| |

ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের সাথে মতবিরোধের কারণে পরিষদ সদস্যরা ২৫তম সভায় যোগ দেননি

আপডেটঃ 6:05 pm | February 13, 2020

Ad

স্টাফ রিপোর্টারঃ গত ৯ফেব্রুয়ারী ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের ২৫তম সভাটিতে ২১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির কেউ উপস্থিত হননি। উপস্থিত না হওয়ার কারণ জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মন্তাজ উদ্দিন মন্তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন বিভিন্ন ব্যাপারে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইউসুফ খান পাঠান এর সাথে সদস্যদের সমন্বয়হীনতা, মতভেদ ও অর্থনৈতিক অনৈতিক কর্মকান্ড এর জন্য দায়ী।

তিনি বলেন গত ২৪তম সভায় সদস্যদের সাথে মতবিরোধের কারণে সদস্যরা সেই সভাটিও বয়কট করেছিল। তার পরও চেয়ারম্যান কোন বাস্তবসম্মত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করার ফলে ৯ই ফেব্রুয়ারীর সভাটি সদস্যরা বর্জন করেছে। মন্তাজ উদ্দিন মন্তা আরো বলেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা শারমিনা পারভীন ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পারস্পরিক সহযোগীতায় অন্যান্য সদস্যদের সাথে কোন সংযোগ না রেখে একক সিদ্ধান্তে জেলা পরিষদের সকল কর্মকান্ড পরিচালনা করেন।

আসন্ন মুজিববর্ষ উপলক্ষে সরকারী নির্দেশাবলী শুধুমাত্র কাগজে কলমে সীমাবদ্ধ রেখে বাস্তব কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নাই। যার ফলে জেলা পরিষদের উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাসময়ে সমাপ্তির ব্যাপারে সবাই সন্ধিহান। উন্নয়ণ প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নের ব্যাপারে দীর্ঘসূত্রিতা, সদস্যদের সাথে সমন্বয়হীনতা ও মতামতের মূল্যায়ন না করার ফলে উন্নয়ণ কর্মকান্ড স্থবির হয়ে পড়েছে বলে জানান প্যানেল চেয়ারম্যান মন্তা।

তিনি আরো বলেন, কোন কোন ক্ষেত্রে দুর্ণীতির আশ্রয় গ্রহণ করা হয় যা পরিষদ সদস্যরা মেনে নিতে পারছে না। এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে জেলা পরিষদে ২১জন সদস্য সবাই প্রতিবাদ স্বরূপ ৯ ফেব্রুয়ারী আহুত সভায় যোগদান করেনি। ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠানের সাথে টেলিফোন এবং সাক্ষাতে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি মন্তাজ উদ্দিন মন্তার অভিযোগগুলি অস্বীকার করে বলেন মুজিববর্ষ উৎযাপনের জন্য জেলা পরিষদে কমিটি করে দেয়া হয়েছে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করলে দায়ভার গঠিত কমিটির উপর বর্তায়, চেয়ারম্যানের উপর নয়।

আর্থিক অনিয়মের ব্যাপারে তিনি বলেন, এব্যাপারে কোন সুস্পষ্ট প্রমাণ অভিযোগকারীরা দিতে পারবে না। এটা তাদের হীণস্বার্থ বাস্তবায়নের জন্য অপচেষ্টা মাত্র। তিনি আরো বলেন, উনার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সততা নিয়ে নেতা, কর্মী ও জনগণের মাঝে কোন প্রশ্ন ছিলনা আজো নেই।

তিনি আরো বলেন, রাজনৈতিকভাবে তাকে হেয় করার জন্যই প্রতিপক্ষ এ কাজটি করছে। তিনি উল্লেখ করেন কিছুদিন পূর্বে জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আমিনুল হক শামীম, মন্তাজ উদ্দিন মন্তা ও সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল তার বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্রমূলক মিটিং করে বলে জানান। তার বর্হিপ্রকাশ জেলা পরিষদের ২৫তম সভায় প্রতিফলিত হয়েছে বলে মনে করেন।

তিনি দু:খ প্রকাশ করে বলেন, ব্যক্তিগত ভুলত্রুটি থাকতেই পারে বয়কট কিংবা অনুপস্থিতি সমস্যার সমাধান নয়। আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব। তিনি চাঁদাবাজির ব্যাপারে উল্লেখ করে বলেন, ময়মনসিংহ পরিবহণসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে চাঁদাবাজি সংগঠিত হয় যা সর্বজন স্বীকৃত।

মিটিং এর ব্যাপারে আমিনুল হক শামীমকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ঘুষ ও রাজনীতি দুটি দুজায়গায়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সাথে ঘুষের কোন সম্পর্ক নেই। জেলা পরিষদ সদস্যরা অনিয়ম ও দূর্ণীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে এর সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক আছে বলে আমরা মনে করি না।

এ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল বলেন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের মনোভাব সাম্প্রদায়িক। যা আমার দল আওয়ামীলীগের নীতি বিরুদ্ধ। তার এ মনোভাবের পরিচয় পাওয়ার পর থেকে তাকে আমি পছন্দ করিনা তার মানে এই নয় যে, আমরা তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র করছি। জেলা পরিষদের নির্বাহী প্রধানকে প্রকল্প বাস্তবায়নের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, এ মাস পর্যন্ত জেলা পরিষদে ৮০% প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বাকিগুলো বাস্তবায়নের পথে। মুজিববর্ষ উপলক্ষে সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোন সমন্বয়হীনতা নেই প্রত্যেকটি প্রকল্প যাচাই বাছাই করে অনুমোদিত হয়।

বঙ্গবন্ধুর মুর‌্যাল নির্মাণ, ক্ষণগণনা মেশিন ও লগো যথাযথ জায়গায় ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে ২৮-১২-১৯ তারিখে বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উন্নয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য উপ কমিটি গঠন ও সভা করা হয়েছে। চেয়ারম্যান মহোদয় জেলা পরিষদের সর্বোচ্চ ব্যক্তি। উনার সাথে সমন্বয় রেখেই সরকারের কর্মচারী হিসাবে আমাকে কাজ করতে হয়। ময়মনসিংহ জেলা পরিষদে ২১জন সদস্যের মধ্যে ২/১জন বাদে বাকিদের সাথে আমাদের প্রতিনিধি যোগাযোগ করলে তারা বলেন, প্যানেল চেয়ারম্যান মন্তাজ উদ্দিন মন্তার উত্থাপিত অভিযোগসমূহের সাথে আমরা একমত পোষণ করি।

সদস্যরা হলেনÑ আসমা উল হোস্না, ফারজানা শারমীন, দিলরুবা আক্তার কাজল, আব্দুল খালেক, মোজাম্মেল হক, বেগম জোৎস্নারা মুক্তি, তাজুল ইসলাম বাবুল, মোঃ রুহুল আমীন, মোঃ আব্দুল্লা আল মামুন, একরাম হোসেনসহ অন্যরা। জনৈক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ক্ষণগণনার মেশিনটি সদস্যদের চাঁদায় ক্রয় করা হয়েছে। অধিকাংশ সদস্যরা জানান প্যানেল চেয়ারম্যান মন্তাজ উদ্দিন মন্তার নেতৃত্বে আমরা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ স্বরূপ ৯ই ফেব্রুয়ারীর সভায় যোগদান করিনি।

ব্রেকিং নিউজঃ