| |

জামালপুরে রানীগঞ্জ বাজার যৌনপল্লীতে মাদকবিরোধী অভিযানে দুজন মাদক ব্যবসারী আটক

আপডেটঃ 7:36 pm | February 25, 2020

Ad

মোঃ রিয়াজুর রহমান লাভলু ঃ  জামালপুর রানীগঞ্জ বাজার যৌনপল্লীতে মাদকবিরোধী অভিযানে একজন মাদক ব্যবসারীকে আটক করাকে কেন্দ্র করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের একটি মাইক্রোবাস ভাঙচুর এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশের কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ ও টাস্কফোর্স সদস্যদের বন্দুকের বাটের পিটুনিতে কয়েকজন যৌনকর্মী আহত হয়। সোমবার দুপুরে জেলা টাস্কফোর্স এ অভিযান চালায়।

অভিযানে আব্দুল হালিম (৩৮) ও মোঃ আলম (৩৬) নামে দুজন মাদক ব্যবসারীকে আটক করা হয়। তবে ঘটনাস্থলে কোনো ফাঁকাগুলি এবং যৌনকর্মীদের মারধর করা হয়নি বলে দাবি করেন অভিযানে থাকা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একজন পরিদর্শক। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানায়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জামালপুর শহরের রানীগঞ্জ বাজার যৌনপল্লীতে মাদকবিরোধী অভিযান চালায় জেলা টাস্কফোর্স। অভিযানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্বে ছিলেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নেজারত শাখার ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) মোঃ আবু আব্দুল্লাহ খান।

অভিযানের সময় যৌনপল্লীর বাইরে বংশখালের গলি থেকে চিহ্নিত মাদক ব্যবসারী ও যৌনপল্লীর মুদি দোকানি হালিমকে আটক করে ট্রাস্কফোর্স সদস্যরা। আটক হালিম জামালপুর শহরের মুসলিমাবাদ এলাকার মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে। পরে তাকে নিয়ে যৌনপল্লীর সর্দারনি কবিতার ঘরে মাদক উদ্ধারে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এ সময় যৌনকর্মীদের সাথে টাস্কফোর্স সদস্যদের বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে যৌনকর্মীরা হামলা চালানোর চেষ্টা করলে টাস্কফোর্স সদস্যরা বন্দুকের বাট দিয়ে যৌনকর্মীদের পিটুনি দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে কবিতা, আলেয়া ও গোলাপীসহ ৬/৭ জন যৌনকর্মী আহত হন।

এক পর্যায়ে অভিযানে থাকা টাস্কফোর্সের পুলিশ ৬/৭ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে যৌনপল্লী থেকে বেরিয়ে যাবার সময় বিক্ষুব্ধ যৌনকর্মীরা ভ্রাম্যমাণ আদালতের একটি গাড়ির বহরে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে বহরের একটি মাইক্রোবাসের পেছনের কাঁচ সম্পূর্ণ ভেঙে যায়। এদিকে যৌনপল্লীর ওই ঘটনায় আটক মাদক ব্যবসারী হালিমের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী শহরের চালাপাড়া এলাকা থেকে মোঃ আলম নামে আরেক জন চিহ্নিত মাদক ব্যবসারীকে আটক করেন টার্স্কফোর্স।

আটক আলম শহরের চালাপাড়া এলাকার আব্দুস সাত্তারের ছেলে। বিকেল চারটা পর্যন্ত টাস্কফোর্সের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মোঃ হুমায়ূন কবির ভূইয়া।

এদিকে পুলিশের নির্যাতনের শিকার পতিতা সর্দারনি কবিতা অভিযোগ করে বলেন, বাইরে থেইকা কারে ধরছে তা নিয়া আমাদের কোনো কথা নাই। তবে কোনো কারণ ছাড়াই আমাকে এবং আমাদের কয়েকজন যৌনকর্মীকে বন্দুকের বাট দিয়া পিটাইছে এবং মারধর করছে। তারা ৬/৭ বার গুলিও করছে।

আমরা এ ঘটনার বিচার চাই। জামালপুর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মোঃ হুমায়ুন কবীর জানান, টাস্কফোর্সের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযান শেষে আটক মাদক ব্যবসারীদের বিরুদ্ধে এবং হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। অভিযানের গাড়ির বহরে হামলা করে একটি মাইক্রোবাসের কাঁচ ভাঙচুরের কথা স্বীকার করলেও সেখানে কোনো ফাঁকাগুলি বর্ষণ এবং যৌনকর্মীদের মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে তিনি জানান।

ব্রেকিং নিউজঃ