| |

গার্মেন্টস কর্মীরা ময়মনসিংহ থেকে ঢাকার পথে

আপডেটঃ 7:35 pm | April 04, 2020

Ad

 

 

 

মো: নাজমুল হুদা মানিক ॥ গার্মেন্টস কারখানা খোলার কথা থাকায় ময়মনসিংহ থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে ঢাকার পথে হেঁটে রওনা হয়েছেন গার্মেন্টস শ্রমিকরা। কর্মক্ষেত্রে যোগদানের জন্য কোন বিধি নিষেধ তাদের পথ আটকে রাখতে পারছেনা। গণপরিবহন বন্ধের মধ্যে বেপরোয়া ভাবেই রওনা হচ্ছে তারা। এই রকম একটি চিত্র ৪ এপ্রিল দুপুর ২টায় শম্ভুগঞ্জ ব্রীজের মোড় এলাকার। শুক্রবার সকাল থেকে ময়মনসিংহ ব্রিজের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় হাজারো গার্মেন্টস শ্রমিককে ঢাকার দিকে হেঁটে যেতে দেখা যায়। করোনাভাইরাসের ঠেকাতে লকডাউনের মধ্যে ট্রেন-বাসসহ সব ধরনের গণপরিবহন বন্ধ থাকায় তারা হেটেই চলছে বলে জানান নৈকেই। দীর্ঘপথ পারি দিতে হবে অনেক কষ্টে সেদিকে তাদেও কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। ‘করোনাভাইরাসের ভয়ের চাইতে গার্মেন্টসের চাকরি হারানোর ভয় তাদের বেশি। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ২৫ এপ্রিল থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ‘সব নিট গার্মেন্টস’ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় বিকেএমইএ। তারা বলেছিলেন, সরকারের ‘দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করে কারখানা বন্ধের বিষয়ে আরও বিশদ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
অন্তত ২৫ লাখ শ্রমিকের রোজগারের প্রতিষ্ঠান দুই হাজার ২৮৩টি কারখানার সংগঠন বিকেএমইএর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রপ্তানীমুখী শিল্পকে করোনাভাইরাস আক্রান্ত অর্থনৈতিক মন্দা থেকে রক্ষার জন্য বিশাল প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। এছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা এই শিল্পখাতের জন্য প্রদান করেছেন। ময়মনসিংহ জেলা মোটর মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান বলেন, “যানবাহন বন্ধ থাকায় আমাদের এবং শ্রমিকদের ক্ষতি হলেও আমরা সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী যানবাহন বন্ধ রেখেছি।
“পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত যানবাহন বন্ধ থাকবে।” গার্মেন্টস কর্মীরা বলেন, গার্মেন্টস খোলা হবে। যদি গার্মেন্টেসে পৌঁছাতে না পারি তাহলে চাকরি থাকবে না। “অনেকটা বাধ্য হয়েই ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছি।” গার্মেন্টসের নারী কর্মী জানান, তিনি ঢাকায় থেকে চাকরি করেন। তাদের ‘করোনাভাইরাসের ভয়ের চাইতে গার্মেন্টসের চাকরি হারানোর ভয় বেশি। তাই সবার সাথে হেঁটে ঢাকার পথে রওনা হয়েছেন তিনিও। অনেকেই কখনো রিকশায় কখনো হেঁটে ময়মনসিংহ পর্যন্ত এসেছেন নেত্রকেনা থেকে। গার্মেন্টস কর্মী জানান, “ফজরের নামাজের পর নেত্রকোণা থেকে রওনা দিয়েছি। রাস্তায় গাড়ি তো নাই, রিকশাও চলছে হালকা হালকা। “তাই কিছুক্ষণ রিকশায় চড়ে আর কিছুক্ষণ হেঁটেই আসছি।” শেরপুর থেকেও এসেছেন অনেকেই। অনেকেই চাকরী করেন নারায়ণগঞ্জে। এখন নারায়ণগঞ্জে পায়ে হেঁটে যাওয়া ছাড়া আর কোন উপায় নাই। ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার আহমার উজ্জামান জানান, সরকারি নির্দেশনায় কিছু গার্মেন্টস বন্ধ, কিছু গার্মেন্টস চলছে । প্রয়োজনের তাগিদেই গার্মেন্টস শ্রমিকরা ঢাকা যাচ্ছে।” যানবাহন বন্ধ থাকায় তাদের ভোগান্তি হচ্ছে । “আমরা যতটুকু পারছি তাদের সহযোগিতা করছি ।

ব্রেকিং নিউজঃ