| |

বিজয় উৎসবে মেতেছে দেশ

আপডেটঃ 4:55 pm | December 16, 2019

Ad

আজ ১৬ ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবস। পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে নয় মাসের যুদ্ধে ত্রিশ লাখ শহীদের রক্ত, আর লাখ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে ১৯৭১ সালের এ দিনে চূড়ান্ত বিজয় লাভ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। বিশ্ব মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশের।

দিবসটি উপলক্ষে পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাজধানীতে ভোরে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা হয়। ভোর ৬টা ৩৫ মিনিটে সাভারে জাতীয় স্মৃতি সৌধের শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে ১৯৭১ শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এদিকে রাজধানীর পাশপাশি সারা দেশেও দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হচ্ছে। আনন্দ-উৎসবে মেতেছে সারা দেশ। এরমধ্যে রয়েছে স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ, র‌্যালি, আলোচনাসভা, গণ সঙ্গীত পরিবেশনা ইত্যাদি। জাগো নিউজের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

খুলনা : যথাযোগ্য মর্যাদায় খুলনায় উদযাপিত হচ্ছে মহান বিজয় দিবস। ভোর সাড়ে ৬টা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে খুলনা জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে গল্লামারী শহীদ স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণ করা হয়।

Narail-Bijoy

এসব দল ও সংগঠনের মধ্যে ছিল মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, আওয়ামী লীগ জেলা ও মহানগর, বিএনপি জেলা ও মহানগর, খুলনা সিটি কর্পোরেশন, খুলনা প্রেস ক্লাব, খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়ন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, কমিউনিস্ট পার্টি, শিল্পকলা একাডেমি, বিএমএ প্রভৃতি।

প্রত্যুষে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইনে একত্রিশবার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের শুভ সূচনা হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে। এছাড়া নৌ-বাহিনীর জাহাজ জনসাধারণের দর্শনের জন্য বিআইডব্লিউটিএ রকেট ঘাটে দুপুর দুইটা হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত উন্মুক্ত রাখা হবে।

ময়মনসিংহ : মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন, আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, কুচকাওয়াজ, শারীরিক কসরত, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারকে সংবর্ধনা, আলোচনাসভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যদিয়ে ময়মনসিংহে মহান বিজয় দিবস পালিত হচ্ছে। দিবসটি পালন উপলক্ষে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভে প্রথমে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ। পরে সিটি মেয়র ইকরামুল হক টিটু, বিভাগীয় কমিশনার খোন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান, রেঞ্জ ডিআইজি নিবাস চন্দ্র মাঝি, জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান, পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

এছাড়াও মুক্তিযোদ্ধা, জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

এদিকে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শহরের রফিক উদ্দিন ভূইয়া স্টেডিয়ামে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর বেলুন-পায়রা উড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দিনের কর্মসূচী উদ্বোধন করেন বিভাগীয় কমিশনার খোন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান। পরে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা মার্চপাস্ট, কুচকাওয়াজ, শারীরিক কসরত প্রদর্শন করেন।

Narail-Bijoy

পটুয়াখালী : সারা দেশের মতো পটুয়াখালীতেও মহান বিজয় দিবস উদযাপিত হচ্ছে। সকালে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের শুভ সূচনা করা হয়। পরে শহরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। সকাল ৯টায় শহরের কাজী আবুল কাসেম স্টেডিয়ামে মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। বেলুন ফেস্টুন ও পায়রা উড়িয়ে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানের উদ্ভোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী।

রাজবাড়ী : মহান বিজয় দিবসের চেতনা ও প্রেরণাকে লালন এবং সমুন্নত রাখার মানসে যথাযোগ্য মর্যাদায় রাজবাড়ীতে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত হচ্ছে। সকাল সাড়ে ৯টায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে কাজী হেদায়েত হোসেন স্টেডিয়ামে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়।

এ সময় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সমন্বয়ে সমাবেশ এবং কুচকাওয়াজ শারীরিক কসরত ও ডিসপ্লে প্রদর্শিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন, রাজবাড়ী-১ আসনের এমপি কাজী কেরামত আলী, জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম, পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান প্রমুখ।

এর আগে সকাল ৬টায় জেলা পুলিশ লাইন্সে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে বিজয় দিবসের শুভ সূচনা এবং সাড়ে ৬টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি, শ্রীপুর কেন্দ্রেীয় বাস টার্মিনালে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি ফলক, লোকশেড বধ্যভূমি, রাজবাড়ী রেলক্রসিং শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি ফলক, লক্ষ্মীকোলের মুক্তিযোদ্ধা শহীদ রফিক, সফিক, সাদি ও নিউ কলোনির মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আব্দুল আজিজ খুশির কবরস্থানে পুষ্প্যমাল্য অর্পণ করেন জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ও রাজনৈতিক দলের সদস্যরা।

নড়াইল : নড়াইলে নানা আয়োজনে মহান বিজয় দিবস পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে জেলা প্রশাসন, জেলা আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচির সূচনা হয়। পরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন শেষে স্মৃতি সৌধ, গণকবর, বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ও বধ্যভূমিতে পুস্পমাল্য অর্পণ, গণকবর জিয়ারত ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

মেহেরপুর : যথাযোগ্য মর্যাদায় আজ মহান বিজয় দিবস পালন করছেন মেহেরপুরের সর্বস্তরের মানুষ। ভোরে মেহেরপুরের ড. শহীদ শাসসুজ্জোহা পার্কে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের সূচনা হয়। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে শহরের কলেজ মোড়ে শহীদ বেদীতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন জেলা পশাসক আতাউল গনি, পুলিশ সুপার এস.এম মুরাদ আলীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ নানা শেণি পেশার মানুষ।

শেরপুর : শেরপুরে ভোরে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সর্বস্তরের মানুষ। এদিন সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে মানুষের ঢল নামে। রাষ্ট্রের পক্ষে প্রথমে শ্রদ্ধা জানান হুইপ মো. আতিউর রহমান আতিক।

এরপর পৌর মেয়র গোলাম মোহাম্মদ কিবরিয়া, জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুব, পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম শহীদ বেদীতে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জেলা আ.লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জাসদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক-সাস্কৃতিক সংগঠন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ পুস্পস্তবক অর্পণ করেন।

এছাড়া রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট, যশোর, নোয়াখালী, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, কুমিল্লা, দিনাজপুর, রংপুর, বগুড়া, শরীয়তপুর, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, বরগুনা, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, পিরোজপুর, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জসহ দেশের সব জেলায় নানা আয়োজনে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত হচ্ছে।

ব্রেকিং নিউজঃ