| |

ঐতিহাসিক মুজিব নগর দিবসে ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন

আপডেটঃ 4:27 pm | April 17, 2020

Ad

মো: নাজমুল হুদা মানিক ॥ ঐতিহাসিক মুজিব নগর দিবস উপলক্ষে ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামীলীগের কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন করে দিবসটি পালিত হয়েছে। করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির কারনে সবাইকে নিজ ঘরে থাকতে বলা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কারনে নেতাকর্মীদের জনসমাগম করতে নিষেধ করা হয়েছে। ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এডভোকেট আলহাজ্ব মো: জহিরুল হক খোকা ও সাধারন সম্পাদক এডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল এর নির্দেশে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। জেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক অধ্যক্ষ আবু সাঈদ দীন ইসলাম ফকরুল এ তথ্য জানিয়েছেন। নেতৃবৃন্দ বলেন, মহামারি করোনা পরিস্থিতির কারনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ মোতাবেক নেতাকর্মীদেরকে সমাজের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে থাকতে বলা হয়েছে। সমাজের মানুষের কল্যানে নেতাকর্মীদের সব সময় পাশে থাকার মানসিকতা তৈরী করার জন্যও আহবান জানান।

১৭ই এপ্রিল, ১৯৭১
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ অস্থায়ী সরকার
মুজিবনগর সরকার
আজ ১৭ই এপ্রিল, ঐতিহাসিক মুজিব নগর দিবস। বাংলাদেশিদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একটি অবিস্মরণীয় দিন। চিরস্মরণীয় এক সৃতির দিন। এইদিনে মুজিবনগর থেকে স্বাধীনতার ঘোষনাপত্র জারি করা হয়, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার বা মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়। শপথ গ্রহণ করেন সরকারের মন্ত্রীপরিষদের সদস্যরা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপরাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দিন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করা হয়। বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানে বন্দি থাকার কারনে উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হন। ১৯৭১ সালের ১৭ই এপ্রিল বর্তমান মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলার এক আমবাগানে (পরবর্তী নাম মুজিবনগর) স্বাধীন বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহন করে। কয়েক প্লাটুন ইপিআর ও মুক্তিযোদ্ধা শপথ গ্রহন অনুষ্ঠানে গার্ড অব অনার প্রদান করে। শপথ গ্রহন অনুষ্ঠান শুরু হয় বেলা ১১টায়। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। পতাকা উত্তোলনের সময় জাতীয় সংগীত ‘আমার সোনার বাংলা’ গানটি পরিবেশন করা হয়। সৈয়দ নজরুল ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার গঠনের কথা ঘোষনা করেন অতঃপর তিনি বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম ঘোষনা করেন এবং পরিচয় করিয়ে দেন। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ভাষণ দেন এবং পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন। মূলত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’এর উপর ভিত্তি করেই মুজিবনগর সরকারের যাত্রা, এজন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’এর অনুপস্থিতিতেও তার উপরই সর্বশ্য মর্যাদা, ক্ষমতা এবং দায়িত্বভার দেয়া হয়েছিল।
মুজিবনগর সরকারে যাঁরা ছিলেনঃ-
রাষ্ট্রপতিঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
(পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি)
উপরাষ্ট্রপতিঃ সৈয়দ নজরূল ইসলাম
(রাষ্ট্রপতির অনুপুস্থিতিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি)
প্রধানমন্ত্রীঃ তাজউদ্দিন আহমদ
আইন ও পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রীঃ খোন্দকার মোশতাক আহমদ
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রীঃ এম. মনসুর আলী
স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রীঃ এ. এইচ. এম কামারুজ্জামান
সশস্ত্রবাহিনী প্রধানঃ জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী
চিফ অব স্টাফঃ মেজর জেনারেল আবদুর রব
ইতিপূর্বে ১০ই এপ্রিলে দেয়া ঘোষণাপত্র এবং আইনের ধারাবাহিকতা বলবৎকরণ আদেশ ১৯৭১ নিন্মরূপঃ-
স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ঘোষণাপত্র
১০ই এপ্রিল ১৯৭১
মুজিবনগর, বাংলাদেশ
যেহেতু ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর থেকে ১৯৭১ সালের ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশে অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে শাসনতন্ত্র রচনার উদ্দেশ্যে প্রতিনিধি নির্বাচিত করা হইয়াছিল;
এবং
যেহেতু এই নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ ১৬৯টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ দলীয় ১৬৭ জন প্রতিনিধি নির্বাচিত করেছিল;
এবং
যেহেতু জেনারেল ইয়াহিয়া খান ১৯৭১ সনের ৩রা মার্চ তারিখে শাসনতন্ত্র রচনার উদ্দেশ্যে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অধিবেশন আহ্বান করেন;
এবং
যেহেতু তিনি আহূত এই অধিবেশন স্বেচ্ছার এবং বেআইনীভাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেন;
এবং
যেহেতু পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ তাদের প্রতিশ্রুতি পালন করার পরিবর্তে বাংলাদেশের জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে পারষ্পরিক আলোচনাকালে ন্যায়নীতি বহির্ভূত এবং বিশ্বাসঘাতকতামূলক যুদ্ধ ঘোষণা করেন;
এবং
যেহেতু উল্লিখিত বিশ্বাসঘাতকতামূলক কাজের জন্য উদ্ভূত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমান জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার অর্জনের আইনানুগ অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ ঢাকায় যথাযথভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন, এবং বাংলাদেশের অখণ্ডতা ও মর্যাদা রক্ষার জন্য বাংলাদেশের জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান;
এবং
যেহেতু পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ বর্বর ও নৃশংস যুদ্ধ পরিচালনা করেছে এবং এখনও বাংলাদেশের বেসামরিক ও নিরস্ত্র জনগণের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন গণহত্যা ও নির্যাতন চালাচ্ছে;
এবং
যেহেতু পাকিস্তান সরকার অন্যায় যুদ্ধ ও গণহত্য এবং নানাবিধ নৃশংস অত্যাচার পরিচালনার দ্বারা বাংলাদেশের গণপ্রতিনিধিদের পক্ষে একত্রিত হয়ে শাসনতন্ত্র প্রণয়ন করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব কে তুলেছে;
এবং
যেহেতু বাংলাদেশের জনগণ তাদের বীরত্ব, সাহসিকতা ও বিপ্লবী কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশের উপর তাদের কার্যকরি কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে;
সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী বাংলাদেশের জনগণ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রতি যে ম্যান্ডেট দিয়েছেন সে ম্যান্ডেট মোতাবেক আমরা, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা, আমাদের সমবায়ে গণপরিষদ গঠন করে পারষ্পরিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণের জন্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যে
বাংলাদেশকে একটি সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্র ঘোষণা করছি এবং এর দ্বারা পূর্বাহ্নে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণা অনুমোদন করছি;
এবং
এতদ্বারা আমরা আরও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছি যে শাসনতন্ত্র প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপ্রধান এবং সৈয়দ নজরুল ইসলাম উপ-রাষ্ট্রপ্রধান পদে অধিষ্ঠিত থাকবেন;
এবং
রাষ্ট্রপ্রধান প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনীসমূহের সর্বাধিনায়ক পদে অধিষ্ঠিত থাকবেন; ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষমতাসহ সর্বপ্রকার প্রশাসনিক ও আইন প্রণয়নের ক্ষমতার অধিকারী থাকবেন;
এবং
তাঁর কর ধার্য ও অর্থব্যয়ের ক্ষমতা থাকবে;
এবং
বাংলাদেশের জনসাধারণের জন্য আইনানুগ ও নিয়মতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য অন্যান্য প্রয়োজনীয় সকল ক্ষমতারও তিনি অধিকারী হবেন।
বাংলাদেশের জনগণ দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসাবে আমরা আরও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছি যে, কোন কারণে যদি রাষ্ট্রপ্রধান না থাকেন অথবা যদি রাষ্ট্রপ্রধান কাজে যোগদান করতে না পারেন অথবা তাঁর দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে যদি অক্ষম হন, তবে রাষ্ট্রপ্রধান প্রদত্ত সকল দায়িত্ব উপ-রাষ্ট্রপ্রধান পালন করবেন। আমরা আরও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছি যে, বিশ্বের একটি জাতি হিসাবে এবং জাতিসংঘের সনদ মোতাবেক আমাদের উপর যে দায়িত্ব ও কর্তব্য বর্তেছে তা যথাযথভাবে আমরা পালন করব। আমরা আরও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছি যে, আমাদের এই স্বাধীনতার ঘোষণা ১৯৭১ সনের ২৬শে মার্চ থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে। আমরা আরও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছি যে, আমাদের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার জন্য আমরা অধ্যাপক এম. ইউসুফ আলীকে যথাযথভাবে রাষ্ট্রপ্রধান ও উপ-রাষ্ট্রপ্রধানের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য দায়িত্ব অর্পণ ও নিযুক্ত করলাম।
স্বাক্ষরঃ অধ্যাপক এম. ইউসুফ আলী
বাংলাদেশ গণপরিষদের ক্ষমতা দ্বারা এবং ক্ষমতাবলে যথাবিধি সর্বাধিক ক্ষমতাধিকারী।
আইনের ধারাবাহিকতা বলবৎকরণ আদেশ ১৯৭১
মুজিবনগর, বাংলাদেশ, ১০ এপ্রিল ১৯৭১, শনিবার ১২শে চৈত্র ১৩৭৭
বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে প্রদত্ব ক্ষমতাবলে একই দিনে আইনের ধারাবাহিকতা বলবৎকরণ আদেশ নামে একটি আদেশ জারি করা হয়। ঘোষণাপত্রের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশে যে সকল আইন চালু ছিল, তা রক্ষার্থে এই আদেশ বলবৎ করা হয়।
আদেশ নিন্মরূপঃ
আমি বাংলাদেশের উপ-রাষ্ট্রপতি এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, স্বাধীনতা ঘোষণাপত্র প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল তারিখে এ আদেশ জারি করছি যে, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশে যে সকল আইন চালু ছিল, তা ঘোষণাপত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একইভাবে চালু থাকবে, তবে প্রয়োজনীয় সংশোধনী সার্বভৌম স্বাধীন বাংলাদেশ গঠনের জন্য করা যাবে। এই রাষ্ট্র গঠন বাংলাদেশের জনসাধারণের ইচ্ছায় হয়েছে। এক্ষণে, সকল সরকারি, সামরিক, বেসামরিক, বিচার বিভাগীয় এবং কূটনৈতিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী যারা বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করেছেন, তারা এতদিন পর্যন্ত নিয়োগবিধির আওতায় যে শর্তে কাজে বহাল ছিলেন, সেই একই শর্তে তারা চাকুরিতে বহাল থাকবেন। বাংলাদেশের সীমানায় অবস্থিত সকল জেলা জজ এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং সকল কূটনৈতিক প্রতিনিধি যারা অন্যত্র অবস্থান করছেন, তারা সকল সরকারি কর্মচারীকে স্ব স্ব এলাকায় আনুগত্যের শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা করবেন।
এই আদেশ ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ থেকে কার্যকর করা হয়েছে বলে গণ্য করতে হবে।
স্বাক্ষর:- সৈয়দ নজরুল ইসলাম
অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি
আনুষ্ঠানিকভাবে ১৭ই এপ্রিল মুজিবনগর অস্থায়ী সরকার গঠনঃ
তাজউদ্দীন আহমদ আওয়ামী লীগের এমএনএ(গ.ঘ.অ) এবং এমপিএ(গ.চ.অ)দের কুষ্টিয়া জেলার সীমান্তে অধিবেশন আহ্বান করেন।
উক্ত অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে মুক্তিযুদ্ধ ও সরকার পরিচালনার জন্য মন্ত্রিপরিষদ গঠিত হয়।
এই মন্ত্রিপরিষদ এবং এমএনএ ও এমপিএ’গণ ১০ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি করে সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ঘোষণা করেন। সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপরাষ্ট্রপতি এবং বঙ্গন্ধুর অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা হয়। তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী,ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী,খন্দকার মোশতাক আহমেদ ও এ এইচ এম কামরুজ্জামানকে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য নিয়োগ করা হয়। ১১ এপ্রিল এম এ জি ওসমানীকে প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন ১১ এপ্রিল বাংলাদেশ বেতারে মন্ত্রিপরিষদ গঠনের ঘোষণা দিয়ে ভাষণ প্রদান করেন।
এরপর ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ পূর্ব ঘোষনাপত্র মোতাবেক কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুরে বৈদ্যনাথ তলার এক আমবাগানে মন্ত্রিপরিষদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। সকাল ৯ টা থেকেই সেখানে নেতৃবৃন্দ ও আমন্ত্রিত অতিথিদের আগমন শুরু হয়। দেশি বিদেশি প্রায় ৫০ জন সাংবাদিক উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বেলা ১১টায় শপথ অনুষ্ঠান শুরু হয় ।কোরআন তেলাওয়াত ও বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয় এবং শুরুতেই বাংলাদেশকে ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’ রূপে ঘোষণা করা হয়। এরপর অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি একে একে প্রধানমন্ত্রী ও তার তিন সহকর্মীকে পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর নতুন রাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান হিসেবে কর্নেল এম এ জি ওসমানী এবং সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ পদে কর্নেল আবদুর রবের নাম ঘোষণা করেন। এরপর সেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করা হয়। এই ঘোষণাপত্র এর আগেও ১০ এপ্রিল প্রচার করা হয় এবং এর কার্যকারিতা ঘোষণা করা হয় ২৬ই মার্চ ১৯৭১ থেকে। ঐদিন থেকে ঐ স্থানের নাম দেয়া হয় মুজিবনগর। ঐ অনুষ্ঠানে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী উভয়েই বক্তব্য পেশ করেন। প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ তার ভাষণে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন। ভাষণের শেষাংশে তিনি বলেন,
” বিশ্ববাসীর কাছে আমরা আমাদের বক্তব্য পেশ করলাম, বিশ্বের আর কোন জাতি আমাদের চেয়ে স্বীকৃতির বেশি দাবিদার হতে পারে না। কেননা, আর কোন জাতি আমাদের চাইতে কঠোরতর সংগ্রাম করেনি। অধিকতর ত্যাগ স্বীকার করেনি। জয়বাংলা।”
-এই ভাষণের মধ্যদিয়ে তাজউদ্দীন আহমদ (প্রধানমন্ত্রী) দেশী বিদেশী সাংবাদিকদের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদানের আহ্বান জানান আর এভাবেই মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সূচনা হয়।
স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের গঠনঃ-
রাষ্ট্রপতিঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
(পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি)
উপরাষ্ট্রপতিঃ সৈয়দ নজরূল ইসলাম
(রাষ্ট্রপতির অনুপুস্থিতিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি)
প্রধানমন্ত্রীঃ তাজউদ্দিন আহমদ
আইন ও পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রীঃ খোন্দকার মোশতাক আহমদ
অর্থমন্ত্রীঃ এম. মনসুর আলী
স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রীঃ এ. এইচ. এম কামারুজ্জামান
সশস্ত্রবাহিনী প্রধানঃ জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী
চিফ অব স্টাফঃ মেজর জেনারেল আবদুর রব
মন্ত্রণালয় ও বিভাগঃ-
১. প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়
২. পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
৩. অর্থ, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়
৪. মন্ত্রিপরিষদ সচিবালয়
৫. সাধারণ প্রশাসন বিভাগ
৬. স্বাস্থ্য ও কল্যাণ মন্ত্রণালয়
৭. তথ্য ও বেতার মন্ত্রণালয়
৮. স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
৯. ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়
১০. সংসদ বিষয়ক বিভাগ
১১. কৃষি বিভাগ
১২. প্রকৌশল বিভাগ
দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীগণ’এর নাম এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয়-
১. তাজউদ্দীন আহমদঃ
ক- প্রধানমন্ত্রী
খ- প্রতিরক্ষা
গ- তথ্য ও বেতার এবং টেলিযোগাযোগ
ঘ- অর্থনৈতিক বিষয়, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন
ঙ- শিক্ষা,স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন সরকার, স্বাস্থ্য, শ্রম ও সমাজকল্যাণ
চ- সংস্থাপন ও প্রশাসন
ছ- যেসব বিষয়ের দায়িত্ব মন্ত্রিপরিষদের অন্য কোন সদস্যকে প্রদান করা হয়নি
২. খন্দকার মোশতাক আহমেদঃ
ক- পররাষ্ট্র বিষয়
খ- আইন ও সংসদ বিষয়
৩. এম মনসুর আলীঃ
ক- অর্থ ও জাতীয় রাজস্ব
খ- বাণিজ্য ও শিল্প
গ- পরিবহণ
৪. এ এইচ এম কামরুজ্জামানঃ
ক- স্বরাষ্ট্র বিষয়ক
খ- সরবরাহ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন
গ- কৃষি
মন্ত্রণালয়ের বাইরে আরো কয়েকটি সংস্থা ছিল যারা সরাসরি মন্ত্রিপরিষদের কর্তৃত্বাধীনে কাজ করত। যেমনঃ
– পরিকল্পনা কমিশন
– শিল্প ও বাণিজ্য বোর্ড
– নিয়ন্ত্রণ বোর্ড, যুব ও অভ্যর্থনা শিবির
– ত্রাণ ও পুনর্বাসন কমিটি
– শরণার্থী কল্যাণ বোর্ড ।
উপরাষ্ট্রপতির দপ্তরঃ-
পদের নাম এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি-
উপদেষ্টাবৃন্দ-
মোহাম্মদ উল্লাহ (এম এন এ)
সৈয়দ আবদুস সুলতান (এম এন এ)
কোরবান আলি (এম এন এ)
একান্ত সচিব- কাজী লুৎফুল হক
সহকারী সচিব- আজিজুর রহমান
প্রধান নিরাপত্তা অফিসার-সৈয়দ এম করিম
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরঃ-
পদের নাম এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি-
এডিসি- মেজর নূরুল ইসলাম
একান্ত সচিব- ডা: ফারুক আজিজ
তথ্য অফিসার- আলী তারেক
মন্ত্রণালয়সমূহের বিবরণীঃ-
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ঃ-
পদের নাম এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি-
প্রধান সেনাপতি- কর্নেল এম এ জি ওসমানী
চিফ অব স্টাফ- কর্নেল এম এ রব
বিমান বাহিনী প্রধান- গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খোন্দকার
প্রধান সেনাপতির এডিসি- লে: নুর
প্রতিরক্ষা সচিব- আবদুস সামাদ
উপ সচিব- আকবর আলি খান
এস এ ইমাম
সহকারী সচিব- নূরুল ইসলাম চৌধুরি
এম এইচ সিদ্দিকী
কেবিনেট ও সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ঃ-
পদের নাম এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি-
প্রধান সচিব- রুহুল কুদ্দুস
সংস্থাপন সচিব- নূরুল কাদের খান
কেবিনেট সচিব- এইচ টি ইমাম
উপ সচিব- কামাল উদ্দিন আহম্মদ
তৌফিক এলাহী চৌধুরী
দীপক কুমার চৌধুরী
ওলিউল ইসলাম
সহকারী সচিব- বজলুর রহমান
নরেশ চন্দ্র রায়
মতিউর রহমান
এম এ আউয়াল
আবু তালেব
মোহাম্মদ হেদায়েত উল্ল্যা
কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী
শাহ মতিউর রহমান
পরিকল্পনা কমিশনঃ-
পদের নাম এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি-
চেয়ারম্যান- ড: মুজাফফর আহমদ চৌধুরী
সদস্য- স্বদেশ বসু
ড: মোশাররফ হোসেন
ড: আনিসুজ্জামান
ড: খান সরওয়ার মোর্শেদ
দেপুটি চীফ- এ এ মাসুদ মিঞা
কে এস ডি সরমান
এ এস এম হোসেন
এম খালেকুজ্জামান
এ কে রায়
ড: ওয়াজিঊর রহমান
ড: এম নুরুল ইসলাম
রিসার্স অফিসার- ডি কে কলিন নো
তপন কুমার বোস
এম এ নওজেশ আলী
ডি কে নাথ
স্বরাষ্ট্র,ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ঃ-
পদের নাম এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি-
সচিব- এম এ খালেক
উপ সচিব- খসরুজ্জামান চৌধুরী
সহকারী সচিব- সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
জ্ঞানরঞ্জন সাহা
গোলাম আকবর
স্টাফ অফিসার- এম এ গাফফার
জেলা আনসার অফিসার- শরীফুল হক
রশীদ বখত মজুমদার
মহাকুমা আনসার অফিসার- সৈয়দ হাবিবুল বারী
আনসার অফিসার- শামসুর রহমান
আকরাম হোসেন
তবিবুর রহমান
এ কে হুমায়ূন
কে জি কাদের
আবুল বাশার
আবদুল মান্নান
আলী আকবর
মোঃ জহির উদ্দিন
প্রেস, তথ্য, বেতার, ফিল্ম, আর্ট অ্যান্ড ডিজাইনঃ-
পদের নাম এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি-
এম এন এ ইনচার্জ- জনাব আবদুল মান্নান (এম এন এ)
সচিব- আবদুস সামাদ (৩ সেপ্টে-১৩ অক্টো)
আনোয়ারুল হক খান (১৪ অক্টো-১৬ ডিসে)
ডাইরেক্টর(আর্ট অ্যান্ড ডিজাইন)- কামরুল হাসান
ডাইরেক্টর(ফিল্ম)- আব্দুল জব্বার খান
ডাইরেক্টর(প্রেস অ্যান্ড পাবলিসিটি)- এম আর আখতার মুকুল
অর্থ, শিল্প ও বানিজ্য মন্ত্রণালয়ঃ-
পদের নাম এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি-
মন্ত্রীর একান্ত সচিব- সাফাত হোসেন
সচিব(অর্থ)- খোন্দকার আসাদুজ্জামান
সহকারী সচিব(অর্থ)- মাখন চন্দ্র মাঝি
শামসুদ্দিন হায়দার
ক্ষিতিশ চন্দ্র কুন্ডু
এ কে এম হেফারত উল্লাহ
আলি করি
সহকারী সচিব(শিল্প ও বাণিজ্য)- মো: ইদ্রিস আলি
জগন্নাথ দে
এ কে আনোয়ার হক
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ঃ-
পদের নাম এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি-
উপদেষ্টা- কামরুজ্জামান (এম এন এ)
শিক্ষা অফিসার- আহমেদ হোসেন
কৃষি মন্ত্রণালয়ঃ-
পদের নাম এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি-
সচিব-নূরউদ্দিন আহমদ
উপ সচিব- শহিদুল ইসলাম
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা- এন এম সরকার
মোজাম্মেল হোসেন
পররাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়ঃ-
পদের নাম এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি-
সচিব- মাহবুবুল আলম চাষী
ওএসডি- ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ
মন্ত্রীর একান্ত সচিব- কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মিশনসমূহঃ-
মিশন, পদের নাম এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি-
কলকাতাঃ
বাংলাদেশ হাই কমিশনার(কলকাতা)- এম হোসেন আলি
প্রথম সচিব- আর আই চৌধুরী
তৃতীয় সচিব- আনোয়ারুল চৌধুরী
কাজী নজরুল ইসলাম
সহকারী প্রেস এ্যাটাচী- এম মোকছুদ আলী
অফিসার- জায়েদুর রহমান
নয়াদিল্লীঃ
কাউন্সিলর- হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী
দ্বিতীয় সচিব- কে এম শাহাবুদ্দিন
সহকারী প্রেস এ্যাটাচী- আমজাদুল হক
হংকংঃ
ট্রেড কমিশনার- মহিউদ্দিন আহমদ
ফিলিপাইনঃ
রাষ্ট্রদূত- কে কে পন্নী
নিউইয়র্কঃ
উপ কন্সাল- এ এইচ মাহমুদ আলী
উপ স্থায়ী প্রতিনিধি (জাতিসংঘ)- এম এ করিম
ওয়াশিংটনঃ
মিনিস্টার- এনায়েত করিম
রাজনৈতিক কাউন্সিলার- এ এম এম এস কিবরিয়া
অর্থনৈতিক কাউন্সিলার- আবুল মাল আব্দুল মুহিত
শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক কাউন্সিলার- এ আর মতিনউদ্দিন
তৃতীয় সচিব- সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলি
একাউন্টস অফিসার- এম আর চৌধুরী
সহকারী তথ্য অফিসার- শেখ রুস্তম আলি
সহকারী প্রশাসনিক অফিসার- এ এম এস আলম
যুক্তরাজ্যঃ
দ্বিতীয় সচিব- মহিউদ্দিন আহমদ
পরিচালক(অর্থ)- এ লুৎফুল মতিন
কাউন্সিলার- রেজাউল করিম
ডেপুটি ডাইরেক্টর- আবদুর রঊফ
লেবার এ্যাটাচী- ফজলুল হক চৌধুরী
সুইজারল্যান্ডঃ
দ্বিতীয় সচিব- ওয়ালিউর রহমান
ইরাকঃ
রাষ্ট্রদূত- এ এফ এম আবুল ফাতাহ
জাপানঃ
তৃতীয় সচিব- এ রহিম
প্রেস এ্যাটাচী- এম মাসুদ
নেপালঃ
তৃতীয় সচিব- এম এ জায়গীরদার
আঞ্চলিক প্রশাসনিক পরিষদঃ-
বেসামরিক প্রশাসনকে অধিক গণতান্ত্রিক করার জন্য বাংলাদেশের আঞ্চলিক সুবিধা চিন্তা করে সমগ্র বাংলাদেশকে ১৯৭১ এর জুলাই মাসে ৯টি অঞ্চল এবং সেপ্টেম্বর মাসে চূড়ান্তভাবে ১১টি অঞ্চলে ভাগ করা হয়। সেপ্টেম্বর নাগাদ অঞ্চলগুলোর বিন্যাস হয়েছিল নিন্মরূপে,
ক্রমানুসারে আঞ্চলিক প্রশাসনিক পরিষদ-
১. জোন/অঞ্চল- দক্ষিণ পূর্ব জোন-১
প্রধান অফিস- সাবরুম
এলাকা- চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম, ফেনী মহাকুমা
চেয়ারম্যান- প্রফেসর নুরুল ইসলাম চৌধুরী
২. জোন/অঞ্চল- দক্ষিণ পূর্ব জোন-২
প্রধান অফিস- আগরতলা
এলাকা- ঢাকা, কুমিল্লা, ফেনী বাদে নোয়াখালী
চেয়ারম্যান- জহুর আহমদ চৌধুরী
৩. জোন/অঞ্চল- পূর্ব জোন
প্রধান অফিস- ধর্মনগর
এলাকা- হবিগঞ্জ, মৌলভিবাজার মহাকুমা
চেয়ারম্যান- কর্নেল এম এ রব
৪. জোন/অঞ্চল- উত্তর পূর্ব জোন-১
প্রধান অফিস- ডাউকি
এলাকা- সিলেট সদর, সুনামগঞ্জ
চেয়ারম্যান- দেওয়ান ফরিদ গাজী
৫. জোন/অঞ্চল- উত্তর পূর্ব জোন-২
প্রধান অফিস- তুরা
এলাকা- ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল
চেয়ারম্যান- শামসুর রহমান খান
৬. জোন/অঞ্চল- উত্তর জোন
প্রধান অফিস- কুচ বিহার
এলাকা- রংপুর
চেয়ারম্যান- মতিউর রহমান
৭. জোন/অঞ্চল- পশ্চিম জোন-১
প্রধান অফিস- বালুরঘাট
এলাকা- দিনাজপুর, বগুড়া
চেয়ারম্যান- আবদুর রহিম
৮. জোন/অঞ্চল- পশ্চিম জোন-২
প্রধান অফিস- মালদহ
এলাকা- রাজশাহী
চেয়ারম্যান- আশরাফুল ইসলাম
৯. জোন/অঞ্চল- দক্ষিণ-পশ্চিম জোন-১
প্রধান অফিস- কৃষ্ণনগর
এলাকা- পাবনা, কুষ্টিয়া
চেয়ারম্যান- আবদুর রউফ চৌধুরী
১০. জোন/অঞ্চল- দক্ষিণ পশ্চিম জোন-২
প্রধান অফিস- বনগাঁ
এলাকা- ফরিদপুর, যশোর
চেয়ারম্যান- ফণিভূষণ মজুমদার
১১. জোন/অঞ্চল- দক্ষিণ জোন
প্রধান অফিস- বারাসাত
এলাকা- বরিশাল, পটুয়াখালী, খুলনা
চেয়ারম্যান- নভেম্বর পর্যন্ত কেউ ছিলেন না
প্রতিটি জোনের সার্বিক তত্ত্বাবধানের জন্য আঞ্চলিক প্রশাসনিক পরিষদ গঠিত হয়। সংশ্লিষ্ট এলাকার জাতীয় ও প্রাদেশি পরিষদ সদস্যদের প্রশাসনিক পরিষদের সদস্য করে তাদের ভোটে নির্বাচিত একজন করে চেয়ারম্যানকে পরিষদের প্রধান করা হয়। সরকার হতে চেয়ারম্যানের অধীনে একজন করে সচিব নিযুক্ত করা হয়। একই সাথে প্রতিটি জোনে সরকার হতে ৭ জন করে কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয় তাদের বিভাগীয় কাজ সম্পাদন করতে।
কর্মকর্তাদের পদ’মর্যাদা ছিলঃ-
১. আঞ্চলিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা
২. শিক্ষা কর্মকর্তা
৩. ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা
৪. প্রকৌশল কর্মকর্তা
৫. পুলিশ কর্মকর্তা
৬. তথ্য বিভাগীয় কর্মকর্তা
৭. হিসাব বিভাগীয় কর্মকর্তা
আঞ্চলিক প্রশাসনিক পরিষদের নিয়ন্ত্রণে ছিল প্রধানতঃ রিলিফ ক্যাম্প, যুব ক্যাম্প, সেনাবাহিনীকে সহযোগীতা সংক্রান্ত কাজ
প্রতিটি আঞ্চলিক জোনে ৫টি উপ-পরিষদ গঠিত হয়ঃ-
১. অর্থ উপ-পরিষদ
২. ত্রাণ উপ-পরিষদ
৩. স্বাস্থ্য উপ-পরিষদ
৪. প্রচার উপ-পরিষদ
৫. শিক্ষা উপ-পরিষদ
প্রয়োজনে আরো উপ-পরিষদ গঠনের ব্যবস্থা রাখা হয়।
প্রতিটি উপ-পরিষদ গঠনের বিধান হয় আঞ্চলিক পরিষদ হতে নূন্যতম ৩ জন ও ঊর্ধ্বে ৭ জন সদস্য নিয়ে। সদস্যরা তাদের মাঝ হতে একজন চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেন। জোনাল অফিসার বা কর্মকর্তাদের সচিব করা হয়। প্রতিটি জোনে সংসদ সদস্যদের নিয়ে একটি আঞ্চলিক উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হত।
১৯৭১ সালের ২৬এ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেয়া বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা প্রতিপাদন’পূর্বক পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে দেশের জনগণের প্রতিরোধযুদ্ধ শুরু হলেও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য মুক্তিবাহিনী গঠন ও সমন্বয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন আদায় এবং সাংগঠনিক সম্পর্ক রক্ষায় এই সরকারের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। এই সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধযুদ্ধ প্রবল যুদ্ধে রূপ নেয় এবং স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের বিজয় অর্জন ব্যাপক ভাবে ত্বরান্বিত হয়।
জয় বাংলা.. .জয় বঙ্গবন্ধু
জয়তু দেশরত্ন.. শেখ হাসিনা

১৭ এপ্রিল,২০২০
সূত্রঃ বিভিন্ন গণমাধ্যম হতে প্রাপ্ত. , সুমন ঘোষ,ময়মমনসিংহ

ব্রেকিং নিউজঃ