| |

আ’লীগের জাতীয় সম্মেলন: যিনি হতে পারেন সাধারণ সম্পাদক !

আপডেটঃ 2:36 pm | December 17, 2019

Ad

বরাবরের মতো এবারও আওয়ামী লীগের কাউন্সিলের মূল আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ সাধারণ সম্পাদক নিয়ে। বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরই স্বপদে বহাল থাকবেন নাকি অন্য কেউ এই পদে আসীন হবে তা নিয়ে দলের ভেতরে-বাইরে নানা ধরনের আলোচনা শোনা যাচ্ছে। সূত্র জানায়, সাধারণ সম্পাদক পদে ওবায়দুল কাদেরের নাম জোরালোভাবে শোনা গেলেও এ পদে আরও তিন থেকে চারজনের নাম আলোচনায় রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন পর্যন্ত তার ঘনিষ্ঠজনদের কাছে পরিষ্কার করে কিছু বলেননি।

সবাই আশা করছেন, ১৮ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় নেতৃত্বের বিষয়ে অনেক কিছুই পরিষ্কার করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তবে এবারের কাউন্সিলের মাধ্যমে দলের নেতৃত্বে ব্যাপক রদবদল আনার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী আ.লীগের নেতৃত্বে লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। এরই মধ্যে সম্মেলনের মঞ্চ ও সম্মেলনস্থল প্রস্তুত করা এবং সাজসজ্জাসহ অন্যসব কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আমন্ত্রিত অতিথিদের কাছে দাওয়াতপত্র পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ৪ কোটি টাকা বাজেটের এ সম্মেলনে কাউন্সিলর, ডেলিগেটসহ ৫০ হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত থাকবেন। এবার কোনো বিদেশি অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। সম্মেলন ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। প্রায় প্রতিদিন সেখানে কোনো না কোনো উপকমিটির বৈঠক হচ্ছে।

এদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কে হচ্ছেন তা নিয়ে বেশ আলাপ আলোচনা হচ্ছে দলের মধ্যে। এখন পর্যন্ত বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে নিয়ে আলোচনা সবচেয়ে বেশি। পাশাপাশি প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুর রাজ্জাক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খানের নামও আলোচনায় উঠে আসছে। এদের পাশাপাশি খুব জোরালভাবে শোনা যাচ্ছে খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর নাম। পরিচ্ছন্ন ও ডাইনামিক নেতৃত্বের কারণে জনপ্রিয়তায় অনেকের থেকে এগিয়ে আছেন তিনি। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের গুডবুকে অন্যদের সঙ্গে তারও নাম শর্টলিস্টে রয়েছে বলে দলের তিন শীর্ষ পর্যায়ের নেতা নিশ্চিত করেছেন। তাদের একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নবীন প্রবীণের সমন্বয়ে যে কমিটি গঠনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে তাতে খালিদ মাহমুদকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দেখা গেলে অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না। কারণ সে আওয়ামী লীগের পরীক্ষিত ও সংকটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন অনেক আগেই।

সম্মেলন প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ বলেন, যারা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত আর যারা নিজেদের কাজ সঠিকভাবে পালন করেনি তাদের বিদায় নিতে হবে। সভাপতি ছাড়া সব পদেই পরিবর্তন দেখা যাবে, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক থেকে সদস্যসহ প্রতিটি পদেই পরিবর্তন আসতে পারে। সাধারণ সম্পাদক পদের বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এক টার্ম দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে বঙ্গবন্ধু চার টার্ম ছিলেন, বাকি সবাই মিনিমাম দুই টার্ম ছিলেন, কাদের সাহেবও আশা করি দুই টার্ম করবেন।

২০ ডিসেম্বর রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্মেলন উদ্বোধন করবেন দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বেলা ১১টায় জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধনের পর ২৫ মিনিটের উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করা হবে। সেখানে তুলে ধরা হবে আওয়ামী লীগের ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং সরকারের উন্নয়ন ও সাফল্য। এরপর মূল অনুষ্ঠান শুরু হবে। পরদিন ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। গেলবারের ন্যায় এবারও দ্বিতীয় অধিবেশন থেকে সভাপতি সাধারণ সম্পাদকসহ যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের নাম ঘোষণা হতে পারে। তাই ওই দিনই জানা যাবে আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদে কে আসছেন।

এদিকে আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায়ের একটি সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে খসড়া কমিটির কাজ গুছিয়ে নিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। ৮১ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কার্য নির্বাহী সংসদ, ৪১ সদস্যবিশিষ্ট উপদেষ্টা পরিষদ, ১৮০ সদস্যবিশিষ্ট জাতীয় কমিটি এবং ১৯ সদস্যবিশিষ্ট স্থানীয় সরকার ও ১১ সদস্যবিশিষ্ট সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের খসড়াও চূড়ান্ত করা হয়েছে। বুধবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সর্বশেষ বৈঠকে এসব বিষয়ে কিছু ধারণা দিতে পারেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এসব বিষয়ে দলের সিনিয়র নেতাদের মতামতও নিচ্ছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।

ব্রেকিং নিউজঃ