| |

মানবিক গুন সম্পন্ন পুলিশ অফিসার আশিকুর রহমান পি.পি.এম

আপডেটঃ 7:19 pm | February 24, 2020

Ad

প্রদীপ ভৌমিকঃ আশিকুর রহমান বর্তমানে রাজবাড়ির দৌলদিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ। একজন মানবিক গুন সম্পন্ন অফিসার হিসেবে যিনি খ্যাতি অর্জন করেছেন। উনার সাথে আমার পরিচয় তিনি যখন ময়মনসিংহ জেলার ডিবিতে অফিসার ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্বপালন করেছেন।

বয়সে তরুণ, উদ্যোমী আর কর্মঠ অফিসার হিসেবে তার সুনাম তখন ময়মনসিংহ জেলায় ছড়িয়ে পরেছে। সাংবাদিকতার প্রয়োজনে সাক্ষাৎকার নেওয়ার জন্য দৈনিক উর্মীবাংলার নির্বাহী সম্পাদক সুমন ভৌমিক, বদরুল আমিনসহ আমি উনার ডিবি অফিসে দেখা করি। মোবাইলে তার সাথে সাক্ষাৎকারের ব্যাপারটি অভহিত করলে সে আমাকে সকাল ১০টায় ডিবি অফিসে আসতে বলেন। ১০টায় ডিবি অফিসে গিয়ে দেখি তিনি আমাদের জন্য অপেক্ষা করছেন।

উনার এই সময়ানুবর্তিতা আমাকে মুগ্ধ করে। পরিচয় পর্বে তিনি আমাকে তার পরিচয় দিতে গিয়ে বলেন ছাত্রজীবনে তিনি ছাত্রলীগের আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন। মুজীব আদর্শই তার আদর্শ। আমার পরিচয় জানাতে গেলে আমাকে কিছু বলতে না দিয়ে তিনি বলেন আপনি জেলা ছাত্রলীগ করেছেন।

আঃলীগের দুঃসময়ে বিএনপি ও জামাত সরকারের আমলে জেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। এখন সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত। আগে ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমানের লোক হিসেবে চিহ্নিত ছিলেন। এখন মেয়র টিটুর বিশ্বস্থ কাছের লোক বলে পরিচিত। আমি তাকে প্রশ্ন করলাম আপনি এগুলি জানলেন কোথা থেকে? তিনি হেসে উত্তর দিয়ে বললেন ডিবিতে চাকরী করছি রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে প্রত্যেক উল্লেখযোগ্য মানুষ, সন্ত্রাসী ও সমাজবিরোধীদের খবর এই জেলায় এসেই সংগ্রহ করতে হয়েছে।

আমি বুঝে নিলাম কতটুকু বিচক্ষন হলে পরে তার পক্ষে এটা সম্ভব। সেই সময় সারা বাংলাদেশের মত ময়মনসিংহেও মাদকের প্রচন্ড তান্ডব। পাড়ামহল্লা থেকে শুরু করে স্কুল কলেজ মাদকের থাবায় বিপর্যস্থ। এক কথায় বাংলাদেশের অধিকাংশ এলাকায় উঠতি তরুণ থেকে শুরু করে শ্রমজীবি মানুষের মধ্যে ফেন্সিডিল, ইয়াবাসহ অপরাপর মাদক প্রচন্ডভাবে বিস্তার লাভ করেছে।

ময়মনসিংহেও এর বাইরে ছিলনা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে বিশ্বাসী হয়ে দেশ থেকে মাদক নির্মূলের নির্দেশ দিলেন প্রশাসনের উপর। স্বাভাবিকভাবেই ওসি ডিবির উপরেও দায়িত্ববর্তাল। আমি আশিকুর রহমানকে জিজ্ঞেশ করলাম মাদক নির্মূল করতে পারবেনকি? তিনি হেসে উত্তর দিলেন একমাস সময় দিন দেখাযাক কি করতে পারি।

সারাদেশব্যাপী শুরু হলো মাদক নির্মূল অভিযান। ময়মনসিংহ শহর থেকে শুরু করে জেলার প্রত্যন্ত গ্রামে-গঞ্জে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার ফলে মাদকের প্রভাব শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। যার কৃতিত্বের দাবিদার তৎকালীন ময়মনসিংহের ওসি ডিবি আশিকুর রহমানের।

সেই সময় একদিন আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম আপনার বিরুদ্ধে ক্রস ফায়ারের অভিযোগ আছে আপনার শুনতে খারাপ লাগে না? উত্তরে আশিকুর রহমান বললেন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মাদক নির্মূল করার জন্য যদি আমার মৃত্যুও হয় তাহলেও আমার কোন দুঃখ নেই। প্রধানমন্ত্রীর মাদকমুক্ত দেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে যা করা দরকার আমি তাই করব।

তারপর ময়মনসিংহের স্থানীয় রাজনীতির খেলায় সুনাম দুর্নাম কাধে নিয়ে তিনি ময়মনসিংহ হতে বদলি হয়ে চলে গেলেন। ময়মনসিংহে এই প্রথম একজন পুলিশ অফিসারের বদলির খবরে ডিবি ওসি আশিকের বদলি বাতিলের দাবিতে মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

যখন জানতে পারলাম ফরিদপুরের রাজবাড়ী জেলার দৌলদিয়া থানায় তিনি বদলি হয়েছেন এর কিছুদিন পরেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখতে পেলাম ওসি আশিকুর রহমান দৌলদিয়ার পতিতালয়ে স্বশরিরে এসে অভিযোগ শুনেন মামলা গ্রহন করেন এবং মীমাংসা করে দেন।

উনি দৌলদিয়া থানায় গিয়ে ঘোষনা করেছেন থানায় ঢুকতে কোন অনুমতির প্রয়োজন নেই সরাসরি রুমে ঢুকবেন ওসিকে স্যার বলার দরকার নেই। উনার এই ঘোষনার মধ্যে দিয়ে প্রমাণ হয় উনি কতটুকু জনবান্ধব পুলিশ অফিসার। ময়মনসিংহে থাকা অবস্থায় ওসি আশিকুর রহমানের অনেক মানবিক গুনের খবর পেয়েছি যা আজকে প্রকাশ করলাম না।

এখন তার সবচেয়ে বড় মানবিক গুনের ঘটনা যা জনসমক্ষে প্রকাশিত হওয়ার পর দেশে বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে সে প্রসঙ্গটি তুলে ধরব। দৌলদিয়া বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পতিতালয়। আমাদের দেশে পতিতাদের মৃত্যুর পর মাটি চাপা অথবা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয় কেউ তার জানাযা পড়তে চায়না কিংবা কবর দিতে চায়না কিন্তু আশিকুর রহমান তার ব্যতিক্রম।

৬ই ফেব্রুয়ারী হামিদা বেগম নামে একজন বয়স্ক পতিতা মারা যাওয়ার পর আশিকুর রহমান তার জানাযা ও কবরের ব্যবস্থা করেন। তার এই ঘটনাটির পর আশিকুর রহমানের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায় আশিকুর রহমান তাতে থেমে না গিয়ে পরবর্তী আরও দুইজন পতিতা পারভিন ও রীণা বেগমকে দৌলদিয়ার যৌন পল্লীতে মৃত্যুর পর শতপ্রতিকুলতাকে অতিক্রম করে নিজ কাধে করে পতিতাপল্লী সংলগ্ন গোরস্থানে নিয়ে দাফন করেন।

দৌলদিয়ার সমস্ত সামাজিক ও ধর্মীয় বাধাকে অতিক্রম করে মানুষ হিসেবে পতিতাদের ন্যায্য প্রাপ্তির প্রতিষ্ঠা করেছেন আশিকুর রহমান। দেশ বিদেশে তার এই কর্মকান্ডকে মানবতার জয় বলে আখ্যায়িত করেছে বিভিন্ন মানবতাবাদী সংগঠনগুলি। অভিনন্দন আশিকুর রহমান তোমাকে।

ব্রেকিং নিউজঃ