| |

মনোনয়ন জমা দিতে পারেনি বিএনপির ৮৩ প্রার্থী

আপডেটঃ 1:36 pm | February 24, 2016

Ad

আলোকিত ময়মনসিংহ  : সরকার ও সরকারি দলের বাধার কারণেই বিএনপি মনোনীত ৮৩ প্রার্থী মনোয়নপত্র জমা দিতে পারেনি বলে অভিযোগ দলটির।

বুধবার বেলা সোয়া ১১টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এ অভিযোগ করেন।

রিজভী আহমেদ বলেন, ‘সরকার ও সরকারি দলের বাধায় বিএনপির ৮৩ প্রার্থী নোমিনেশন পেপার জমা দিতে পারেনি।  ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে যে সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো তার জন্য দায়ী নির্বাচন কমিশন। এই নির্বাচন কমিশনের কারণেই জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুষ্ঠু পরিবেশ নাই। জনগণের ভোট প্রদানের অধিকার বিলুপ্ত করে সরকারের একচেটিয়াত্ব প্রতিষ্ঠার সহযোগী হিসেবে নির্বাচন কমিশন কাজ করছে।’

তিনি বলেন, ‘নিবাচনকালীন পুলিশ ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী নির্বাচন কমিশনের কর্তৃত্বেই থাকে, কিন্তু তারপরও প্রশাসন ও পুলিশের সহায়তায় কী করে লীগ ক্যাডাররা নির্বাচনকে ঘিরে বাধা সৃষ্টি ও তাণ্ডব চালাতে পারে? নির্বাচন কমিশন কি স্বাধীন সাংবিধানিক সংস্থা নাকি গণভবন বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কিংবা সুধা সদনের এক্সটেনশন ভবনের ভূমিকা পালন করছে? আর এই কারণেই গণতন্ত্রে যে সামাজিক-রাজনৈতিক ভারসাম্য তৈরি হয় সেটি বিনষ্ট হওয়ায় এক কঠোর কর্তৃত্ববাদী দুঃশাসনের বিষাক্ত ছোবল দেশবাসীকে সহ্য করতে হচ্ছে।’

রিজভী বলেন, ‘৭৩৯টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২২ মার্চ। কলঙ্কিত প্রহসনের ৫ জানুয়ারি ২০১৪ এর একতরফা নির্বাচনের যে মডেল খাড়া করেছে বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার এবং তার দোসর নির্বাচন কমিশন পরবর্তীতে তারা প্রতিটি নির্বাচনে সেই মডেলটি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে অনুসরণ করে যাচ্ছে। এই ইউপি নির্বাচনেও যে ভোট ডাকাতিসহ আওয়ামী লীগ ক্যাডার ও পুলিশের যৌথ তাণ্ডব দৃশ্যমান হবে তার সকল আলামত শুরু হয়ে গেছে এখন থেকেই।’

তিনি বলেন, ‘গতকাল দুপুরে পটুয়াখালী জেলাধীন বাউফল উপজেলার ধুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুল জব্বার মৃধার সমর্থকদের ওপর আওয়ামী সন্ত্রাসীরা অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলা চালিয়ে প্রায় পঞ্চাশ জনকে আহত করেছে। এদের মধ্যে ৮ জনকে বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তারা মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। এছাড়া সন্ত্রাসীরা বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকদের দুইটি মোটরসাইকেল আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে।’

‘গণতন্ত্রের অনুপস্থিতির কারণেই আজ সমাজ ও রাষ্ট্রের মানবিক চেহারা লোপ পাচ্ছে। তাই নিষ্পাপ শিশুরাও এই দুঃশাসনের করাল গ্রাসে চিরনিদ্রায় শায়িত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এইভাবে ভোটারবিহীন সরকার আমাদের সমাজকে অনৈতিকতা আর অধপতনের লাস্ট চ্যাপ্টারে পৌঁছিয়ে দিয়েছে। এই দেশকে শান্তি, সুস্থিতি ও স্বস্তি দিতে হলে জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে’ বলে মন্তব্য করেন রিজভী।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাজিম উদ্দিন আলম, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, সহ-দপ্তর সম্পাদক  আব্দুল লতিফ জনি, আসাদুল করিম শাহীন প্রমুখ।

ব্রেকিং নিউজঃ