| |

চালকদের ডোপ টেস্ট হবে, মাদকাসক্তি প্রমাণিত হলে লাইসেন্স বাতিল

আপডেটঃ ১০:২৭ অপরাহ্ণ | নভেম্বর ৩০, ২০১৯

Ad

মোটরযানের চালকদের মাদকাসক্তি নিরূপণে নিয়মিত ডোপ টেস্ট করার পরিকল্পনা করছে সরকার। প্রাথমিকভাবে চালকদের লাইসেন্স প্রদান ও পরবর্তী সময়ে নবায়নের সময়ে বাধ্যতামূলকভাবে ডোপ টেস্ট করানোর মধ্য দিয়ে এ পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করা হবে। এতে কোনো চালকের মাদকাসক্তি প্রমাণ হলে লাইসেন্স বাতিলসহ তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। সড়ক পরিবহন বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্র এ খবর জানিয়েছে।

গণপরিবহনের চালকদের বড় একটি অংশ মাদকাসক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে, যার প্রতিফলন দেখা গেছে সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায়ও। বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের এমনই এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে ভারী মোটরযানের চালকদের প্রায় ৬৯ শতাংশই মাদকাসক্ত। অন্যদিকে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বলছে, প্রতি বছর দেশে যত সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে, তার ৩০ শতাংশের জন্য দায়ী চালকের মাদকাসক্তি। চালকদের এ মাদকাসক্তি কমাতে এখন পর্যন্ত নানা উদ্যোগ নিয়েও বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। এ অবস্থায় চালকদের নিয়মিত ডোপ টেস্টের পরিকল্পনা করছে সরকার।

বর্তমানে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান ও নবায়নের সময় চালকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে থাকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। তবে চালকদের ডোপ টেস্ট বা মাদকাসক্তি নিরূপণের কোনো ব্যবস্থা বিআরটিএতে নেই। পরিকল্পনা করা হচ্ছে, প্রথমে লাইসেন্স দেয়ার সময় ও পরবর্তী সময়ে সেটি নবায়নের সময় বাধ্যতামূলকভাবে চালকের ডোপ টেস্ট করা হবে। এতে কোনো চালকের মাদকাসক্তি প্রমাণিত হলে তার লাইসেন্স বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ারও পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে বিআরটিএর পরিচালক (রোড সেফটি) শেখ মোহাম্মদ মাহবুব-ই-রব্বানি বলেন, চালকদের মাদকাসক্তির বিষয়টি কঠোরভাবে নজরদারির পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এটা যেমন ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু বা নবায়নের সময় করা হবে, তেমনি মাঠ পর্যায়েও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা হবে। পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে সচেতনতা কার্যক্রমেও জোর দেয়া হবে।
পরিবহন চালকদের মাদকাসক্তি প্রতিরোধে দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘অ্যালকোহল ডিটেক্টর’ নামের একটি যন্ত্র ব্যবহার শুরু করেছে হাইওয়ে পুলিশ। চালক অ্যালকোহল জাতীয় কোনো মাদক গ্রহণ করে গাড়ি চালালে তা তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করে থাকে যন্ত্রটি। চালকদের মাদকাসক্তি প্রতিরোধে যন্ত্রটি বেশ কার্যকর বলে দাবি করছেন হাইওয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা।

অন্যদিকে পরিবহন চালক ও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মাদকাসক্ত চালকদের একটা বড় অংশ ইয়াবায় আসক্ত, যা অ্যালকোহল ডিটেক্টরে শনাক্ত করা সম্ভব নয়। নতুন সড়ক পরিবহন আইনে মাদকাসক্ত অবস্থায় গাড়ি চালানোর শাস্তি ও জরিমানা বাড়ানো হয়েছে। এতে কর্তৃপক্ষকে মদ্যপ চালকের লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিলের ক্ষমতা দেয়ার পাশাপাশি সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও তিন মাস কারাদ- কিংবা উভয় দ-ে দ-িত করার বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে বিধান রাখা হয়েছে চালকের লাইসেন্সের বিপরীতে এক পয়েন্ট কেটে রাখারও। যদিও বাংলাদেশে চালকদের মাদকাসক্তি নিয়ে আইনের প্রয়োগ তেমন হয় না বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
মাদকাসক্ত চালকদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন বিআরটিএর চেয়ারম্যান ড. কামরুল আহসান। তিনি বলেন, মাদকাসক্তি আমাদের পরিবহন চালকদের একটা বড় সমস্যা। অনেক দুর্ঘটনার জন্যও দায়ী মাদকাসক্ত চালক। তবে শুধু কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করে এর সমাধান হবে না। মাদক নিয়ে গাড়ি চালানো যে ঝুঁকিপূর্ণ, সে সম্পর্কে চালকদের সচেতন করাও জরুরি। তাদের মধ্যে পেশাদারি মনোভাব তৈরি করাও প্রয়োজন। বিআরটিএ এসব বিষয় নিয়ে কাজ করছে।

এদিকে মাদকাসক্ত চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। গত সেপ্টেম্বরে সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েতুল্লাহ জানিয়েছিলেন, ১ ডিসেম্বর থেকে বিআরটিএর সহযোগিতায় ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে চালকদের ডোপ টেস্ট করা হবে। পরীক্ষায় মাদকের নমুনা পাওয়া গেলে চালককে সঙ্গে সঙ্গে জেলে নেয়া হবে বলে ওই সময় জানিয়েছিলেন তিনি। যদিও গতকাল তিনি বণিক বার্তাকে বলেছেন, সড়ক আইন নিয়ে বর্তমানে পরিবহন শ্রমিকরা বেশ ক্ষুব্ধ। কয়েকদিন আগেই তারা ধর্মঘটও করেছে আইনটি সংশোধনের দাবিতে। এমন পরিপ্রেক্ষিতে আমরা ডোপ টেস্ট শুরু করতে গেলে পরিস্থিতি আরো অশান্ত হয়ে উঠতে পারে। তাই আমার মনে হচ্ছে, আপাতত এ রকম কিছু করা উচিত হবে না। অনুলিখন : ওয়ালি উল্লাহ, সম্পাদনা : সালেহ্ বিপ্লব

ব্রেকিং নিউজঃ