| |

জামালপুরে কৃষি জমিতে অবৈধ ভাবে মাটি খনন বন্ধসহ একটি ভেকু মেশিন জব্দ করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত

আপডেটঃ ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২০

Ad

মোঃ রিয়াজুর রহমান লাভলু ঃ  জামালপুর সদর উপজেলার শরিফপুর ইউনিয়নে কৃষি জমিতে অবৈধ ভাবে মাটি খনন করে পুকুর দেওয়াসহ ইটভাটায় মাটি সরবরাহ করার অভিযোগে মাটি খনন বন্ধসহ একটি ভেকু মেশিন জব্দ করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে শরিফপুর ইউনিয়নের বেড়াপাথালিয়া এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের একটি অভিযান পরিচালনা করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফরিদা ইয়াছমিন।

অভিযো সূত্র জানায়, শরিফপুর ইউনিয়নের বেড়াপাথালিয়া এলাকায় যেখানে মৎস্য খামারের জন্য পুকুর খনন করে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করা হচ্ছে সেগুলো শত বছরের পুরনো তিন ফসলি কৃষি জমি।

স্থানীয় কৃষকরা এসব জমিতে আমন, ইরি, বোরো ধান ও সরিষাসহ সারা বছর ধরেই বিভিন্ন ফসল আবাদ করেন। কিন্তু স্থানীয় একটি প্রভাবশালীচক্র কৃষকদের লোভ দেখিয়ে ও চাপ প্রয়োগ করে বছর চুক্তিতে প্রতি বিঘা ৯ হাজার টাকা থেকে ১০ হাজার টাকায় জমি ভাড়া নেয়। ইতিমধ্যে তারা পুকুর খনন করে অবৈধভাবে মাছ চাষ করেও আসছে।

তারা কৃষকের কাছ থেকে জোর করে জমি কিনে নেয়ারও অভিযোগ ও আছে বলে স্থানীরা। অভিযোগ সূত্র আরো জানান, এই চক্রের স্থানীয় গোলাম রব্বানী, রাসেল ও লিটন নামের তিন ব্যক্তি তিন বছর আগে প্রায় ৭০ বিঘা কৃষি জমিতে পুকুর খনন করে গড়ে তুলেছেন বিশাল মৎস্য খামার।

ভূমি ব্যবস্থাপনা আইন ও পরিবেশ ছাত্রপত্র ছাড়াসহ বিভিন্ন আইনকে অমানো করে প্রভাব খাটিয়ে তিন ফসলি কৃষি জমিতে পুকুর দিয়ে অবৈধভাবে মাছ চাষ করে আসছে তারা। এতে করে আবাদি জমি কমে যাওয়ায় কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন।

কৃষকরা বলেন ওই জমিগুলোতে আর কোনোদিন ফসল আবাদ করা যাবে না। ওই চক্রটি গত বছরের ডিসেম্বর মাসে স্থানীয় একজন শিল্পপতি্র ছত্রছায়ায় তার নিজস্ব প্রায় ১৭ বিঘা জমিসহ আরো অন্তত ৬০-৮০ বিঘা আবাদি জমি কৃষকদের প্রলোভন দেখিয়ে ভাড়া নিয়ে বিশাল এলাকাজুড়ে পুকুর খনন করে মাছ চাষের জন্য। সেই পুকুরে গভীর নলকূপ দিয়ে পানি ভরাটের প্রস্তুতি ও নিচ্ছে তারা।

পরবর্তীতে স্থানীয় ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত বছরের ৯ ডিসেম্বর বেড়াপাথালিয়ায় অবৈধ মৎস্য খামার প্রকল্প এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী হাকিম ও সদরের ইউএনও ফরিদা ইয়াছমিন। সে সময় পুকুর খননের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞাকে অমানো করে চক্রটি সেখানে পুকুর খনন কাজ অব্যাহত রেখেছে-এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে সেখানে পুনরায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন ইউএনও ফরিদা ইয়াছমিন। অভিযানের সময় চক্রের কাউকেই ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি।

জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফরিদা ইয়াছমিন বলেন, ওই চক্রটির বিরুদ্ধে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে দেওয়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের নিষেধাক্ষা অমান্য করাসহ আইন ভঙ্গ করে তিন ফসলি জমিতে পুকুর খনন করে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করা, মৎস্য খামার করার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও অনুমোদন না থাকা, বালু মহল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ইট প্রস্তুত ও ভাটার স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন ভঙ্গ করার অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়।

এ সময় জমি খননের কাজে ব্যবহৃত একটি ভেকু মেশিন জব্দ করে শরিফপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের জিম্মায় রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে ভেকু মেশিনটি বিক্রি করে তা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে। একই সাথে ভূমি ব্যবস্থাপনা আইনে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ব্রেকিং নিউজঃ