| |

ময়মনসিংহ জেলা আঃলীগের উপজেলা সমূহের সম্মেলন ও নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা

আপডেটঃ ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ | নভেম্বর ২৮, ২০১৯

Ad

প্রদীপ ভৌমিকঃ ময়মনসিংহ জেলা আঃলীগ ভালুকা, ত্রিশাল, ফুলবাড়িয়া সদর, গৌরিপুর, ঈশ্বরগঞ্জ ও নান্দাইল উপজেলায় সম্মেলনের নির্দেশ দিয়েছে। উক্ত সম্মেলনে বিভিন্ন উপজেলায় আঃলীগের কমিটিগুলিতে পদ প্রত্যাশীরা বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামে-গঞ্জে ছুটে বেড়াচ্ছেন তৃণমূল নেতাকর্মীদের সমর্থন লাভের আশায়।

উপজেলাগুলির সর্বত্র সৃষ্টি হয়েছে উৎসাহ ও উদ্দিপনার। প্রায় প্রতিদিন উপজেলা পর্যায়ের পদ প্রত্যাশীরা জেলা আঃলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ করে চলছে এবং দোয়া প্রার্থনা করছে। ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় আঃলীগের নির্দেশে ময়মনসিংহ জেলা আঃলীগ প্রত্যেক উপজেলায় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করে দিয়েছে।

উপজেলা পর্যায়ে ব্যাপক সাংগঠনিক তৎপরতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। দলে যারা ত্যাগী, পরীক্ষিত এবং দীর্ঘদিন ধরে অনাদরে অবহেলায় সুবিধাবাদী ও অনুপ্রবেশকারীদের ভিড়ে কোনঠাসা হয়ে পরেছিলেন তারাও সক্রিয় হয়েছেন স্থানীয় পর্যায়ে। ত্যাগী নেতাকর্মীদের এই সক্রিয়তার মূল কারন আঃলীগ নেত্রী শেখ হাসিনার শুদ্ধি অভিযান। আঃলীগে বহিরাগতদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, দূর্নীতিবাজ, কমিটি বাণিজ্যকারীদের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার কঠোর অবস্থান, নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে আশার আলো জাগিয়েছে। ওবায়দুল কাদেরের ভাষায় তৃনমূল হলো আঃলীগের মূল শক্তি।

তারা যেন দলীয় কর্মকান্ডে ভূমিকা রাখতে পারে সেজন্য নেত্রী শেখ হাসিনা দলের ত্যাগী, পরিক্ষীতদের সামনে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মীরা যাতে তৃণমূল থেকে শুরু করে জেলা উপজেলা, ইউনিয়ন ও তৃণমূলের কমিটিগুলিতে গনতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ত্যাগী নেতাকর্মীদের নিয়ে কাউন্সিলের মাধ্যমে অধিকাংশের মতামতের ভিত্তিতে কমিটিগুলিতে স্থান করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আঃলীগ প্রধান শেখ হাসিনা।

যারা দলের ভিতরে থেকে অপকর্ম করেছে বলে অভিযোগ আছে দূর্নীতি, সন্ত্রাস, জমিদখলের মত অভিযোগে অভিযুক্ত তারা যেন দলের নেতৃত্বে আসতে না পারে সে ব্যাপারে লক্ষ্য রাখার জন্য নির্দেশ রয়েছে দলটির হাই কমান্ডের। যুদ্ধঅপরাধ ও যুদ্ধঅপরাধী পরিবারের সাথে সম্পৃক্ত, বিএনপি, জামাত ও ফ্রিডম পার্টি থেকে কেউ যেন দলে অনুপ্রবেশ করতে না পারে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন দলীয় সভানেত্রী।

দলনেত্রী শেখ হাসিনা একাধিকবার ঘোষনা করেছেন দলের নেতা নির্বাচিত হবে গনতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে। সেই লক্ষে ময়মনসিংহ জেলা আঃলীগ সম্মেলনের জন্য ঘোষিত উপজেলাগুলিতে কাজ করে যাচ্ছে। জেলা আঃলীগের অপরাপর নেতৃবৃন্দও ঘোষিত উপজেলার সম্মেলনগুলি সম্পন্ন করার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন ময়মনসিংহ জেলা আঃলীগের সভাপতি এড. জহিরুল হক খোকা ও সাধারন সম্পাদক এড. মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুলের নেতৃত্বে।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে সম্মেলন করার মত সাংগঠনিক পর্যায়ে এখনো পৌছতে পারেনি উপজেলা সম্মেলনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃবৃন্দ। উপজেলাগুলিতে বিভিন্ন ইউনিয়নের কমিটিসমূহ এবং কাউন্সিলার তালিকা এখনো প্রস্তুত হয়নি বলে জানা যায়। তাই কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশ মোতাবেক গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ভোটের মাধ্যমে কমিটিগুলি গঠন করা সম্ভব নাও হতে পারে। আঃলীগের কর্মী সমর্থকদের মাঝে এই কথাটি চালু আছে যে, কাউন্সিলের মাধ্যমে নেতা নির্বাচন হবেনা।

এক্ষেত্রে প্রথম অধিবেশনে নেতাদের বক্তৃতার পর জেলা ও কেন্দ্রের নেতারা উপজেলার কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া জেলা ও কেন্দ্র থেকে সম্পন্ন করা হবে। রাজনৈতিক অভিজ্ঞজনেরা মনে করেন এই প্রক্রিয়ায় নেতা নির্বাচিত হলে জেলা কিংবা কেন্দ্রের নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে নেতিবাচক ধারনার সৃষ্টি হতে পারে। যেমনিভাবে অতীতে বিভিন্ন কমিটিগুলি নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ময়মনসিংহ জেলা আঃলীগের কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন সম্মেলনের জন্য নির্ধারিত উপজেলাগুলি সাংগঠনিক নিয়মে সম্মেলন করার মত অবস্থায় নেই।

ইতিমধ্যে অভিযোগের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় আঃলীগের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশে গৌরিপুর উপজেলার সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। মন্ত্রী, এমপিদের প্রভাবমুক্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ রয়েছে দলীয় প্রধানের। কিন্তু ইতিমধ্যে বিভিন্ন উপজেলা সম্মেলনকে কেন্দ্র করে মন্ত্রী, এমপিরা জেলা থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় কমিটি পর্যন্ত প্রভাব বিস্তারের অপচেষ্ঠা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে সংশ্লিষ্ট উপজেলা সমূহের নেতাকর্মীরা।

জেলা আঃলীগের সাধারন সম্পাদক এড. মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুলকে টেলিফোনে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ময়মনসিংহ জেলার কোন উপজেলায় সম্মেলনে অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে তিনি নিরপেক্ষভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন। গৌরিপুর উপজেলার সম্মেলন স্থগিত করার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন কেন্দ্রীয় আঃলীগের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশে সম্মেলনটি স্থগিত করা হয়েছে। এড. মোয়াজ্জেম আরও বলেন জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশিত পথে উপজেলাসমূহের সম্মেলন ও কমিটি গঠন করা হবে। এ ব্যাপারে কোন ছাড় দেওয়া হবেনা। ময়মনসিংহ জেলার উপজেলাসমূহের ত্যাগী নেতাকর্মী ও সমর্থকরা মনে করেন শেখ হাসিনার নির্দেশিত পথ ধরে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সততা ও নিষ্ঠারসহিত সম্মেলনসমূহ ময়মনসিংহ জেলা আঃলীগ সম্পন্ন করবে বলে প্রত্যাশা করে।

ব্রেকিং নিউজঃ