| |

চীনা অস্ত্রের দ্বিতীয় শীর্ষ ক্রেতা বাংলাদেশ

আপডেটঃ 7:26 pm | February 22, 2016

Ad

আলোকিত ময়মনসিংহ  : বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অস্ত্র উৎপাদকারী দেশ চীন গত পাঁচ বছরে তাদের রপ্তানী প্রায় দ্বিগুন করেছে। দেশটির কাছ থেকে অস্ত্র ক্রয়ে শীর্ষ অবস্থানে আছে পাকিস্তান। চীনা অস্ত্র ক্রয়ে দ্বিতীয় শীর্ষ দেশ হিসেবে আছে বাংলাদেশ এবং তার পরেই আছে মিয়ানমার।

সোমবার আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের’ (সিপরি) এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ তথ্য। তারা জানায়, অস্ত্র রপ্তানির দিক থেকে বর্তমানে বিশ্বে তৃতীয় অবস্থানে আছে চীন। নিজেদের মূলধনের একটি বড় অংশই অস্ত্র উৎপাদনে বিনিয়োগ করছে দেশটি।

তবে শুধু রপ্তানি বৃদ্ধিই নয়, বাইরের দেশ থেকে অস্ত্র আমদানির পরিমাণও কমিয়েছে চীন। ২০১১ সাল থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে ২৫ শতাংশ অস্ত্র আমদানি কমিয়েছে দেশটি। এতে বোঝা যায়, কিছু সমস্যা থাকা সত্ত্বেও দেশি অস্ত্রের ওপর দিন দিন আস্থা বাড়ছে চীনের।

সিপরি’র মতে, চীনের হালকা অস্ত্রসহ চীনের প্রধান প্রধান অস্ত্র রপ্তানির পরিমাণ ২০১১ থেকে ২০১৫ সারের মধ্যে ৮৮ শতাংশ বেড়েছে। তবে এই সময়ের মধ্যে বিশ্বে মোট অস্ত্র রপ্তানিতে চীনের অংশ ৫.৯ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি অস্ত্র রপ্তানি করে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার পরেই রয়েছে রাশিয়া।

সিপরি’র জ্যেষ্ঠ গবেষক সিমন ওয়েজম্যান বলেন, ‘১০ বছর আগেও চীনারা শুধু নিম্ন প্রযুক্তির অস্ত্র বিক্রিতে সক্ষম ছিল। তবে এর পরিবর্তন ঘটেছে। এখন তারা যে ধরনের অস্ত্র উৎপাদন করে তা ১০ বছর আগের চেয়ে অনেক উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন। এতে তারা বৃহত্তর বাজারে প্রবেশ করতে পারছে।’

রয়টার্সের এক প্রতিবেদন অনুসারে, দক্ষিণ চীন সাগর এবং ভারত মহাসাগরে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে দেশি অস্ত্র উৎপাদনে শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে চীন। এছাড়া তুলনামূলক কমমূল্যের প্রযুক্তি ব্যবহার করে অস্ত্র উৎপাদন করে তারা বিদেশের বাজারগুলোতে নিজেদের অবস্থান তৈরি করছে। ২০১৫ সালে চীনের মোট সামরিক বাজেট ছিল ১৪১.৪৫ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের চেয়ে ১০ শতাংশ বেশি।

এই একই সময়ের মধ্যে অস্ত্র রপ্তানি ২৭ শতাংশ বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ২৮ শতাংশ বাড়িয়েছে রাশিয়া। এদিকে অস্ত্র রপ্তানিতে চতুর্থ অবস্থানে আছে ফ্রান্স এবং পঞ্চম অবস্থানে আছে জার্মানি। সিপরি’র প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনা অস্ত্রের ক্রেতা প্রধানত এশিয়া এবং ওশেনিয়া অঞ্চলের দেশগুলো।

তবে এখনো বড় পরিবহণ বিমান, হেলিকপ্টার, বিমানের ইঞ্জিন এবং জাহাজসহ আরো বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম আমদানি করতে হয় চীনের। ২০১৫ সালে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীন বেশ কিছু রুশ জঙ্গি বিমান কিনতে দেশটির সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পাকিস্তান চীনের প্রধান মিত্র। দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সামরিক চুক্তি আছে, যা প্রতিবেশি দেশ ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ। আর এ কারণে ভারতও দেশি অস্ত্র উৎপাদনের পরিমাণ বাড়িয়ে চলেছে।

ব্রেকিং নিউজঃ