| |

গফরগাঁওয়ে তৃতীয়বারের মতো অধ্যক্ষ পদে মেয়াদ বৃদ্ধির চেষ্টায় ক্ষোভ

আপডেটঃ 3:54 pm | March 01, 2020

Ad

তারেক সরকার গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে আব্দুর রহমান কলেজের অধ্যক্ষ পদে দুই ধাপে তিন বছর সময় বাড়িয়ে পুনঃরায় সময় বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাওযায় কলেজের পাঠদানসহ প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় অভিভাবক মহলে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কান্দিপাড়া আব্দুর রহমান কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ কায়সার হোসেন ভূঁইয়া ২০১৭ সালে ৩১ ডিসেম্বর চাকুরীর মেয়াদকাল শেষ করেন।

পরে প্রথম ধাপে ২০১৭ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দুইবছরের চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি করে। মেয়াদপূর্তি হওয়ার পর পরই তিনি ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ সালে আরো এক বছরের মেয়াদ বৃদ্ধি করে। ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে তৃতীয়বারের মতো পুনরায় মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করে। ২০২০ সালের দুই মাস পার হয়ে গেলেও এখনো তিনি স্বপদে বহাল তবিয়তে আছেন। দুই মাসের কলেজে উপস্থিত হয়েছেন মাত্র তিন দিন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় তিনি কোন দায়িত্ব হস্তান্তর করছেন না। এদিকে তিনি বেতন-ভাতাদি কাগজপত্রে স্বাক্ষরও করতে পারছেন না।

গত জানুয়ারী মাসের বেতন তুলতে জটিলতা সৃষ্টি হলে স্থানীয় এমপির হস্তক্ষেপে শেষের দিকে বেতন উত্তোলন করতে সক্ষম হন শিক্ষকরা। ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদ সদস্য ফাহমী গোলন্দাজ বাবেল এমপির প্রচেষ্টাই ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানে তিনতলা আধুনিক ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। শিক্ষার মানোন্নয়নে তিনি নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। উত্তরোত্তর সমৃদ্ধির পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অধ্যক্ষের পুনঃ পুনঃ মেয়াদ বৃদ্ধির চেষ্টার ফলে।

নিয়ম অনুযায়ী তিনি একজন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের ওপর দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দায়িত্ব পাওয়ার ৬ মাসের মধ্যে অধ্যক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন। দায়িত্ব না ছাড়ার কারণে একদিকে যেমন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নেয়া যাচ্ছে না। অপরদিকে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে আছে। শেষ ভালো যার সব ভালো তার। তাই মেয়াদ শেষ হওয়াতে অধ্যক্ষ মোঃ কায়সার হোসেন ভূঁইয়া সসম্মানে ভার অর্পণ করে বিদায় নিবেন এমনটাই দাবি অভিভাবক মহলে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক বলেন, এভাবে একটি কলেজ চলতে পারে না। সামনের এইচএসসি পরীক্ষা। অনিয়মে ফলাফল খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। অধ্যক্ষ নিয়মিত কলেজে না আসায় স্বেচ্ছাচারিতা দেখা দিয়েছে। প্রশাসনিকসহ শ্রেণি পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এ বিষয়ে অভিভাবকরা বলেন, কলেজে ঠিকমতো ক্লাস হচ্ছে না।

কলেজের তিনি কোন খোঁজ খবর রাখেন না। মেয়াদ বাড়িয়ে চেয়ার দখল করে রেখেছেন। এনিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে গ্রুপিং চলছে যার প্রভাব শিক্ষার্থীদের উপর পড়েছে। এ বিষয়ে জানতে অধ্যক্ষ মোঃ কায়সার হোসেন ভূঁইয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি। উপাধ্যক্ষ শফিকুল কাদির কলেজের সমস্যা গুলোর কথা স্বীকার করে বলেন, মাননীয় এমপি মহোদয় অত্র প্রতিষ্ঠানের সভাপতি। উনার পৃষ্ঠপোষকতায় সুন্দরভাবে সকল কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি অত্যন্ত সচেতন আছেন উদ্ভূত সমস্যা দ্রুত সমাধানে তিনি তৎপর আছেন। ময়মনসিংহ ১০ গফরগাঁও আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ফাহমী গোলন্দাজ বাবেল বলেন, ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটির কমিটি ও শিক্ষকদের সাথে আলোচনা করে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ব্রেকিং নিউজঃ