| |

ত্রিশাল উপজেলার ৪নং কানিহারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উজ্জ্বলের সাংবাদিক সম্মেলন।

আপডেটঃ 9:45 pm | December 03, 2019

Ad

স্টাফ রিপোর্টারঃ গত ৩/১২/১৯ইং তারিখে ত্রিশাল উপজেলাধীন ৪নং কানিহারী ইউনিয়নের নির্বাচিত চেয়ারম্যান আশরাফ আলী উজ্জ¦ল ত্রিশাল উপজেলা আঃলীগ কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন। উক্ত সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ত্রিশাল উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মতিন সরকার, আঃলীগ নেতা ফজলে রাব্বি, ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের সদস্য উজ্জ্বল সরকার, আঃলীগ নেতা নবী নেওয়াজ, শোভা আকন্দ, আশরাফুল ইসলাম, ত্রিশাল উপজেলা যুবলীগের সভাপতি/সাধারন সম্পাদক, ছাত্রলীগ, শ্রমিকলীগ, কৃষকলীগসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী। সংবাদ সম্মেলনে ৪নং কানিহারী ইউনিয়নের ১০জন সদস্যের মধ্যে ৭জন উপস্থিত ছিলেন। তারা হলেন, ৪/৫/৬ নং ওয়ার্ডের নাজমা আক্তার, ৭/৮/৯ নং ওয়ার্ডের রীনা বেগম, ৭ নং ওয়ার্ডের আবুল কাসেম, ৯নং ওয়ার্ডের মোস্তফা কামাল, ২নং ওয়ার্ডের আশরাফুল আলম নাসির, ১/২/৩ নং ওয়ার্ডের ফাতেমা খাতুন, ১নং ওয়ার্ডের শাহজাহান খান, ইউনিয়ন সদস্য খোকন সরকার, তার পরিবারের একজন অসুস্থ্য হয়ে পরায় উপস্থিত হতে পারেননি বলে জানিয়েছেন। উল্লেখ থাকে যে, সর্বমোট ১০জন ইউনিয়ন সদস্যের মধ্যে মোট ৭জন স্বশরীরে সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। কানিহারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান উজ্জ্বল সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন ২ ডিসেম্বর ২০১৯ইং তারিখে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে তার বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, ক্ষমতার অপব্যবহার, দূর্নীতি ও সরকারি অর্থ আত্ত¡স্বাৎসহ কতিপয় মিথ্যা বানোয়াট কাল্পনিক উদ্দেশ্য প্রনোদিত অভিযোগ এনে ময়মনসিংহ জেলা প্রেসক্লাবে একটি সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে যা কিছু সংখ্যক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে। উক্ত সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থাপিত ও পঠিত প্রতিবেদনটি উনার হস্তগত হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে এই প্রতিবেদনটি পাঠ করেন জনৈক আনোয়ার হোসেন ইকবাল। যে ব্যাক্তিটি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নয় বলে জানিয়েছেন চেয়ারম্যান উজ্জ্বল। আনোয়ার হোসেন ইকবাল বিএনপির একজন সক্রিয় সদস্য এবং স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের সমর্থক ও মদদপুষ্ট। কথিত সাংবাদিক সম্মেলনের প্রতিবেদনে ৮জন ইউপি সদস্য উপস্থিত ছিলেন না বলে জানান চেয়ারম্যান উজ্জ্বল। তার ডান ও বামে যারা বসাছিলেন তারা কোন বক্তব্য পেশ করেননি। চেয়ারম্যান উজ্জ্বল বলেন, উনার বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলি আনা হয়েছে তার কোনটাই সুনির্দিষ্ট নয় শুধুমাত্র অনুমান নির্ভর। তিনি উল্লেখ করেন সাংবাদিক সম্মেলনে বলা হয়েছে জন্মনিবন্ধন ফি বাবদ আমি লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছি। অথচ এই লক্ষ্যে আদায়কৃত ফি লিপিবদ্ধকরে ট্রেজারী চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে। ১% তহবিলের ২০-২৫ লক্ষ টাকা শুধু অনুমান নির্ভর নয় অতিরঞ্জিতও বটে। ইউপি সদস্যদের অনুমোদনক্রমে রেজুলেশনের মাধ্যমে প্রকল্প প্রনয়ন ও বাস্তবায়ন করা হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে তাই করা হয়েছে। প্রতিমাসে ইউনিয়ন পরিষদের মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। যদি কোন সদস্য সভায় অনুপস্থিত থাকে অথবা অনুপস্থিত জনিত কারণে কোরাম সংকট দেখা না দেয় তাহলে মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হয়। সদস্যদের স্বাক্ষর জালের অভিযোগটি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এল.জি.এস.পি – ৩ প্রকল্পের টাকার পরিমানটিও কাল্পনিক। এই প্রকল্পের আওতায় প্রণিত প্রকল্প ঠিকাদারের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়ে থাকে। প্রকল্প ব্যায়ের অর্থ ক্রস চ্যাকের মাধ্যমে ঠিকাদারকে ডিডিএলজি মহোদ্বয়ের মনোনিত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা/ ডিএফ কর্তৃক প্রকল্প পরিদর্শন শেষে প্রতিবেদন পেশের পর প্রদান করা হয়ে থাকে। কানিয়ারী ইউনিয়নে কোন খোয়ারের অস্তিত্ব নেই বিদ্বায় খোয়ার ইজারা দেওয়ার প্রশ্নই উঠেনা। তাই এই অভিযোগটি অসত্য ও ভিত্তিহীন। ইউনিয়ন পরিষদের আদায়কৃত হল্ডিং টেক্স বাবদ ও ট্রেড লাইসেন্সবাবদ যে অর্থ আদায় করা হয়েছে তার হিসাব যথাযথভাবে সংরক্ষিত আছে। ইউনিয়ন পরিষদের আয় অত্যন্ত সীমিত যার কারণে সদস্যদের বেতন বকেয়া রয়েছে। এক্ষেত্রে ৭ লক্ষ টাকা কিভাবে আত্বসাৎ করা সম্ভব তা বোধগম্য নয়। টিআর/কাবিখা/অতিদরিদ্রদের জন্য ৪০ দিনের কর্মসূচির প্রকল্প চেয়ারম্যান নির্বাচিত ইউপি সদস্যগন হয়ে থাকেন। তারাই শ্রমিক নিয়োগ প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং বাস্তবায়ন শেষে শ্রমিকদের স্ব-স্ব ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে মজুরি প্রদান করেন। প্রকল্প বাস্তবায়ন সংক্রান্ত প্রত্যায়ন পত্র ইউপি সদস্যগন দিয়ে থাকেন এবং প্রকল্প সমূহ বাস্তবায়নের তদারকি ও পরিদর্শন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা করে থাকেন। এক্ষেত্রে কোন অনিয়ম হলে তার দায় দায়িত্ব ইউপি সদস্য তথা প্রকল্প চেয়ারম্যানের উপর বর্তায়। ইটভাটা, পোল্ট্রী, মৎস হেচারী, কিন্ডার গার্ডেন ও অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ব্যক্তি মালিকানায় পরিচালিত হয়। এক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদের কিছুই করার থাকে না। তাদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ মিথ্যা উদ্দেশ্য প্রনোদিত। স্বাধীনতা বিরোধী একটি চক্র আমাকে ইউপি চেয়ারম্যানের পদ থেকে অপসারনের জন্য ষড়যন্ত্র ও নীল নকশা করে চলেছে সর্বশেষ আলোচ্য সাংবাদিক সম্মেলনটি তারি প্রয়াস। ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলী ভুলু এবং ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য রেজাউল রহমান নিরব বিএনপি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। তারা বিভিন্ন সময় সরকার বিরোধী কর্মকান্ডের সাথে সম্পৃক্ত। তাদের উদ্দেশ্য সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডকে বাধাগ্রস্ত করে সরকারের ভাবমূর্তী বিনষ্ট ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা। আমার ইউনিয়নের ২জন যোদ্ধ অপরাধী পলাতক রয়েছে তারা অর্থের বিনিময়ে কতিপয় সদস্য ও ব্যক্তিকে প্রভাবান্নিত করে আঃলীগ সমর্থক হিসেবে চিহ্নিত আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার প্রয়াস চালাচ্ছে। আমি আশা করি আপনাদের নিকট উপস্থাপিত বর্ণনার আলোকে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনপূর্বক সহায়তা করবেন। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আপনাদের পরিবেশিত বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ কানিহারী ইউনিয়নে যোদ্ধ অপরাধী তথা স্বাধীনতা বিরোধী এই ষড়যন্ত্র এবং সরকার ও রাষ্ট্র বিরোধী অপতৎপরতার মূলউৎপাটন করা সম্ভব হবে। সর্বশেষ আমি আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।
মোঃ আশরাফ আলী উজ্জ্বল
চেয়ারম্যান, ৪নং কানিহারী ইউনিয়ন পরিষদ
উপজেলা ত্রিশাল, জেলা ময়মনসিংহ

 

ব্রেকিং নিউজঃ