| |

ভুল-ত্রুটি বেশি বের হলে রাজাকারের তালিকা প্রত্যাহার: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী

আপডেটঃ 8:13 pm | December 17, 2019

Ad

রাজাকারের তালিকায় মুক্তিযোদ্ধার নাম আসায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। তিনি বলেছেন, ভুল-ভ্রান্তি বেশি বের হলে তালিকা প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের কাছে মন্ত্রী এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে যে তালিকা পেয়েছি, হুবহু তা প্রকাশ করেছি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও সে সময়ের সরকারি রেকর্ড দিয়েছে, নতুন তালিকা করেনি। তিনি বলেন, একাত্তরে প্রস্তুত করা তালিকাটিতে পাকিস্তানি বাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের নাম সংযোজন করে থাকতে পারে।

 

মোজাম্মেল হক বলেন, ‘১৯৭১ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুতকৃত রাজাকারদের তালিকা মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় থেকে হুবহু প্রকাশ করা হয়েছে। এ তালিকা আগেই তৈরি করে রেখে গেছে। সেখানে কোনো ইল মোটিভ থাকতে পারে, উদ্দেশ্যমূলক হতে পারে। যেভাবে আছে, সেভাবে তুলে ধরা হয়েছে। আমরা এটা এডিট করি নাই, দাঁড়ি-কমা, সেমিকোলন চেঞ্জ করি নাই।’

 

‘আমরা অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে বলছি, এই তালিকা আমরা তৈরি করি নাই। জাতির দাবি ছিল, তাই প্রকাশ করেছি। আমি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তৈরি করি নাই। দুঃখ প্রকাশ করা ক্ষমা চাওয়ার মধ্যে তো কোনো পার্থক্য নাই। নিঃসন্দেহে এটা ক্ষমার চোখে দেখবেন।’ বলে যোগ করেন মন্ত্রী।

 

মহান বিজয় দিবসের আগের দিন গত রবিবার স্বাধীনতার ৪৮ বছর পর রাজাকারদের তালিকা প্রকাশ করেছে সরকার। এই তালিকা কতটুকু সঠিক তা নিয়ে নানামুখী প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

 

প্রকাশিত কথিত ‘রাজাকারদের তালিকা’ নিয়ে দেশে ব্যাপক অষন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। দেশজুড়ে প্রশ্ন উঠেছে, কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় তৈরি করা হয়েছে এই তালিকা। এই কথিত তালিকায় ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা, গেজেটেড মুক্তিযোদ্ধা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এমনকী ভাষাসৈনিকদের নাম তুলে দেওয়া হয়েছে! বাদ পড়েছেন চিহ্ণিত রাজাকারেরা।

 

আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি এডভোকেট গোলাম আরিফ টিপু, বরিশালের প্রয়াত ভাষা সৈনিক ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মিহির লাল দত্ত, গেজেটেড মুক্তিযোদ্ধার নাম! বরিশালের বামপন্থী রাজনৈতিক দল বাসদের জনপ্রিয় নেত্রী ডা. মনীষা চক্রবর্তীর বাবা এড. তপন কুমার চক্রবর্তী এবং ঠাকুমা উষা রানি চক্রবর্তীর নাম এই তালিকায় উঠে এসেছে রাজাকার হিসেবে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এই তালিকায় ১০ হাজার ৭৮৯ জন রাজাকারের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল।

 

ব্রেকিং নিউজঃ