| |

ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হোক

আপডেটঃ ৭:১৪ অপরাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২০

Ad

প্রদীপ ভৌমিকঃ শিক্ষার জেলা হিসাবে খ্যাত ময়মনসিংহ কৃষিবিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ, কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, প্রাচীন বিদ্যাপিঠ আনন্দমোহন কলেজ, একাধিক সরকারী, বেসরকারী পর্যায়ে টেকনিক্যাল কলেজ এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানসমূহের অবস্থান এই জেলায়। কিন্তু কোন প্রকৌশলী ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নেই।

ময়মনসিংহ জেলা বিভাগে রূপান্তর হওয়ার পর জনপ্রত্যাশা ছিল ময়মনসিংহের খাগডহরে প্রতিষ্ঠিত ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হবে কিন্তু অদ্যাবদী তা বাস্তবায়িত না হওয়ায় শিক্ষার জেলা পূর্ণতা পায়নি।

২০০৭ সালে ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত হয়ে কোন রকমে চলছে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজটি। এই কলেজে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনগনের মাঝে এ নিয়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় যার বহিঃপ্রকাশ ঘটে গত শনিবার ছাত্র বিক্ষোভের মধ্যে দিয়ে।

২০১৫ সালে প্রথমবারের মত শিক্ষার্থীদের ভিতর থেকে আন্দোলন গড়ে উঠে। সেই সময় কলেজটিকে প্রকৌশলী ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করার দাবিসহ পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ, স্থানীয় অধ্যক্ষ নিয়োগ এবং তৎসঙ্গে আরও কিছু দাবি উঠেছিল শিক্ষার্থীদের মাঝ থেকে।

এ লক্ষ্যে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ছাত্রছাত্রীরা ময়মনসিংহের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, জনপ্রতিনিধি, নাগরিক আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ, ময়মনসিংহের মেয়রসহ গুরুত্বপূর্ন ব্যাক্তিবর্গের সাথে যোগাযোগ করে তাদের দাবিগুলি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে আবেদন জানিয়েছিল।

সেই আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ, বিদ্যুৎ সংযোগসহ কতিপয় দাবি বাস্তবায়িত হয়ে ছিল। কিন্তু কলেজটিকে প্রকৌশলী ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হয়নি। ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত একমাত্র ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজটিতে আজও পূর্ণাঙ্গ শিক্ষাব্যাবস্থা বাস্তবায়িত হয়নি বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত কলেজটি।

শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন যে নিয়ম মেনে নিয়োগ প্রক্রিয়া অনুসরন করে সেই মোতাবেক নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রনয়ন করার। বিষয়ভিত্তিক পর্যাপ্ত অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক নিয়োগ করে শিক্ষাব্যাবস্থার মান উন্নয়ন করা।

নিজস্ব ভর্তী পদ্ধতি চালু, বিজ্ঞানগাড়ের উন্নয়ন ও বিশেষায়িত বিজ্ঞানাগার স্থাপন, জনবলের অভাবে প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে তা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমাধান করাসহ অপরাপর সমস্যাগুলির স্থায়ী সমাধান করে ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে একটি পূর্ণাঙ্গ ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা।

শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য নতুন করে বাস ও অসুস্থ ছাত্র এবং শিক্ষক কর্মচারীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে প্রেরণের জন্য একটি এ্যামম্ব্যুালেন্স ক্রয় করাসহ নতুন ছাত্রাবাস নির্মাণকরে শিক্ষার্থীদের বাসস্থান সমস্যার সমাধান করার জন্য কলেজের শিক্ষার্থীরা ময়মনসিংহ টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ জানায়।

এই প্রতিবাদের প্রতি ময়মনসিংহবাসীর সমর্থন রয়েছে। ময়মনসিংহবাসী মনে করে ময়মনসিংহে একটি পূর্ণাঙ্গ ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা উচিত। এ ব্যাপারে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ইকরামুল হক টিটুর সাথে কথা বলে জানা যায় ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করার দাবির প্রতি তিনি একমত।

তিনিও স্বপ্ন দেখেন ময়মনসিংহে একটি পূর্ণাঙ্গ ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হউক। এ ব্যাপারে তিনি সরকারের শিক্ষামন্ত্রীসহ নীতিনির্ধারকদের সাথে কথা বলেছেন। প্রয়োজনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথেও এ ব্যাপারে কথা বলবেন।

ময়মনসিংহ নাগরিক আন্দোলনের সাধারন সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার নুরুল আমিন কালাম বলেন শিক্ষানগরী ময়মনসিংহে একটি ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা সময়ের দাবি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য ময়মনসিংহের নাগরিকরা যে কোন ত্যাগ করতে রাজি।

সাবেক ছাত্রনেতা আনন্দমোহন কলেজের সাবেক ভিপি ময়মনসিংহ জেলা আঃলীগের সাধারন সম্পাদক এড. মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল বলেন ময়মনসিংহের জনগন ও শিক্ষার্থীদের এই দাবিটিকে সরকারের পূরণ করা সর্বাঙ্গে প্রয়োজন। দৈনিক শ্বাশত বাংলার সম্পাদক সাবেক ছাত্রনেতা আজগর হোসেন রবিন বলেন ময়মনসিংহের অনেক শিক্ষার্থী সুযোগের অভাবে দেশের অন্যান্য ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে পারেন না।

তাই আমি মনে করি ময়মনসিংহে ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপন করা একান্ত প্রয়োজন। ময়মনসিংহ মহানগর আঃলীগের সাধারন সম্পাদক মোহিতুর রহমান শান্ত ময়মনসিংহবাসীর ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করার দাবিটির প্রতি একাত্ত্বতাজ্ঞাপন করে বলেন এটি পূরণের জন্য সরকারের উচ্চ পর্যায়ে প্রয়োজন হলে আমরা দাবি তুলব।

আনন্দমোহন কলেজের সাবেক জিএস ও ময়মনসিংহ আঃলীগের যুগ্ম সম্পাদক কাজী আজাদ জাহান শামীম বলেন ময়মনসিংহের অনেক দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থী আর্থিক অসচ্ছলতার জন্যে জেলার বাইরের ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে পড়াশোনা করতে পারেনা।

ময়মনসিংহে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা হলে নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানরা লেখাপড়া করার সুযোগ পাবে। ময়মনসিংহের জনগন শিক্ষার প্রসারের জন্য মুজীব শতবর্ষ উপলক্ষে ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজটিকে বিশ্ববিদ্যালয়রূপে রূপান্তরের প্রত্যাশা করে।

ব্রেকিং নিউজঃ