| |

দেশে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত ৩ জন: আইইডিসিআর

আপডেটঃ 10:17 pm | March 08, 2020

Ad

বাংলাদেশে তিনজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। সরকারের এই প্রতিষ্ঠানটি বলছে,  দেশে তিনজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া পর্যবেক্ষণে রয়েছেন দুইজন।

রোববার (০৮ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর মহাখালীর আইইডিসিআর-এর কার্যালয়ে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা এ তথ্য জানান।

এ সময় আইইডিসিআর-এর প্রিন্সিপাল সায়েন্টিফিক অফিসার ডা. এএসএম আলমগীরও উপস্থিত ছিলেন।

ডা. ফ্লোরা বলেন, যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের দুইজন ইতালি থেকে সম্প্রতি বাংলাদেশে এসেছেন। দেশে এলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাদের কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি শনাক্ত করা হয়। আক্রান্ত একজনের মাধ্যমে পরবর্তীতে একই পরিবারের আরও এক সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন।

‘তিনজনের মধ্যে একজন নারী, দুইজন পুরুষ। তাদের বয়স ২০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে,’ যোগ করেন তিনি।

গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহানে প্রথম করোনা ভাইরাসের সন্ধান পাওয়া যায়। পরে তা ছড়িয়ে পড়ে দেশটির অন্যান্য প্রদেশেও। এখন তা ছড়িয়েছে বিশ্বের নানা দেশে।

এর আগে ভারত ও পাকিস্তানেও করোনায় আক্রান্ত রোগী পাওয়া যায়। কিন্তু বাংলাদেশে রোগী শনাক্ত হওয়ার ঘটনা এই প্রথম।

ডা. ফ্লোরা বলেন, ‘বাংলাদেশে করোনা ছড়িয়ে পড়ার মতো কোনো পরিস্থিতি হয়নি। স্কুল-কলেজ বন্ধ করে দেওয়ার মতোও সময় আসেনি।’

তবে করোনা প্রতিরোধে প্রয়োজন না হলে জনসমাগমে না যাওয়ার জন্য পরামর্শ দেন এই চিকিৎসক। তার মতে, ‘করোনা প্রতিরোধে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া আছে। আইসোলেশেন ইউনিট করা হয়েছে।’

ডা. ফ্লোরা বলেন, ‘ভাইরাসটি আরও ছড়িয়ে পড়বে-এমন আশঙ্কা করছি না। এছাড়া প্রত্যেকের মাস্ক পরে ঘুরে বেড়ানোরও কোনো দরকার নেই।’

এদিকে বিশ্বব্যাপী এ ভাইরাসে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৬ হাজার ১৯৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। এতে মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ৬০০ জনের; এর মধ্যে চীনেই মারা গেছেন ৩ হাজার ৯৭ জন নাগরিক। আর চীনসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন এ ভাইরাসে আক্রান্ত ৬০ হাজার ১৯০ জন।

বিশ্বব্যাপী ১০৩টি দেশ ও অঞ্চলে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে। তবে সবচেয়ে মৃত্যু হয়েছে চীনে। এরপরই অবস্থান দক্ষিণ কোরিয়ার। পূর্ব এশিয়ার দেশটিতে এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৭ হাজার ১৩৪। আর মৃত্যু হয়েছে ৫০ জনের।

চীনের বাইরে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ইতালিতে। ইউরোপের উন্নত দেশটিতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার ৮৮৩। আর মারা গেছেন ২৩৩ জন।

এছাড়া পশ্চিম এশিয়ার দেশ ইরানে এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৫৬৬ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে; মারা গেছে ১৯৪ জন। এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন দেশটির কয়েকজন আইনপ্রণেতাও।

জাপানে নোঙ্গর করা প্রমোদতরী ডায়মন্ড প্রিন্সেসের ৬৯৬ যাত্রী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয় এবং মৃত্যু হয়েছে ছয়জনের। যুক্তরাষ্ট্রে মারা গেছে ১৮জন। অনেকে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালেও ভর্তি রয়েছে।

ব্রেকিং নিউজঃ