| |

প্রস্তুত বিশ্ব ইজতেমা ময়দান, আম বয়ানে শুরু শুক্রবার

আপডেটঃ ৯:৫৪ অপরাহ্ণ | জানুয়ারি ০৮, ২০২০

Ad

গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের সব কাজ এরইমধ্যে শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকেই তাবলিগ জামাতের মুসল্লিরা অবস্থান নিতে পারবেন প্যান্ডেলের ভেতর।

শুক্রবার ১০ জানুয়ারি থেকে টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে আম বয়ানের মধ্যদিয়ে শুরু হচ্ছে তাবলীগ জামাতের দুই পর্বের বিশ্ব ইজতেমা। প্রথম পর্ব ১০ জানুয়ারি শুরু হয়ে শেষ হবে ১২ জানুয়ারি মোনাজাতের মধ্যদিয়ে। চার দিন বিরতি দিয়ে ১৭ জানুয়ারি শুরু হয়ে ১৯ জানুয়ারি মোনাজাতের মধ্যদিয়ে ৫৫ তম বিশ্ব ইজতেমার সমাপ্তি ঘটবে।

এবারের ইজতেমাকে সফল করতে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনসহ সব সংস্থা ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ইজতেমা মাঠে আসতে শুরু করেছেন। তারা নিজ নিজ খিত্তায় অবস্থান নিচ্ছেন।

পরিসেবার মধ্যে রয়েছে পয়ঃনিষ্কাষণ ও পানির ব্যবস্থা। ইজতেমা ময়দানে তিনতলা বিশিষ্ট ৩১টি পাকা ভবনে ৮ হাজারের মতো ইউনিট টয়লেটের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়াও অস্থায়ী মোবাইল টয়লেটের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মুসল্লিদের আসার জন্য চার শতাধিক বিআরটিসি বাস, বিশেষ ট্রেনসহ লঞ্চ নৌ-বোর্ড থাকবে। মাঠের উত্তর পাশে র‌্যাব, পুলিশ জেলা প্রশাসন ও সিটি কর্পোরেশনের পৃথক কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে ইজতেমা ময়দানের সার্বিক দিক পর্যবেক্ষণ করার জন্য।

তুরাগ নদ পারাপারের জন্য সেনাবাহিনী ভাসমান ৭টি সেতু নির্মাণ করেছে। কনকনে শীত উপেক্ষা করে মুসল্লিরা স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে বিশাল চটের প্যান্ডেল এর কাজ সমাপ্ত করেছে। প্যান্ডেলের উত্তর পশ্চিম কোনে নদীর পাড়ে বিদেশি মুসল্লি ও তাদের রান্না করা ও থাকার জন্য টিনের ছাউনি দিয়ে করা হয়েছে অস্থায়ী ঘর। বসানো হয়েছে গ্যাসের চুলা। মাঠের পশ্চিম পাশে তৈরি করা হয়েছে বয়ানমঞ্চ।

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ইজতেমা মাঠের ভেতর ও বাইরে পুলিশ, র‌্যাব সদস্য, আনসার ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা কাজ করবে।

এছাড়া ফায়ার সার্ভিসের তিনশতাধিক সদস্য রয়েছেন। ইজতেমা ময়দানে ২০টি প্রবেশ গেট আছে। এসব গেটে আর্চওয়ে থাকবে। ২৫টি ওয়াচ টাওয়ারও থাকবে। চার শতাধিক সিসি টিভি থাকবে। পাশাপাশি তাৎক্ষণিক বিচার, নিরাপত্তা, বিশুদ্ধ খাবার এবং আনুসাঙ্গিক বিষয় সুষ্ঠুভাবে সমাধানের জন্য একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ৩০টির অধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করবে। যাতে সুষ্ঠুভাবে ইজতেমা সম্পন্ন করা যায়। আশপাশে থাকবে না ফুটপাতের কোনো দোকান।

তিনি আরো বলেন, তিন দিনব্যাপি বিশ্ব ইজতেমা হবে। মাওলানা যোবায়ের অনুসারীদের বিশ্ব ইজতেমা প্রথম পর্বে হবে আর মাওলানা সা’দ অনুসারীদের বিশ্ব ইজতেমা হবে শেষ পর্বে। প্রত্যেকেই স্ব স্ব অংশের শেষের দিকে একটি করে মোনাজাত করবে। এতে আশা করি সবাই অংশগ্রহণ করবে। এখানে কোনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব নেই। সবাই আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাজ করছে। এরইমধ্যে ময়দানের বিশাল এলাকা জুড়ে সামিয়ানা টানানো সম্পন্ন হয়েছে।

ডিসি এস এম তরিকুল ইসলাম বলেন, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য প্রতিবছর দেশি বিদেশি মুসল্লিরা এখানে আসেন। এবার আরো বেশি আসবেন। প্রতিবছর সাধারণত ১০০টির মতো দেশের প্রতিনিধি পাই। হাজারো বিদেশি মুসল্লি আসেন। এ বছরও আসবেন। এর জন্য ভিসা পদ্ধতি সহজ এবং দ্রুততম করা হয়েছে। তবে যারা আসবেন তাদের নাম ঠিকানা আগে থেকেই জানাতে হবে।

তিনি বলেন, আশা করি সব মিলিয়ে একটি সুন্দর ইজতেমা হবে। আল্লাহর সন্তুষ্টি বিধানে আমরা কাজ করতে পারব। বাংলাদেশ সেনা বাহিনী মুসল্লিদের তুরাগ নদ পারাপারের সুবিধার্থে ৭টি ভাসমান সেতু নির্মণ কাজ শেষ করেছেন। এতে দুই পাড়ের মুসল্লিরা অনায়াসে দুইপাড়ে যাতায়াত করতে পারবেন।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, বিশ্ব ইজতেমা ময়দান নিরাপত্তা চাদরে ঢেকে রাখা হবে। নিরাপত্তায় থাকবে ৮ হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। তারা মাঠের ভেতর ও বাইরে সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকবেন। পাশাপাশি সাদা পোশাকেও তারা কাজ করবেন।

বিশ্ব ইজতেমার দু’পক্ষের আয়োজকগনই এবার মাঠের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তারা আশা করছেন অন্যান্য বারের চেয়ে এবারের বিশ্ব ইজতেমা সুশৃঙ্খলভাবে হবে। দেশ বিদেশের মুসল্লিরা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় তারা বৃহস্পতিবার থেকেই ময়দানে এসে শরিক হবেন।

শুক্রবার ফজরের নামাজের পর থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে আম বয়ানের মাধ্যমে ইজতেমা শুরু হবে। তবে বৃহস্পতিবার রাত থেকেই মুসল্লিদের উদ্দেশে বয়ান শুরু হয়ে যাবে।

ব্রেকিং নিউজঃ