| |

চীনে করোনা ভাইরাস অভিযোগের তীর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দিকে

আপডেটঃ 6:59 pm | February 26, 2020

Ad

প্রদীপ ভৌমিকঃ করোনা ভাইরাস একটি জীবনু মারনাস্ত্র বলে সারা পৃথীবিতে আজ আলোচিত হচ্ছে। এই মারনাস্ত্রটির স্রষ্টা কোন দেশ তা নিয়ে সুষ্পষ্ট কোন ব্যাখা পাওয়া যাচ্ছেনা।

কিন্তু কেউ কেউ এই ভাইরাসটির সৃষ্টির জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আবার কেউ চীনকে দায়ী করছে। কার ধারনা চীন একটি বিশেষ ধরনের ল্যাবে করোনা ভাইরাস উৎপাদন করা কালে অসতর্ক মূহুর্তে এই ভাইরাসটি ল্যাব থেকে বেড়িয়ে চীনের উহান শহরে ছড়িয়ে পরে।

অপরপক্ষের ধারনা চীনকে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করার জন্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই জীবনু মারনাস্ত্রটি তৈরি করে কৌশলে চীনে ছড়িয়ে দিয়েছে। উদ্দেশ্যে চীনের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্থ করে যুক্তরাষ্ট্রের উপর নির্ভরশীলতা বাড়ানো।

বর্তমান বিশ্বে চীন একটি অগ্রসরমান অর্থনৈতিক শক্তিধর দেশ। বিশ্ব অর্থনৈতির মোড়ল যুক্তরাষ্ট্রকে কোন কোন ক্ষেত্রে পৃথীবিতে পিছনে ফেলে এগিয়ে গেছে চীন। চীন বর্তমানে রপ্তানি নির্ভর দেশ। চীনের কাচামালের উপর উন্নত বিশ্বের অনেক দেশ নির্ভরশীল। বিশ্ব অর্থনীতিতে এই দশকে যুক্তরাষ্ট্রের উপর সফলভাবে থাবা বসাতে শুরু করেছিল চীন।

এমন অবস্থা চলতে থাকলে পৃথীবির ১নং অর্থনৈতিক শক্তিধারী যুক্তরাষ্ট্রকে পিছনে ফেলে শ্রেষ্টত্বের স্থান চীন দখল করে নিতে পারে এই আশংঙ্কা থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হয়তবা সামরিক আক্রমনের পরিবর্তে করোনা ভাইরাস দ্বারা আক্রমন চালায়

চীন বর্তমানে রপ্তানি বাণিজ্যের পৃথীবির অন্যতম দেশ। চীনের সাথে যে সমস্ত দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে করোনা ভাইরাসের প্রভাব সে দেশগুলির উপরে পরতে পারে এই আশঙ্কায় উন্নত, স্বল্পন্নোত ও দ্রুত উন্নয়নশীল দেশগুলি মুখ ঘুরিয়ে নিতে শুরু করেছে। এ অবস্থায় বিশ্ব বাণিজ্যে একটি অস্থিতিশীল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে যার শিকার হচ্ছে চীন।

চীনের কাচামালের উপর ও পণ্যের উপর যে সমস্ত দেশ নির্ভরশীল বিশেষত বাংলাদেশের মত দেশের গার্মেন্টস শিল্পের কাচামাল চীনের উপর নির্ভরশীল। সেই সরবরাহে যদি বিঘ্ন ঘটে তাহলে বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্প সবচাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে।

এ অবস্থা থেকে বাচার জন্যে বাংলাদেশ, শ্রীলংকা, পাকিস্তানের মত দেশগুলি চীনকে বাদ দিয়ে অপরাপর শিল্পন্নোত দেশের মূখপেক্ষী হবে। যার ফলে অধিক মূল্য দিয়ে কাচামাল ক্রয় করতে হবে। যার পরিপ্রেক্ষিতে এই দেশগুলির অর্থনীতি ব্যাপক বিপর্যয়ের সম্মুখিন হবে। গত এক দশক যাবৎ চীনের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক যুদ্ধ চলে আসছিল।

আন্তর্জাতিক শিল্প বাজারসমূহ একের পর এক চীনের হাতে চলে যাচ্ছিল। এ অবস্থা এড়াতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাধ্য হয়ে চীনের সাথে বানিজ্যক চুক্তি স্বাক্ষর করে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা ধারনা করছেন অর্থনৈতিকভাবে চীনকে দূর্বল ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি নির্ভরশীল করতেই চীনের উপর এই করোনা ভাইরাসের আক্রমন করা হয়েছে।

প্রমাণসরূপ তারা বলছেন চীনে করোনা ভাইরাসের প্রথমদিকে আক্রান্ত হয়ে উহান শহরে যে সমস্ত চীনা নাগরিক মারা যায় তার মধ্যে একজন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক রয়েছে। তারা বলছেন হয়তবা সেই নাগরিকের দ্বারা চীনের উহান শহরে এই করোনা ভাইরাসের আক্রমন চালানো হয়েছিল। শিল্প ও গাড়ির খুচরা যন্ত্রাংশের সরবরাহের কেন্দ্র হলো চীনের উহান। হাইটেক শিল্পের যন্ত্রাংশ ও স্মার্ট ফোনের যন্ত্রাংশ তৈরি হয় চীনে। যা কম মূল্যে পৃথিবীব্যাপী সরবরাহ করে চীন।

অটো শিল্পের কারাখানাও উহানে অবস্থিত। অত্যাধুনিক বাস ও কার উৎপন্ন হয় উহানে। ২০১৮ সালের তথ্য অনুযায়ী ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, ইতালি ও থাইল্যান্ড যে গাড়ি ও গাড়ির যন্ত্রাংশ তৈরি করে চীনে তার চাইতে কম খরচে উৎপাদন করা হয়। তার ফলে সারাবিশ্বে শিল্প বাণিজ্যে চীন সবচাইতে বেশি এগিয়ে।

শিল্প নগরী উহানে করোনা ভাইরাসের আক্রমনের ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে চীনের বিপর্যয় অবসম্ভাবী। শিল্পন্নোত দেশগুলি হয়ত এ বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে পারে কিন্তু বাংলাদেশের মত দেশগুলি এ অবস্থা থেকে কাটিয়ে উঠা কষ্টসাধ্য। তাই বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশগুলি চীনের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হবে। এই ধারনা থেকেই নতুন বাণিজ্য বাজারের প্রাপ্তি লাভের আশায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হয়তবা চীনের উপর করোনা ভাইরাসের আক্রমন ঘটিয়েছে।

জীবানুঅস্ত্র পারমানবিক অস্ত্রের চাইতেও শক্তিশালী। যেহেতু চীনের শিল্পন্নোয়ন মানব শ্রমের উপর নির্ভরশীল ্এই অবস্থাটাকে বিপর্যস্থ করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চীনের উপর জীবাণু আক্রমন চালিয়েছে যাতে করে চীনের দক্ষ মানব শ্রম বিপর্যয়ের সম্মুখিন হয়। ১৯৭২ সালে বায়োলজিক্যাল উয়েপন্স কনভেনশন চুক্তিতে স্বাক্ষর করে চীন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ অপরাপর দেশগুলি। যার উদ্দেশ্য তারা কোন প্রকার জীবাণু অস্ত্র তৈরি করবেনা।

তা সত্ত্বেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জর্জিয়ায় গোপন ল্যাবে এই অস্ত্র তৈরি করছে। করোনা ভাইরাস জর্জিয়ার একটি ল্যাবে তৈরি হচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা জানান। শিল্পসমৃদ্ধ চীনের হুবাই প্রদেশের রাজধানী উবানে কৌশলে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে দিয়ে উৎপাদন ও অর্থনীতিকে পঙ্গু করার মাধ্যমে চীনের উপর আধিপত্য বিস্তারের প্রচেষ্ঠায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হয়তবা এই কাজটি করতে পারে বলে ধারনা আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের।

অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে মোড়লের দাবিদার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ ধরণের একটি বিপর্যয় সৃষ্টি করে চীনকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূখপেক্ষি করার প্রচেষ্ঠা থাকতে পারে। বিশ্বব্যাপী চীনের রাজনৈতিক প্রভাব ও অর্থনৈতিক সম্মৃদ্ধিকে ক্ষতিগ্রস্থ করাই ছিল করোনা ভাইরাস দিয়ে আক্রমনের মূল কারণ। বিশ্ব বিশ্লেষকদের অভিযোগের তীর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দিকেই।

ব্রেকিং নিউজঃ