| |

ময়মনসিংহে রেলের বিদ্যুৎ থেকে অবৈধ সংযোগের ছড়াছড়ি

আপডেটঃ 1:06 pm | January 22, 2020

Ad

ময়মনসিংহ রেলওয়েতে চুরাই ভাবে বিদ্যুত সংযোগ দিয়ে কতিপয় কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের অনেকে এখন প্রচুর টাকার মালিক। বিভিন্ন পরিত্যক্ত আবাসিক কোয়ার্টার, বিভিন্ন স্থাপনায় অবৈধভাবে বাইপাস সংযোগ দিয়ে পারিবারিক চাহিদা মিটানোসহ অটো চার্জ করার গেরেজ বসিয়ে বিদ্যুত চুরি করে কারি কারি টাকা কামাচ্ছে। বছরে বিদ্যুত খাতে রেলওয়ের গচ্ছা যাচ্ছে এক কোটি টাকার ওপরে। অথচ বিদ্যুত চুরি রোধে কার্যকর কোন উদ্যোগ নেই!

ময়মনসিংহ বিদ্যুত বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২ (দক্ষিণ) এর নির্বাহী প্রকৌশলী ইন্দ্রজিৎ দেবনাথ জানান, গত ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে ময়মনসিংহ রেলওয়ের নামে ২২ লাখ টাকা বিদ্যুত বিল করা হয়েছে।

আর ময়মনসিংহ রেলওয়ের সিনিয়র সাব এ্যাসিসটেন্ট ইঞ্জিনিয়ার (এসএসএই,বিদ্যুত) আসাদুজ্জামান খান জানান, এই ক্ষেত্রে আদায়যোগ্য বিল মাত্র ১০ লাখ টাকা। বাকি টাকা রেলওয়েকে ভর্তুকি গুনতে হবে। রেলওয়েরের এসকল অবৈধ সংযোগ থেকে মিটারম্যান মালেক নিজে ও রোক রেখে প্রতি মাসে টাকা আদায় করলেও তা জমা হয়না রেলওয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের খাতায়। প্রতিমাসেই এই ভর্তুকি গুনতে হয় রেলকে বলে জানান আসাদুজ্জামান খান। মিটারম্যান মালেকের নামে একটি বাসা বরাদ্দ থাকলেও এ বাসায় তিনি থাকেন না। এছাড়াও তার দখলে পরিত্যক্ত আরো ৩ টি বাসা রয়েছে।

কেওয়াটখালি লোকোশেড কলোনি বাসা নম্বর ই/১১ । বাসাটি বরাদ্দ নিয়েছেন আই ডবিøউ এর কর্মকর্তা রবীন্দ্রনাথ মজুমদার। নিজে পরিবার পরিজন নিয়ে থাকার পাশাপাশি ঘর তুলে ভাড়াও দিয়েছেন বহিরাগত পরিবারকে। ঘরগুলোতে রয়েছে অবৈধ বাইপাস বিদ্যুত সংযোগ। এই কলোনির এল/২৭ নম্বর বাসার স্বপন সরকার ও এল/৭২ নম্বর বাসার আবদুল মান্নানসহ বেশিরভাগ বরাদ্দের বাসায় বাড়তি অবৈধ ছাপড়া ঘর তুলে ভাড়া দিয়েছেন। এসব প্রতিটি ছাপড়া ঘরেই রয়েছে বাইপাস সংযোগের অবৈধ বিদ্যুত। এই কলোনিতে সিঙ্গেল ও ডাবলসহ মোট ২৫০টি বাসা রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৫০টি বাসা বরাদ্দ দেয়া আছে। ড্যামেজ ঘোষণা করা বাকি সব বাসা রয়েছে অবৈধ দখলদারদের কব্জায়।

সূত্র মতে কেওয়াটখালি ডিফেন্স পার্টি ও কেওয়াটখালি কলোনি জামে মসজিদ পরিচালনার নামেও ভাগাভাগি হচ্ছে ভাড়ার টাকা।প্রতিটি বাসা ৩ থেকে ৪ হাজার টাকায় ভাড়া আদায় করা হয়েছে। এর মধ্যে ডিফেন্স পার্টির নামে খালাসি আকবর ও আই ডবিøউ আনোয়ারসহ এলপিআরএ থাকা আবদুল মান্নান এসব টাকা লুটপাট করেছেন বলে অভিযোগ। সূত্রের দাবি উচ্ছেদ কার্যক্রমের আগ পর্যন্ত আবদুল মান্নানের দখলে ছিল সর্বোচ্চ ৬৫ বাসা। আর আনোয়ার ও আকবরের দখল ছিল ২৫টি বাসা। ২৫০টি বাসায় ৩৫০ পরিবার ভাড়া থাকলেও বৈধভাবে বরাদ্দের বাসায় ভাড়াটিয়া ছিল মাত্র ১০০ পরিবার। পরিনত হয়ে আছে মাদকের আখড়ায়।

অভিযোগ রয়েছে আবদুল মান্নানের বাসায় অবৈধ অটোরিক্সা চার্জ করার গ্যারেজসহ অবৈধ বাসায় আয়রন, ফ্রিজ, টিভি, ফ্যান, ওভেন, ওয়াশিং মেশিন, লাইট ও ১৫০০ ওয়াটের ডাবল হিটারের সংযোগ। একই চিত্র নিউ কলোনিতেও। রেলওয়ের এই কলোনিতে এরকম বাসা রয়েছে ৮৪টি। রেলওয়ে গত দুই দশক আগে এসব বাসাকে ড্যামেজ ঘোষণা করলেও বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেনি। আর এগুলোতে বসবাস করছে বহিরাগতরা। আর কোয়াটারের সব সুযোগ সুবিদা ভোগ করছে তারা।

সংশিষ্ট সূত্র জানায়, ময়মনসিংহে রেলওয়ের নিউ কলোনিসহ কেওয়াটখালির লোকো স্টাফ কলোনি, পাওয়ার হাউস কলোনি, মালগুদাম, ব্রাহ্মপল্লী, পুরোহিত পাড়া ও গার্ড কলোনিতে সাতটি বাংলো ছাড়াও সিঙ্গেল ও ডাবলসহ আবাসিক কোয়ার্টার রয়েছে ৮৫১টি। অভিযোগ রয়েছে, এক শ্রেণীর ভাড়াটিয়া রেলওয়ের এসব বাসায় থেকে মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অসামাজিক ও অপরাধমূলক কর্মকান্ডে লিপ্ত রয়েছে। রয়েছে অবৈধ সংযোগের ছড়াছড়ি।

এজন্য ময়মনসিংহ রেলওয়ের নামে প্রতিমাসে বিদ্যুত বিল হচ্ছে ২০-২২ লাখ টাকা। আর আদায় হচ্ছে মাত্র ১০ লাখ টাকার মতো। এই হিসেবে রেলকে প্রতিমাসে অবৈধ বিদ্যুত সংযোগের কারণে লোকসান গুনতে হচ্ছে ১০ লক্ষাধিক টাকা। বছরে লোকসানের থাকে শত কোটি টাকার উপরে! ময়মনসিংহ রেলওয়ের সিনিয়র সাব এ্যাসিসটেন্ট ইঞ্জিনিয়ার (এসএসএই, বিদ্যুত) আসাদুজ্জামান খান রেল কলোনিতে অবৈধ বিদ্যুত সংযোগ থাকার কথা স্বীকার করে জানান, এ জন্য রেলকে প্রতিমাসে ১০ লক্ষাধিক টাকা গুণতে হচ্ছে।

ব্রেকিং নিউজঃ