| |

চুমু

আপডেটঃ 9:33 pm | February 19, 2016

Ad

রাত ৯টাতেই বেঘোরে ঘুমাচ্ছে রাফি। নাকও ডাকছে। যাকে বলে স্লিপিং উইথ ফুল নাসিকা সাউন্ড। এটাকে সাউন্ড স্লিপও বলে অনেকে!

পাশ থেকে স্ত্রী রত্না বলে উঠলো, এই তোমার সাউন্ডটা একটু কমাবে। একটা বই পড়ছি, কাল যেটা বইমেলা থেকে এনে দিয়েছিলে। তোমার নাক ডাকায় ভীষণ ডিস্টার্ব হয়। কেন শুধু শুধু অফিস থেকে এসে অত্তগুলো কাপড় ধুতে গেলে! কেমন পুরুষ মানুষ বাবা, বউয়ের কাপড় ধুয়ে দেয়! বাসার বুয়া সেদিন হাসতে হাসতে বলেছিল, কী লজ্জাটাই না পেয়েছিলাম।

স্ত্রীর কথায় ঘুম কিছুটা ভেঙ্গে গেলো রাফির। বললো, ও তুমি বুঝবে না। বউয়ের কাপড় ধোয়ার অনুভূতিটাই অন্যরকম।

আচ্ছা তুমি কি বলতো। আজকাল দেখছি- আমার খুব যত্ন নিচ্ছ। মানুষের বউ কি প্রেগনেন্ট হয় না। তারা সবাই তোমার মত করে! অফিস থেকে ফিরে তুমি এখন বাসার সব কাজ করার চেষ্টা কর। বাইরে বন্ধুদের সঙ্গেও সময় কাটাও না। আমার কাছে কাছে থাকো। বিয়ের দুবছর পর কিভাবে মানুষ এত বউ পাগল হয়!

রাফি ঘুম থেকে উঠে বিছানায় বসে হাসছিল।

আচ্ছা রত্না তোমার বুয়া যে মাঝে মাঝেই ‘অফ ডে’ নেয় এ নিয়ে কিছু বলেছ?

কি আর বলবো বলো। ঢাকা শহরে বুয়াদের কি কাজের অভাব। বাদদিলে চলে যাবে অন্য কোথাও। আর যাই হোক সে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। কাজও সুন্দর করে।

যদিও সেদিন তাকে বললাম; আমি অসুস্থ ৭ মাস পার হয়েছে আর অল্প কটা দিন বাকি। তুমি যদি এখন এভাবে মাঝে মাঝেই না আসো। তাহলে চলবে বলো।

ও বললো; কি যেনো একটা পারিবারিক কাজে আজকাল সে ব্যস্ত হয়েছে। এজন্য না চাইতেও এমনটা হয়ে যাচ্ছে।

কপাল খারাপ বুঝলে। তোমারও ননদ নেই আর আমারও শ্যালিকা নেই। নাহলে কেউ না কেউ এসময় এসে থাকতো। যাহোক মাকে ফোন দিয়েছি কয়েকদিনের মধ্যে হয়তো চলে আসবে। বললো রাফি।

রত্না বললো; বাড়িতে বাবা একা থাকবেন?

ওসব তোমাকে ভাবতে হবে না।

আচ্ছা, যা ভালো মনে করেছ করেছ। এবার একটা কথা বলো রাফি- সেদিন বুয়াতো আমাকে লজ্জায় ফেলে দিয়েছিলো। তুমি নাকি বিকেল বেলা অফিস থেকে ফিরে ঘুমন্ত আমার কপালে চুমু খাও? এটা নাকি এখন তোমার নিয়মিত অভ্যাস। বুয়া তোমার এ দৃশ্যের কথা বলে সেদিন হেসে লুটোপুটি খাচ্ছিল।

এমনটা কেন করো তুমি? আমিতো তোমার স্ত্রী না কি! নতুন অবস্থায় বিয়ের পরওতো তোমাকে এতবেশি উতলা কখনো দেখিনি। এখন কেন এমন করছো তুমি। আজও আমি যখন ঘুমিয়েছিলাম তুমি একই কাজ করেছিলে।

রাফিকে কিছুটা বিষণ্ণ মনে হলো। সে বললো; ভাবছি ভালোবাসবো।

রত্না রেগে বললো- কাকে আবার ভালোবাসবে?

কেন তোমাকে।

ওহ, রাখ এসব। চলো খেয়ে নেই। এই বলে রত্না উঠতে যাচ্ছিল- এমন সময় উহ বলে বিছানায় বসে পড়লো।

রাফি আধাশোয়া অবস্থা থেকে লাফ মেরে উঠে তাকে ধরলো। কি হলো তোমার, ব্যথা পেয়েছে?

না বাম পা-টা ব্যথা করছে। ওই যে সেদিন পানি জমলো তারপর থেকে ওটা নিয়মিত ব্যথাই করছে। মাকে বললাম; মা বললো গর্ভাবস্থায় নাকি পানি লাগে এটা স্বাভাবিক।

রাফি বললো; ও, আচ্ছা আমি গিয়ে একটি প্লেটে ভাত নিয়ে আসি। তোমাকেও খাইয়ে দিচ্ছি আমিও খাচ্ছি। তুমি বসেই থাকো আর টেবিলে যেতে হবে না।

রত্না হেসে বললো- আচ্ছা, তা না হয় মানলাম- স্বামীর এতটুকু ভালোবাসা নেয়ার লোভ কে সামলাতে পারে বলো। তবে তার আগে আমি একটু ওয়াশরুমে যাই।

রাফি কোনো কথা না বলে তার হাতটি ধরে বিছানা থেকে উঠিয়ে ওয়াশরুমে নিয়ে গেলো। এরপর ঠিক ছোট্ট শিশুকে যেভাবে সহযোগিতা করা যায় সেভাবেই প্রয়োজন সারতে তাকে সাহায্য করলো। কাজ শেষে আবার বিছানায় এনে বসিয়ে রেখে নিজে হাতমুখ ধুয়ে একটি প্লেটে করে তার জন্য খাবার নিয়ে এলো। যত্ন করে খাইয়ে দিলো, নিজেও খেলো।

এরপর সব পরিষ্কার করে এসে শুতে যাবে- এমন সময় রত্না তাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে আরম্ভ করলো।

রাফি বললো- কাঁদছো কেনো। ঘুমিয়ে পড়ো আমাকেও সে সকাল ৯টায় অফিসে যেতে হবে।

রত্না তার বুকে মুখ গুঁজেই বললো- আমার ভয় করছে। প্রথম বাচ্চা কিনা।

রাফি হেসে বললো- টেরইতো পাবে না। সিজারিয়ান, সকালে উঠে দেখবে পাশে একটা ফুটফুটে বেবি। তোমরা এখনকার মেয়েরা মাতৃত্বের কষ্ট কি আর বোঝ!

রত্না বললো; তোমার ভালোবাসা জাতীয় কিছু লাগবে এখন?

রাফি মৃদু হেসে বললো, ঘুমাতে হবে সকালে উঠে অফিসে যেতে হবে। এই বলে ওর মুখটা বুক থেকে তুলে আলতো আদর দিয়ে বালিশটা ঠিক করে তাকে শুইয়ে দিলো। এরপর নিজেও শুয়ে পড়লো।

রত্না একটু পড়তে চাচ্ছিল। কিন্তু রাফির কথা ভেবে চুপচাপ লাইট বন্ধ করে শুয়ে পড়লো। শুয়ে থেকেই রাফিকে প্রশ্ন করলো; আচ্ছা রাফি এক্সরে রিপোর্ট সম্পর্কে ডাক্তার কি বলেছে?

রাফি বিরক্ত হয়ে বললো; ওরা আর কি বলবে। খালি এই টেস্ট সেই টেস্ট…এই একটা পেশা সারজীবন প্রাকটিস। বললো- তোমার যত্ন নিতে। বলে সে ঘুমিয়ে পড়লো।

রত্না সুযোগের অপেক্ষায় থাকলো প্রতিশোধের! রাফি যেই নাক ডাকতে শুরু করলো। অমনি সে প্রতিশোধ নিয়ে নিলো। একনাগারে চুমু দিলো তাকে। রাফির নাক ডাকা থেমে গেলো। আসলে নাকডাকা সমস্যা না, তারা দুজনেই পরস্পরের নাসিকা সাউন্ডে অভ্যস্ত! রাফির দিকে মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল রত্না।এরপর ঘুমিয়ে পড়লো। ঘরে দুজনেরই নাক ডাকার শব্দ। যেন প্রতিযোগিতা!

পরদিন সকাল বেলা বুয়া এসে নাস্তা বানায়। রত্না ঘুমাচ্ছিল। তাই রাফি তাকে আর না ডেকে নাস্তা করে অফিসে চলে যায়।

যাহোক অফিসে গিয়ে ডেস্কে বসে কাজ করবে এমন সময়; পাশের অনিক সাহেব বললেন, রাফি সাহেব যাওয়ার সময় একসঙ্গে যাবো। আপনার বাসার পাশে আমার যে শ্যালিকাটা আছে আপনার ভাবী ওর বাসায় গেছে। আজ ওকে নিয়ে বাসা ফিরবো।

রাফি আচ্ছা বলে কাজ শুরু করতে যাবে এই সময় অনিক বললেন, ভাবী কি বেশি অসুস্থ? মানে আপনি নাকি আজকাল তার কাপড়ও ধুয়ে দিচ্ছেন!

এ কথার জবাব রাফি আর দেয়ার সুযোগ পেলো না। পাশে থেকে নাদিয়া বলে উঠলো; কী বলেন রাফি ভাই ভাবীর কাপড় ধুয়ে দেয়, ইন্টারেস্টিং!

অনিক বললেন, না মানে ওনার বাসার বুয়া আমার শ্যালিকার বাসায়ও কাজ করে। তার কাছ থেকেই সে শুনেছিলো।

শ্যালিকা থেকে অনিকের বউ আর এভাবেই অফিস পর্যন্ত তথ্য চলে এসেছে, বুঝলো রাফি!

কথাটা মুহূর্তের মধ্যেই পুড়ো অফিসে প্রচার হয়ে গেলো। রাফিরতো মুখ রক্ষাই দায়! সবচেয়ে বেশি সমালোচনা করছেন নারীরাই!

দিনটা বড়ই মন্দ গেলো তার। বস থেকে শুরু করে অফিস সহকারী সবাই তাকে দেখে মুচকি মুচকি হাসে। যাহোক গর্ভবতী স্ত্রীকে সহায়তা করছে- এতে সে কোনো অন্যায় দেখছে না।

বের হওয়ার সময় অনিককে ডেকে নিল। অনিক তার কাছে লজ্জা প্রকাশ করলেন। আসলে বিষয়টা এমন হবে তিনি নিজেও ভাবেন নি।

যাহোক এভাবে মান-অপমানের জীবনে নিজের কর্তব্যবোধ ভুলেনি রাফি। এভাবেই কয়েকদিন অফিসে গেলো।

একদিন অফিস থেকে ফিরে সে রুটিন মতো ঘুমন্ত রত্নার কপালে চুমু খেলো। আজও বুয়া আসেনি বাথরুমে রত্নার কিছু কাপড় পেলো। ওগুলো ধুয়ে বারান্দায় শুকাতে দিয়ে রুমে ফিরে দেখে তার ও রত্না দুজনেরই বাবা-মা এসেছে।

তাদের দেখে রাফি ভীষণ খুশি হলো। জিজ্ঞেস করলো; কখন এসেছেন আপনারা?

দুপুরের আগেই এসেছি। বউমাকে বলেছিলাম তোমাকে চমকে দেব। তাই সে তোমাকে জানায়নি, বললেন রাফির বাবা।

রত্নাও ততক্ষণে জেগে ওঠে। সন্ধ্যাও হয়ে এসেছে প্রায়। রাফির সাথে সবার কুশল বিনিময় শেষে রত্নার বাবা বলে উঠলেন, সকালে তোমাদের বুয়া তোমার মা-শাশুড়িকে অনেক কথা বলেছে। বিকেলে নিজেরাও দেখলাম। তোমার বাবা আমার বন্ধু মানুষ। আমরা দুজনেই একটা বিষয় খেয়াল করলাম তুমি অফিস থেকে ফিরে আমার ঘুমন্ত মেয়ের কপালে চুপু খেলে। দৃশ্যটা দেখে আমরা অভিভূত। কিন্তু বাবা তুমি আমার মেয়ের কাপড় ধুয়ে শুকাতে দিলে এ দৃশ্যতো পুরুষ মানুষ হিসেবে মেনে নেয়া কষ্টকর।

রত্নার মা বলে উঠলো; বাদ দাওতো ওসব। আজান হচ্ছে দুই বন্ধু মিলে যাওতো নামাজ পড়ে এসো। আমরাও নাস্তা রেডি করছি। নাস্তার পর গল্পগুজব হবে।

রাফির মা কিছু না বলে কেবল মুচকি মুচকি হেসে বেয়ানের সঙ্গে বেরিয়ে গেলেন।

সন্ধ্যার নাস্তার পর ভারি পরিবেশটাই রাফির ভাগ্যে জুটলো। তার বাবা অথবা মা নয় শ্বশুরই বলে বসলেন, জামাই তুমি আমার মেয়েকে ভালোবাসবে এটা স্বাভাবিক কিন্তু বাবা তোমার মাঝে পুরুষালি স্বভাব দেখতে চাই। তুমি যা করছো তা তোমার কাছে ভালো হতে পারে কিন্তু আমার কাছে বিষয়টা ভালো ঠেকছে না।

ঘরে আর সবাই চুপচাপ বসে নাস্তা করছিলো কারো মুখে কথা নেই। রত্নার শরীরটা একটু খারাপ তাই সে আজ বিছানা থেকে ওঠেনি।

রাফি বুঝলো অফিসের সবাইকে এড়িয়ে গেলেও আজ এখানে তাকে জবাব দিতেই হবে। কি আর করার কিছুক্ষণ নীরব থেকে সবার উদ্দেশে বললো; আপনারা সবাই আমার মুরুব্বি; বাবা-মা। আসলে কথাটা বলার সাহস আমার হয়ে উঠছে না। কিন্তু ঘরে-বাইরে যে পরিস্থিতির মধ্যে আমাকে আজ পড়তে হয়েছে তাতে আর না বলে উপায় নেই।

আশাকরি বাস্তবতাটা সবাই মেনে নেবেন। রত্না আর খুব বেশিদিন আমাদের মাঝে নেই!

কথার মাঝে রাফির মা বলে উঠলেন, উল্টো-পাল্টা কথা বলিস নাতো বাবা। আমরা বুঝি তোদের পেটে ধরিনি।

না মা বাচ্চাটা জন্ম দেয়া পর্যন্ত হয়তবা সে সুযোগ পাবে। এই বলে কেঁদে ফেললো রাফি।

কাঁদতে কাঁদতেই বললো- খুব বেশি হলে বাচ্চা জন্মের পর দুই-তিন মাস সময় পাবে। ওর পায়ে গর্ভাবস্থার স্বাভাবিক পানি জমেনি। ওখানে জমেছে রক্ত, হাঁড় পানি হয়ে গেছে। সকল পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ডাক্তার বলেছে- ওর বোন (হাঁড়) ক্যান্সার। হাড় ক্ষয়ে ক্ষয়ে সে শেষ হয়ে যাবে। এ রোগের আর কোনো চিকিৎসা নেই।

এ অবস্থায় সবারই চোখ অশ্রুসজল হলো। আর কারো মুখে কোনো কথা নেই।

রাফি সবাইকে অনুরোধ করলো; সবাই যেনো স্বাভাবিক থাকে।

বললো, আমি চাই ও এসব না জানুক। আজ আর কাল পরপারে সবাইকে যেতে হবে। ও যেহেতু চলেই যাবে তাই স্বস্তিতে যাক।

রাফির অনুভূতি এবং বাস্তবতা সবাই বুঝলো। এরপর থেকে সবাই তাকে সহায়তা শুরু করলো। কেবল অফিসে রাফির অবস্থা এমন খারাপ হলো যে, বসতো দূরের কথা নারী সহকর্মী আর অফিস সহকারীদের কাছেও যেনো তার কোনো মূল্য থাকলো না।

এভাবেই ভালোবাসা দিবসসহ বইমেলার মাসটা চলে গেলো। অফিসে কাজ করছে রাফি এসময় নাদিয়া ছুটে এসে বললো; রাফি ভাই ফোন রিসিভ করছেন না কেনো? ভাবী নাকি ভীষণ অসুস্থ জলদি বাসায় যান।

রাফি ঝটপট উঠে বসকে বলে বাসার দিকে রওয়ানা হলো। এদিকে সে চলে যেতেই নাদিয়া নারীসুলভ কান্না জুড়ে দিলো। যদিও বিলাপ করছিল না। তার হঠাৎ কান্নায় সবাই এগিয়ে এসে কারণ জিজ্ঞেস করলো।

নাদিয়া বললো; ভাবী মারা গেছেন। তার নাকি ক্যান্সার ছিলো। এতদিন আমরা রাফি ভাইকে যেসব কারণে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করতাম সেগুলোর কারণ আজ বুঝতে পারলাম। রাফি ভাই কেন আমাদের কাউকে কিছুই বলতে পারেন নি। তিনি একদিকে ভাবীর জন্য দুশ্চিন্তা করতেন অন্যদিকে আমাদের জ্বালাতন সইতেন।

পুরো অফিসে তখন পিনপতন নীরবতা। কারো মুখে কোনো কথা নেই।

দুঃসময়গুলো চলে গেলো। আবারো একদিন রাফির সেই চুমুর রুটিনের পুনরাবৃত্তি ঘটলো। অফিস থেকে ফিরে ঘুমন্ত একজনের কপালে চুমু খেলো সে। পেছন থেকে মা বলে উঠলো, মেয়েটাকে ঘুমাতে দিবি না!

রাফি বললো; রত্না যেতে যেতে রাইসাকে উপহার দিয়ে গেছে। সাত বছর হয়ে গেলো। স্রষ্টার খেলা দেখ। রত্নার পর বাবাও চলে গেলো। এজন্যইতো তুমি আজ আমার বাসায়। নিজের নাতনীর যত্ন নিতে পারছো।

দেখেছ মা, বছর ঘুরে আবারো ফেব্রুয়ারি এসেছে। ফেব্রুয়ারি এলে বইমেলা আসে সাথে নিয়ে আসে ফাগুন আর ভালোবাসার দিন। মনে যেনো আমারও আগুন লাগে। কাল রাইসাকে নিয়ে বইমেলায় যাবো মা। কাল আর ও বাসায় কোনো পড়াশুনা করবে না

ব্রেকিং নিউজঃ