যাপার গুলিতে দলীয় নেতৃত্ব অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে।

তবে স্বেচ্ছাসেবকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারন সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু একজন স্বজ্জন, সৎ ও ক্লিন ইমেজের নেতা হিসেবে প্রশংসিত। কেন্দ্র থেকে তৃণমূলে যে রাজনৈতিক সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে তারা সহজে সিন্ডিকেটের বাইরে রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ও রাজনৈতিক নির্ভর বাণিজ্যের স¤্রাজ্যে পতন ঘটাতে দিবেনা।

এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে সভানেত্রীর প্রত্যক্ষ ভূমিকা থাকতে হবে। আঃলীগের অভ্যন্তরে বিতর্কিত নেতাদের হাত ধরে স্বাধীনতা বিরোধী, দূর্নীতিবাজ, বিতর্কিত নেতারা দলের বিভিন্ন পর্যায়ে জায়গা করে নিয়েছে। এদের দল ও আদর্শ বিরোধী কর্মকান্ডের ফল ভোগ করতে হচ্ছে স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতৃত্ব দানকারী দল আওয়ামীলীগের। শেখ হাসিনা তাই দূর্নীতিবাজদের বিরোদ্ধে আঃলীগকে বাচাঁতে আপোষহীন ভাবে নিজ দল থেকে সর্বস্তরে শুরু করেছেন শুদ্ধি অভিযান। তিনি মনে করেন দলে দূর্নীতিবাজ, পদ ও কমিটি বাণিজ্যের সাথে যুক্ত বিতর্কিত নেতাদের দল থেকে অপসারিত করে ত্যাগী, আদর্শিক ক্লিন ইমেজের নেতাকর্মীদের পূর্নবাসিত করতে হবে। এক্ষেত্রে পরিচ্ছন্ন ক্লিন ইমেজের নেতা ও সংগঠকদের খোঁজে বের করে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত করতে পারলেই আওয়ামীলীগ তার আদর্শিক ঐতিহ্যে পুনরুদ্ধার করা সম্ভব।

যে সমস্ত মন্ত্রী, এমপি ও দলীয় নেতাকর্মী দূর্নীতির মাধ্যমে অঢেল অর্থের মালিক হয়েছে তাদের সংগঠনের সর্বস্তর থেকে অপসারিত করে ৭৫ এর পর থেকে যারা দলের দুঃসময়ে ভূমিকা রেখেছে তাদের সাংগঠনিক পর্যায়ের সর্বস্তরে পূর্নবাসিত করতে হবে। তাহলেই আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের আস্থা অর্জন করে সাংগঠনিক সফলতা অর্জন করতে পারবে। শুধু আঃলীগে নয় অপরাপর রাজনৈতিক দলগুলিও যদি এ ধারা বাস্তবায়ন করতে পারে তাহলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আসবে।

কোন এমপি, মন্ত্রী, জেলা, উপজেলা ও তৃণমূল পর্যায়ে আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক কমিটিগুলিতে সভাপতি/সাধারন সম্পাদক পদে থাকতে পারবেনা। আওয়ামীলীগের এ স্বীধান্তটিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা একটি সময় উপযোগী স্বীধান্ত বলে অভিনন্দন জানিয়েছেন। বিতর্কিতদের আঃলীগ থেকে বিদায় ও আদর্শবানদের প্রতিষ্ঠিত করা এখন দলটির জন্য প্রধান কর্তব্য। এই কাজটি যদি দলীয় নেতৃত্ব সঠিকভাবে করতে পারে তাহলে আওয়ামীলীগ নেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল সমৃদ্ধিশালী জনকল্যানমূলক রাষ্ট্রে পরিণত হবে অন্যথায় নয়।

ব্রেকিং নিউজঃ