| |

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে র‌্যাগিং, ছাত্রীসহ দুই শিক্ষার্থী হাসপাতালে

আপডেটঃ 6:51 pm | February 07, 2020

Ad

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের এক ছাত্রীসহ দুই শিক্ষার্থী র‌্যাগিংয়ের শিকার হয়ে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে-বাহিরে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চেকপোস্টের পাশে একটি ছাত্রীবাসে থিয়েটার অ্যান্ড পারফরমেন্স স্টাডিজ বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী ফারহানা রহমান লিয়োনাকে ম্যানার শেখানোর নামে মাত্রাতিরিক্ত র‌্যাগিং করা হয়। এর ফলে মানসিক চাপে মাথা ঘুরে পড়ে যান তিনি। এসময় তাকে উদ্ধার করে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। কিন্তু অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে হাসপাতালের ১০ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করিয়ে চিকিৎসা দিচ্ছেন।

এদিকে, একাধিকবার র‌্যাগিংয়ের শিকার কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ইমরান বৃহস্পতিবার রাতে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান। এরপর শরীরে খিঁচুনি শুরু হয়। পরে তাকেও ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। তিনি এখন হাসপাতালের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন।

হাসপাতালে চিকিৎসারত শিক্ষার্থীদের দেখতে গিয়েছিলেন ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা শেখ সুজন আলী, সহকারী প্রক্টর আল জাবির। র‌্যাগিংয়ের শিকার শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার সকল ব্যয় বহন করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চার সদস্যবিশিষ্ট একটি অ্যান্টি র‌্যাগিং কমিটি গঠন করেছেন, কমিটিতে আহ্বায়ক ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা ড. শেখ সুজন আলী, সদস্য সচিব প্রক্টর ড. উজ্জ্বল কুমার প্রধান, সদস্য অগ্নিবীণা হলের প্রভোস্ট মাসুদ চৌধুরী ও দোলন চাঁপা হলের প্রভোস্ট নুসরাত শারমিন তানিয়া।

বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসাইন জানান, র‌্যাগ বা মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে রবিবার সকাল ১০টায় থিয়েটার অ্যান্ড পারফরমেন্স স্টাডিজ বিভাগ এবং মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে মানববন্ধন করা হবে।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক নবীন এক শিক্ষার্থী জানান, র‌্যাগিংয়ের ঘটনায় ভীত হয়ে ক্যাম্পাসে ক্লাস করতে আসেন না অনেক নবীন শিক্ষার্থী। আবার এ র‌্যাগিংয়ের ভয়ে অনেকেই ছাত্রবাস ছেড়ে বাড়িতেও চলে গেছেন।

এই বিষয়ে সহকারী প্রক্টর আল জাবির বলেন, আমি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলবো। আমি আমার শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা না দিতে পারলে দায়িত্বের কি দরকার। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে এটি স্পষ্ট যে তাদের ওপর মানসিক চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে এবং এতে তারা ভীত হয়ে পড়েছে। এই মানসিক নির্যাতন যারা করেছে; তাদের বিচার না করতে পারলে আমি সহকারী প্রক্টর পদ থেকে পদত্যাগ করবো।

ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা ড. শেখ সুজন আলী বলেন, আমরা তদন্ত না করে কিছু বলতে পারছি না কি কারণে তারা অসুস্থ হয়েছে। তবে আমরা ধারণা করতে পারি তারা হাল্কা র‌্যাগিংয়ের শিকার হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অ্যান্টি র‌্যাগিং কমিটি রয়েছে, আমি এই কমিটির আহ্বায়ক। আমরা আগামী রবিবারে তদন্ত করে এটি বের করবো কেন এমন হয়েছে।

ব্রেকিং নিউজঃ