| |

ওরা কলসিন্দুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গন্ডি পেরিয়ে এখন আলোর ফুলকি ছড়াচ্ছে

আপডেটঃ 9:27 pm | February 18, 2016

Ad

সুলতান মামুন-ধোবাউড়া থেকে : ওরা দামাল কিশোরী। ওরা দুরন্ত, ওরা দুর্বার। ওরা জয়ের নেশায় ব্যাকুল। ওরা সদা বীরের বেশে মাঠে নামে। ওদের জয়ে বুক ভিজে আনন্দ অশ্র“তে। ওরা কলসিন্দুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গন্ডি পেরিয়ে এখন আলোর ফুলকি ছড়াচ্ছে কলসিন্দুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। ওদেরকে গড়ে দিয়েছে যারা তারা আজো আছে সেই কারিগরের ভূমিকায়। উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো সদা দৃশ্যমান ক্ষুদে ফুটবলার তৈরীর নেপথ্যের কারিগর প্রধান শিক্ষক মিনতি রানী শীল ও সহকারী শিক্ষক মফিজ উদ্দিন । সদ্য অনুষ্ঠিত ১২ তম এসএ গেমসে বাংলাদেশের ১৩ জন খেলোয়ারের মধ্যে ৫ জনই কলসিন্দুর উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত। এখন ওদের বদলে গেছে সময়। অনেকদূর যেতে হবে তাই সামনে অসীম দিগন্তের হাতছানি । ওদের কান্ডারীর ভূমিকায় এখন কলসিন্দুর উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মো: জালাল উদ্দিন। আর ওদেরকে শাণিত করার ভূমিকায় রয়েছেন কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন। তবে ওরা বদলায়নি। ওরা নিজেদের অস্তিত্বের মাঝে সদা খোঁজে পায় মিনতি রানীর মাতৃস্নেহ আর মফিজ উদ্দিনের পিতৃসুলভ ভালবাসা। আর সেই সাথে অধ্যক্ষ জালাল উদ্দিনের দৃঢ় নেতৃত্বে এখন ্ওরা আরো প্রাণবন্ত।
এবারের ১২তম এসএ গেমসে অংশগ্রহনকারী মার্জিয়া, সানজিদা, মারিয়া, শামছুন্নাহার ও শিউলি আজিম আজ বৃহষ্পতিবার ধোবাউড়ায় আসে বিকেল ৫টায়। ওদেরকে একটু অভ্যর্থনা জানানোর জন্য বিশেষ কোন আয়োজন না থাকলেও ধোবাউড়া উপজেলা পরিষদের সামনে উৎ পেতে থাকে দৈনিক আলোকিত ময়মনসিংহ, দৈনিক শিক্ষা ডট কম, দৈনিক যায়যায়দিন, দৈনিক যুগান্তর, দৈনিক স্বদেশ সংবাদ ও দৈনিক নবকল্যান পত্রিকার কয়েকজন সাংবাদিক ও প্রতিনিধি। এ সময় দৈবক্রমে সেখানে আরো উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ মাইজপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি দুলাল মিয়া ওরয়ে নায়ক দুলাল এবং পোড়াকান্দুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো: আব্দুল হেকিম।
ওরা জাতীয় দলের খেলোয়ার। যে বাহন দিয়ে ওরা ধোবাউড়া আসে তার নাম সিএনজি। তিন চাকার ঝুঁকিপূর্ণ গাড়ি ভাঙা রাস্তায় নির্বিঘেœ চালিয়ে আসল জাতীয় দলের এই পাঁচজন খেলোয়ারকে নিয়ে। কারণ এর চেয়ে ভাল গাড়ী এই রুটে সচরাচর পাওয়া যায়না।
দেশের সর্বস্তরের মানুষ মাঠে ওদের ফুটবল জাদু দেখে চোঁখ জুড়ায়। ওদের জয়ে সবাই আনন্দে ভাসে। সমাজের বিত্তশালীরা বিদেশের মাটিতে বসে ওদেরকে নিয়ে বুক ফুলিয়ে গল্প করতে গর্ববোধ করে। দেশের ক্রিকেটারদের নৈপূণ্যে প্রশংসা, গাড়ী, বাড়ী, অর্থ, নিরাপত্তা সবই জুটে। আর ওরা ছোট বলে ওদের নৈপুণ্যের বিনিময় দিতে অন্তত: ওদের নিরাপদ একটি নিজস্ব পরিবহনের কথা কি ভাবা যায়না?
দেশে শত শত কোটিপতি রয়েছে।  তাদের মধ্য থেকে যদি কয়েকজন কলসিন্দুরের ক্ষুদে তারকাদের স্পন্সর হওয়ার অভিব্যক্তি প্রকাশ করে তবে যাদের স্পন্সর হওয়ার মতো আর্থিক সামর্থ নাই তারা সকলেই স্বাগত জানাবে নি:সন্দেহে।
ওরা শুধু কলসিন্দুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নয়, ওরা ধোবাউড়ার সন্তান। ওরা বাংলাদেশের রতœ। যাদের জন্য সারাদেশ  চিনলো কলসিন্দুর গ্রাম তথা ধোবাউড়া উপজেলাকে। যাদের নৈপুণ্যে বিশ্ববাসী নতুন করে জানল সোনার বাংলাদেশকে, সেই সানজিদা-মার্জিয়ারা কারো কাছে তেমন কিছুই চায়না। তবে ওদের শিশুমন একটু উৎসাহ পেলে পুলকিত হয়।

ব্রেকিং নিউজঃ