| |

বিজয়ের মাসের ডাক

আপডেটঃ ১১:২১ অপরাহ্ণ | ডিসেম্বর ০১, ২০১৯

Ad

প্রদীপ ভৌমিকঃ ইতিহাসের চির অ¤øান দীর্ঘ লড়াই সংগ্রাম ও আত্বত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের মহান বিজয়। মহান বিজয় দিবসে সুবর্ন জয়ন্তীর মুখোমুখী দাড়িয়ে আমরা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্বরণ করছি ৩০ লক্ষ শহীদের আত্বদান এবং সেই বীর সেনানীদের যাদের রক্তে রঞ্জিত লাল সবুজের অর্জিত আমাদের জাতীয় পতাকা। আমরা গভীর শ্রদ্ধার সাথে সে সকল বীর মুক্তিযেদ্ধাদের স্বরণ করছি। সেই সাথে স্বরণ করছি স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার উষালগ্নে জঘন্য বর্বরতা ও নির্মমতার শিকার আমাদের চেতনার বাতিঘর বরণ্যে বুদ্ধিজীবি, শিক্ষাবীদ, সাংবাদিক, চিকৎসকসহ অকুতভয় কলম সৈনিকদের। যারা লেখনির মাধ্যমে আমাদের পথ দেখিয়ে গেছেন মহান মুক্তির। আমরা আরও স্বরণ করছি বাংলাদেশের কৃষক, শ্রমিক, ছাত্রজনতাকে যারা বুকের রক্ত ঢেলে দিয়ে এদেশ কে স্বাধীন করেছে পাকিস্তানের কবল থেকে। আমরা শ্রদ্ধাকরি সেই সমস্ত মা, বোনদের যাদের ঈজ্জ্বতের বিনিময়ে আমাদের আজকের এই স্বাধীনতা। আমরা আজকের এই শুভক্ষণে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্বরণ করছি যে মহান নেতার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাঙ্গালী জাতি স্বাধীকার আদায়ের লড়াইয়ে ঝাপিয়ে পরেছিল সেই মহান নেতা স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। আজ বিজয় গৌরবের দিক বিশ্লেষণ করলে আমরা শিহরিত হই। বিশ্বের কাছে বাঙ্গালী সাহসী ও বীরের জাতি হিসেবে নন্দিত। মূলত সাম্প্রদায়িকতাবাদ ও ধর্মান্ধতার ভিত্তিতে কোন দেশ বা জাতি টিকে থাকতে পারেনা। বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাস তা প্রমাণ করে। এতসব অর্জনের পরেও আজকের প্রেক্ষাপটে দূর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য আমরা হারাতে বসেছি আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সাংস্কৃতিক ও মহান মুক্তিযোদ্ধের মূলভিত্তি, শোষন, বঞ্চনা, বৈষম্যমুক্ত সমাজ বিনির্মানের দৃঢ়তা ও আকাঙ্খা। সময়ের ব্যাবধানে জাতির পিতার স্বপরিবারে নিহত হওয়ার মধ্য দিয়ে ষড়যন্ত্র, সন্ত্রাসবাদ, মাফিয়াচক্র ও দেশি বিদেশি দালাল চক্রের কবলে পরে সমাজ রাষ্ট্রে সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী ও লুটেরাদের তান্ডবে আমরা হাবুডুবু খাচ্ছি। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সারা দেশের মানুষ মাফিয়া বেষ্টিত বাজার দখল চক্র, সন্ত্রাসবাদ, শোষণ, বৈষম্যের কবলে পরে নিষ্পেষিত। আইন শৃঙ্খলাসহ সমাজের সকল স্তরে এদের দৌড়ত্ব ও প্রভাব বিস্তৃত। দেশের অর্থনীতির উন্নয়নের ধারা প্রবাহিত থাকলেও মোটাদাগে গরিব মেহনতি সাধারন মানুষ সব ধরনের বৈষমের শিকার হয়ে দিশেহারা। এমতাবস্থায় মোনাফাখুর, ষড়যন্ত্রকারীরা রাষ্ট্রনীতিমালাকে তোয়াক্কা না করে বাজার ব্যবস্থাকে করায়ত্ব করার চেষ্ঠা করছে। আইনের প্রায়গিকের দূর্বলতার সুযোগে সমাজে মাদক বানিজ্যের বিস্তার, প্রান্তিক জনগোষ্ঠির উপর বৈষম্য, বিশেষ করে সংখ্যালঘু আদিবাসী, নারী শিশুদের উপর নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে চলেছে। অন্যদিকে বেকারত্ব, শিক্ষাব্যবস্থার বাণিজ্যকরণ, নিয়োগ বাণিজ্য, মানবপাচার, অর্থপাচার, দূর্বৃত্ত¡ায়নসহ জীবন ধারনের সংকট অসহনীয় মাত্রায় বেড়ে চলেছে। এমতাবস্থায় মুক্তিযোদ্ধ ও বিজয়ের প্রকৃত চেতনায় দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও সংহতিকে এগিয়ে নিতে দলমত নির্বিশেষে জনমানুষের যথাযথ অংশগ্রহন জরুরী। মহান মুক্তিযোদ্ধের বিজয়কে সুসংহত রাখতে মুক্তিযোদ্ধের চেতনায় অধিষ্ঠিত সরকারি দলের পাশাপাশি বিরোধী দলেও গঠনমূলক একটি শক্তিশালী গনতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তির সমাবেশ আজ বড় প্রয়োজন। সময়ের দাবির প্রয়োজনে বিজয়ের এই মাসে আসুন আমরা সম্মিলিতভাবে আওয়াজ তুলি সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গীবাদ, লুটেরা মাফিয়াচক্রের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। সমাজের সর্বক্ষেত্রে গনতন্ত্র, সততা, নিষ্ঠা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। দূর্নীতিবাজ, কালো টাকার মালিক, মুনাফাখুর, গটফাদারদের আইনের আওতায় এনে দ্রæত বিচার করতে হবে। নারী, শিশু, সংখ্যালঘু,আদিবাসী নিপীড়ন বন্ধ করতে হবে। আইনের শাষন ও স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা নিশ্চিত করতে হবে। শ্রমিক, কৃষকের স্বার্থসংশ্লিষ্ট, শিল্পবান্ধব নীতিমালা নিশ্চিত করতে হবে। সুখী সম্মৃদ্ধ ও উন্নয়নের শিখরে পৌছতে হলে উল্লেখিত দাবিগুলি বাস্তবায়ন অবশ্যই প্রয়োজন।
জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু

ব্রেকিং নিউজঃ