| |

মফস্বল থেকে প্রকাশিত পত্রিকাগুলিকে বাঁচাতে প্রয়োজন বাস্তবভিত্তিক নীতিমালা

আপডেটঃ 1:38 am | November 26, 2019

Ad

প্রদীপ ভৌমিকঃ ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে জেলা উপজেলা পর্যায়ের সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতা। কি পরিস্থিতিতে এহেন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে তা খতিয়ে দেখা দরকার। রাজধানী ঢাকার বাইরে থেকে প্রকাশিত ও প্রচারিত সংবাদপত্র গুলো আজ সংকটময় সময় অতিক্রান্ত করছে। তার মধ্যে প্রধান সংকট হলো অর্থনৈতিক। কাগজের দাম, ছাপা খরচ, হকারদের বেতন, কর্মচারী ও সাংবাদিকদের বেতন ভাতা এবং হাত খরচের যে টাকা ব্যায় হয় তার তিন ভাগের এক ভাগ টাকাও উঠে আসেনা সংবাদপত্র বিক্রির মাধ্যমে। বিশেষ কোন খবর প্রকাশিত না হলে ২/১ জন বাদে সাধারনত মফস্বল শহরের পাঠকরা অর্থের বিনিময়ে পত্রিকা কিনে পাঠ করেন না। বিভিন্ন সরকারি অফিস, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অফিসগুলিতে বিনা পয়সায় সৌজন্য কপি প্রদান করা হয়। সৌজন্য কপি দেওয়া হয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও রাজনৈতিক নেতাদের। ডি,এপ,পি প্রাপ্ত নয় যে সমস্ত পত্রিকা তারা কোন সরকারি আধা-সরকারি সংস্থার বিজ্ঞাপন পায় না। উপরন্ত রাষ্ট্রীয় বিশেষ দিন কিংবা বিশেষ কোন ব্যক্তির জন্ম,মৃত্যু বার্ষিকীতে ক্রোড়পত্র মুদ্রন করতে হয় তথ্যমন্ত্রনালয়ের নির্দেশে যার বিনিময়ে সরকারি বিজ্ঞাপনের অনুমতি না পাওয়া সংবাদপত্রগুলির কোন অর্থপ্রাপ্তি নেই। পত্রিকার কার্যালয় ভাড়া, কর্মরত শ্রমিক ও কম্পিউটার অপরেটরদের বেতন যোগাতে হয় নিয়মিত পত্রিকার কর্তপক্ষকে। সংবাদ সংগ্রহসহ আনুসাঙ্গিক খরচ যোগান দিতে হয় প্রকাশক, সম্পাদকদের। সাংবাদিকদের পারিশ্রমিকসহ অপরাপর খরচের ব্যায়ভার গ্রহন করতে হয়। আয়ের চাইতে ব্যায় বেশি হওয়ায় মফস্বল শহর থেকে প্রকাশিত দৈনিক, সাপ্তাহিক পত্রিকাগুলি কোন কোন ক্ষেত্রে অনিয়মিতভাবে প্রকাশিত হয়। এমনকি আর্থিক দৈন্যতার জন্য অনেকসময় পত্রিকাগুলিকে সাময়িক বন্ধ রাখতে হয়। খুব অল্পসংখ্যক পত্রিকা যেগুলি সরকারি, আধা সরকারি বিজ্ঞাপন প্রাপ্তির ব্যাপারে অনুমোদিত সেই পত্রিকাগুলি বাদে বাকি পত্রিকাগুলি প্রকাশনার ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতার বজায় থাকে না। দ্বিতীয়ত আর একটি চ্যালেঞ্জ এসেছে প্রযুক্তির কাছ থেকে। ডিজিটাল প্রযুক্তির অভ্যূতপূর্ব প্রসারের ফলে প্রিন্ট সংবাদপত্রগুলির পাঠক কমে যাচ্ছে। খবর ও মতামতের জন্য পাঠকরা এখন প্রিন্ট সংবাদপত্রের উপর আর নির্ভরশীল নয়। তারা অনলাইন পত্রিকা, গুগল ও ফেইসবুকের উপর নির্ভরশীল হয়ে পরেছে। প্রিন্ট সংবাদপত্র গুলির জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় কিন্তু ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে যে সমস্ত খবর প্রকাশিত হয় তা ঘটনা ঘটার সাথে সাথেই পাঠকরা পেয়ে যায়। এই জন্য প্রিন্ট সংবাদপত্রের উপর নির্ভর না করে পাঠকরা ডিজিটাল পদ্ধতির উপর নির্ভরশীল হয়ে পরছে। জেলা উপজেলা থেকে প্রকাশিত সংবাদপত্রগুলির বিজ্ঞাপনের পরিমান তাই দিনে দিনে শূন্যের কোঠায় নেমে যাচ্ছে। যার ফলশ্রæতিতে অর্থনৈতিকভাবে দৈন্যদশায় পরছে মফস্বলের সংবাদপত্রগুলি। ছাপা সংবাদপত্র গুলির পাঠক এখন নি¤œমুখী। অনলাইন পত্রিকাগুলির পাঠক দিনে দিনে বাড়ছে। তাই বিজ্ঞাপনগুলিও অনলাইনমুখী হতে চলছে। রাজধানী ঢাকা থেকে প্রকাশিত কতিপয় স্বনামধন্য দৈনিক পত্রিকা ছাড়া আর বাকিদের বিজ্ঞাপন থেকে আয় শুন্যের কোঠায়। এমতবস্থায় মফস্বল থেকে প্রকাশিত পত্রিকাগুলিকে বাচাঁতে প্রয়োজন বাস্তবভিত্তিক নীতিমালা। বেসরকারি ও সরকারি এবং স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলির বিজ্ঞাপন সমতার ভিত্তিতে স্ব স্ব জেলা ও উপজেলা থেকে প্রকাশিত পত্রিকাসমূহে প্রদান করতে হবে। যাতে করে প্রকাশিত পত্রিকাসমূহের আয় বৃদ্ধি পায় এবং মৃত প্রায় সংবাদপত্র শিল্প সমূহ বেঁচে থাকার পথ খুঁজে পায়।

ব্রেকিং নিউজঃ