| |

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ! চিহ্নিত অপরাধীরাও ছাত্রলীগের পদে…

আপডেটঃ 1:35 pm | February 24, 2016

Ad

বিভিন্ন সময় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য সংগঠন থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কৃত, বিতর্কিত ও অছাত্র, চাঁদাবাজ একাধিক নেতা ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পেয়েছেন।

অন্যদিকে ‘সিন্ডিকেট’-এর বাইরে কাউকে কমিটিতে স্থান না দেয়ায় পদ পাননি অনেক ত্যাগী নেতা।

কেন্দ্রীয় সম্মেলনের প্রায় সাত মাস পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভাতৃপ্রতিম ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়।

সোমবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই কমিটি অনুমোদন দেন এবং রাতেই তা ঘোষণা করা হয়।

কমিটিতে স্থান পেয়েছেন অছাত্র, ইয়াবা সম্রাট, অপহরণ, হত্যা ও চাঁদাবাজির ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিরা। এ ছাড়া খুনের আসামি, গাড়ি পোড়ানো মামলার আসামি, বিবাহিত, ছিনতাইকারী, প্রভাব বিস্তারকারী এবং হলে ছাত্রী ও কর্মচারী নির্যাতনকারীও পদ পেয়েছেন।

ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কেন্দ্রীয় কমিটি হওয়ার কথা ২৫১ সদস্যের। তবে এবার কমিটি গঠন করা হয়েছে ৩০১ সদস্যের। এ কমিটিতে সহ-সভাপতি পদে রাখা হয়েছে ৬১ জনকে, আর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক রাখা হয়েছে ১১ জন করে। এ ছাড়া ১১১ জন উপসম্পাদক, ৪৬ জন সহসম্পাদক রাখা হয়েছে। বাকি ২৭ জন সদস্য রাখা হবে বলে জানা গেছে।

ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে অভিযুক্তরা

# সহ-সভাপতি

কাজী এনায়েত : তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক। শাহবাগের ফুলের দোকানে চাঁদাবাজি ও শিক্ষা ভবনের টেন্ডারবাজির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

আজিজুল হক রানা : এক নম্বর সহ-সভাপতি। বিয়ে করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কমিটি দেয়ার পর থেকে তিনি সাংগঠনিক কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয়।

আনোয়ার হোসেন আনু : সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। এর আগে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের সাধারণ সম্পাদক। তার  বিরুদ্ধে হলের আশপাশে মাদক ব্যবসা ও জুনিয়রদের দিয়ে ছিনতাই করানোর অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও হলে তার একচ্ছত্র প্রভাব, রুম দখল ও অছাত্রদের হলে রাখার অভিযোগ রয়েছে।

আমিনুল ইসলাম : শহীদুল্লাহ হলের সাবেক সভাপতি। তার বিরুদ্ধে আছে চাঁদাবাজির অভিযোগ। ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনের ফুটপাতের দোকানগুলো থেকে তিনি নিয়মিত চাঁদা আদায় করেন। কিছুদিন আগে পুলিশ সেগুলো উচ্ছেদ করলেও পরদিনই আবার তিনি ওই দোকানগুলো বসিয়ে দেন। তার রুমে একজন অছাত্র ছেলেকে রাখার অভিযোগ আছে, যিনি তার চাঁদাবাজিসহ সবধরনের অপকর্মে সহায়তা করেন। এছাড়াও মাদক ব্যবসায় সংশ্লিষ্টতারও অভিযোগ আছে।

নিশীতা ইকবাল নদী : তিনি শামসুন নাহার হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। তার বিরুদ্ধে ইয়াবা ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। প্রতিবাদ করায় চারুকলা অনুষদের এক ছাত্রীকে মারধর করে হল থেকে বের করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া হলে কর্তব্যরত আবাসিক ডা. রুমি পারভীনকে মেরে রক্তাক্ত করে হল থেকে বের করে দিয়েছে নদী। জোরপূর্বক পদত্যাগপত্র লিখিয়ে নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মেহেদী হাসান : তিনি হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তার বিরুদ্ধে ইয়াবা ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। ক্যাম্পাসে ইয়াবা সম্রাট হিসেবে পরিচিত। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে ইয়াবা চালানের সময় আটককৃতরা জবানবন্দিতে তার নাম বলেছিল।

সাকিব হাসান সুইম : তিনি ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। চাঁদা ও আধিপত্যের জেরে ২০১৩ সালের ৩০ নভেম্বর গভীর রাতে ঢাকা কলেজে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ছাত্র আসাদুজ্জামান ফারুক মারা যান। সুইম এ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি। এই ঘটনার পরই তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। ঢাকা কলেজ ও আশপাশের এলকায় তার বিরুদ্ধে রয়েছে চাঁদাবাজির অভিযোগ।

আব্দুল বাসেত গালীব : তিনি গত কমিটির উপসম্পাদক ছিলেন। কয়েক মাস আগে ঢাকা কলেজে পুলিশের অভিযানে গুলিসহ আটক হয়েছিলেন তিনি। কিছুদিন জেলও খাটেন।

নুসরাত জাহান নুপুর :  রোকেয়া হলের সাবেক সভাপতি। বিবাহিত বলে জানা গেছে।

# যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক

মেহেদী হাসান বাবু : তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০০৬-০৭ বর্ষের শিক্ষার্থী। গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। গাড়ি পোড়ানোর মামলায় তিনি ৬ মাস জেল খেটেছেন। পল্টন থানায় মামলাটি করা হয়। ওই মামলার প্রধান আসামি ছিলেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অভিযোগ উঠেছে, টাকার বিনিময়ে তাকে পদ দেয়া হয়েছে।

আসাদুজ্জামান নাদিম : সম্মেলনে ‘সুপার ফাইভ’ কমিটিতে  আসার পর থেকেই নিষ্ক্রিয়।

শহিদুল ইসলাম শাহেদ :  সদ্য সাবেক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির প্রচার সম্পাদক ছিলেন। বিবাহিত।

মাহমুদুল হাসান : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে তার বিরুদ্ধে।

সায়েম খান : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ এফ রহমান হলের সভাপতি ছিলেন। বয়স নেই।

# সাংগঠনিক সম্পাদক

আশিকুল পাঠান সেতু : তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক কর্মসূচি ও পরিকল্পনাবিষয়ক সম্পাদক। তার বিরুদ্ধে গত বছর ক্যাম্পাসে প্রাইভেট কার চাপা দিয়ে এক রিকশাচালককে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে চাঁদাবাজি ও ইয়াবা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণসহ নানা অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

সৃজন ঘোষ সজিব : তিনি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক উপ-ক্রীড়া সম্পাদক ছিলেন। চাঁদা না দেয়ায় ২০১৪ সালে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় তাকে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

বি এম এহতেশাম : তিনি কবি জসীমউদ্দীন হলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। দর্শন বিভাগের ২০০৭-০৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ঠিকমতো শিক্ষাকার্যক্রমে অংশ না নেয়ায় তিনি ছাত্রত্ব হারিয়েছেন।

# আইন বিষয়ক সম্পাদক

আল নাহিয়ান খান জয় : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। জয়ের বাবা ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বিএনপির ডামি ক্যান্ডিডেট হিসেবে সংসদ নির্বাচন করেন। প্রতীক ছিল হুক্কা। ২০১০ সাল পর্যন্ত জয় ছাত্রদল করতো বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ২০১২ সালে চাঁদাবাজির কারণে তাকে হল থেকে বহিষ্কার করা হয়। সে সময় তিনি হল ছাত্রলীগের উপ-আইন বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। মূলত বাবার ব্যবসাসহ পারিবারিক কারণে ছাত্রলীগ করছেন জয়।

এ ছাড়া সহ-সভাপতি, সাংগঠনিক সম্পাদক ও যুগ্ম সম্পাদক পদ পাওয়া আরও অনেকেই ইতিমধ্যে ছাত্রত্ব হারিয়েছেন।

ছয় সাংবাদিককে কমিটিতে স্থান
ঘোষিত কমিটির শেষ পৃষ্ঠায় ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরের ঠিক আগে বিশেষ দ্রষ্টব্য দিয়ে লেখা রয়েছে, ‘উপরিউক্ত কমিটিতে কেউ ব্যবসা বা চাকুরিতে যোগদান করিলে তাদেরকে তাৎক্ষণিকভাবে অব্যাহতি দেয়া হবে।’ কিন্তু এ কমিটিতেই স্থান পেয়েছেন ছয় সাংবাদিক। তাদের পাঁচজনকে সহ-সম্পাদক ও একজনকে উপ-সম্পাদক পদ দেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে দুজন দুটি জাতীয় দৈনিকের নিজস্ব প্রতিবেদক। পাঁচজনের মধ্যে একজন কেবল ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে আগে থেকেই যুক্ত। অন্যরা ছাত্রলীগের কোনো কর্মসূচিতে কখনও অংশ নেননি।

এসব বিষয়ে জানতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদককে বারবার ফোন করা হলেও তারা রিসিভ করেননি

সুত্র : বাংলামেইল২৪ডটকম

ব্রেকিং নিউজঃ