| |

টুঙ্গিপাড়া থেকে সাংগঠনিক সফর শুরু আওয়ামী লীগের

আপডেটঃ 12:18 pm | January 18, 2020

Ad

আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি গত বছরের ২১ ডিসেম্বর দলের ২১তম জাতীয় সম্মেলনের পর ৩ জানুয়ারি প্রথম যৌথসভার মধ্য দিয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করে। প্রথম ১০০ দিনকে অনেকে হানিমুন পিরিয়ড বলে থাকেন। কারণ এ সময় সাধারণত কোনো চাপ থাকে না। কিন্তু দলের বর্তমান কমিটি এই হানিমুন পিরিয়ড পাচ্ছে না। মুজিববর্ষ সামনে রেখে এখন শুরু করতে হচ্ছে সাংগঠনিক কর্মযজ্ঞ। ২৪ জানুয়ারি টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে সাংগঠনিক সফর। লক্ষ্যমাত্রায় আছে ৬ মার্চের মধ্যে ৪৫টি সাংগঠনিক জেলা সম্মেলন করার। সফরসূচি চূড়ান্ত করাসহ যাবতীয় কাজ সারছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের নেতারা বলছেন, চলতি মাসে সাংগঠনিক সফর শুরু করার কথা থাকলেও সিটি করপোরেশন নির্বাচন এসে পড়ায় দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা আপাতত ঢাকার বাইরে যাচ্ছেন না। ২৪ জানুয়ারি নতুন কমিটি দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতির পিতার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবে। এর মধ্য দিয়ে শুরু হবে তাঁর সাংগঠনিক যাত্রা। জেলায় জেলায় সফর ও সম্মেলন নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করবেন কেন্দ্রীয় নেতারা। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘২৪ জানুয়ারি টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার সমাধিতে নতুন কমিটি শ্রদ্ধা নিবেদন করবে। এরপর ফেব্রুয়ারিতে হবে জেলা সম্মেলন শুরু।’ জানা গেছে, ৮ জানুয়ারি রাতে আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের বিভাগীয় দায়িত্ব বণ্টন করা হয়। এতে দলের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফকে সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ দুই বিভাগের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক হলেন আহমদ হোসেন ও সিলেট বিভাগে সাখাওয়াত হোসেন শফিক। ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যুগ্মসাধারণ সম্পাদক দীপু মনিকে। ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম ও ময়মনসিংহ বিভাগে সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলকে। যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদকে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রংপুর বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন আর রাজশাহী বিভাগে এস এম কামাল হোসেন। খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যুগ্মসাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমকে। খুলনা বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক ও বরিশাল বিভাগে আফজাল হোসেনকে। যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের দায়িত্ব বণ্টন করেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে জেলা-উপজেলার সম্মেলনের তাগিদ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নির্দেশ রয়েছে মুজিববর্ষ শুরুর হওয়ার আগেই মেয়াদোত্তীর্ণ সব জেলার সম্মেলন করতে হবে। ১৭ মার্চ শুরু হচ্ছে মুজিববর্ষ। এর আগে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ আছে। অর্থাৎ ৬ মার্চের মধ্যে সম্মেলন করার টার্গেট রয়েছে। সূত্রমতে, আওয়ামী লীগের ৭৮টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে ২৯টির ইতিমধ্যে সম্মেলন হয়েছে। এর মধ্যে খুলনা বিভাগের ১১টি জেলা ও মহানগর কমিটির সাতটি জেলা ও এক মহানগর কমিটির সম্মেলন হয়েছে। রংপুর বিভাগে নয়টি জেলা ও মহানগর কমিটির মধ্যে ছয়টির সম্মেলন হয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগে ১৫ জেলা ও মহানগর কমিটির মধ্যে ছয় জেলার সম্মেলন হয়। বরিশাল বিভাগে সাত জেলা ও মহানগরের মধ্যে তিনটির সম্মেলন হয়েছে। রাজশাহী বিভাগে নয় জেলা ও মহানগর কমিটির মধ্যে দুটির সম্মেলন হয়েছে। সিলেট বিভাগের পাঁচ জেলা ও মহানগর কমিটির মধ্যে তিনটির সম্মেলন হয়েছে। ঢাকা বিভাগে ১৭ জেলা ও মহানগরের মধ্যে দুটির সম্মেলন হয়েছে। এ ছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগে পাঁচটি জেলা ও মহানগর কমিটির একটিরও সম্মেলন হয়নি। সেই সঙ্গে বাকি রয়েছে উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন সম্মেলন। এত অল্প সময়ের মধ্যে সম্মেলন করা সম্ভব কিনা জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ পারে, আওয়ামী লীগ পারবে। ৬ মার্চের আগেই আমরা মেয়াদোত্তীর্ণ সব জেলা-উপজেলার সম্মেলন শেষ করব। এ ব্যাপারে দলীয় সভানেত্রীর নির্দেশনা রয়েছে।’ সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শফিক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমরা এখনো তৃণমূলে যাওয়া শুরু করিনি। সিটি ভোট চলছে। তাই ব্যস্ত সময় পার করছি। তৃণমূলে না গেলেও কিন্তু ঢাকা থেকেই যোগাযোগ করছি।’

ব্রেকিং নিউজঃ