| |

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নির্মান করে দেয়া হবে বাড়ী মহানুভাব আর মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত ভিক্ষা করে ১০ হাজার টাকা জমা দিলেন করোনা ফান্ডে

আপডেটঃ 1:32 pm | April 23, 2020

Ad

 

মো: নাজমুল হুদা মানিক ॥ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কঠোর নির্দেশে প্রশাসন ও আইন শৃংখলা বাহিনী যখন চাউল চোরদের গ্রেফতার করছে। ঠিক সেই সময় মহানুভাব আর মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন সমাজের একজন অসহায় ছিন্নমুল মানুষ। ভিক্ষা করে জমানো টাকা জমা দিলেন করেনা ফান্ডে। এরকম মানুষ আছে বলেই সমাজ মানবতার শিক্ষা পায়। সমাজের মানুষের বিবেক জাগ্রত হয়। ভাল মন্ধের ব্যবধান করতে পারে। এই অবদান ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। মানব সেবায় এগিয়ে আসলেন শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার ১নং কাংশা ইউনিয়নের গান্ধীগাও গ্রামের একজন মানবতাকর্মী ভিক্ষুক মো: নাজিম উদ্দিন। তিনি ঘর নির্মানের জন্য ৩ বছরে ভিক্ষা করে ১০ হাজার টাকা সঞ্চয় করে ছিলেন। সেই ১০ হাজার টাকা ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: রুবেল মাহমুদের করোনা তহবিলে দান করেছেন। আসলে মানুষের ইচ্ছাটাই মূল শক্তি। মহানুভাব এই ব্যাক্তির উজ্জল দৃষ্টান্ত সমাজে অনুকরনীয় হয়ে থাকবে। করোনা ফান্ডে জমাদানের এই অবদানের কথা জানতে পেরে শেরপুরের জেলা প্রশাসক জনাবা আনার কলি মাহবুব তাঁকে ঊষ্ণ ফুলেল সংবর্ধনা দিয়েছেন। পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে ঘর নির্মান করে দেয়ার ঘোষনাও দিয়েছেন। সমাজের চোখে অতি সাধারন হয়েও মানুষ হয়ে সমাজপতিদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন মানবতার উজ্জল দৃষ্টান্ত। ৮০ বছরের প্রবীণ ব্যক্তি মো. নজিমুদ্দিন। বাড়ি শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের গান্ধীগাঁও গ্রামে। ভিক্ষা করে চালান সংসার। নিজের থাকার একটিমাত্র ঘর মেরামত করার জন্য ৩ বছর ধরে ভিক্ষা করে জমিয়েছিলেন ১০ হাজার টাকা। সেই টাকাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবেল মাহমুদের হাতে তুলে দেন কর্মহীন মানুষের খাদ্যসহায়তার জন্য খোলা করোনা তহবিলে। এই মহানুভবতার পুরস্কার পেলেন আজ নাজিমুদ্দিন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সুহৃদ এই ব্যক্তির মহানুভবতায় খুশি হয়ে তাকে একটি ঘর নির্মান করে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সেই সাথে তার পরিবারের ব্যয় চালানোর জন্য একটি দোকান করে দেয়া এবং চিকিৎসার সব দায়িত্ব নিয়েছেন শেরপুর জেলা প্রশাসন। এছাড়াও তার পরিবারের অন্যান্য সমস্যা সমাধান করে দেয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে দায়িত্ব প্রদান করেছেন জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুব। এই আলোকিত মানুষটিকে শেরপুর জেলার মান্যবর জেলা প্রশাসক আনারকলি মাহবুব জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং উত্তরীয় পরিয়ে দিয়ে সংবর্ধনা প্রদান করেন। সেই সাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ হতে ঘোষিত উপহার সংক্রান্ত সকল কাগজ নাজিমুদ্দিনের হাতে তুলে দেন। এমনই এক ঘটনা ঘটে ছিল গফরগাঁও উপজেলার এক রিক্সা চালক হাসমত আলীকে নিয়ে। তিনি পেটের দায়ে রিক্সা চালাতেন ঢাকায়। থাকতেন বস্তিতে। সারাজীবন পরিশ্রম করে এক টুকরো জমি কেনেন। কিন্তু জমিটি তার নিজের জন্য কিনেন নি। কিনেছিলেন জাতির জনকের কন্যার নামে। মহানুভাব হাসমত আলীর চিন্তা ছিল জাতির জনক নেই। কি হবে তাঁর কন্যার। তাঁরতো থাকার জায়গা নেই। কোথায় থাকবেন তিনি। কত চিন্তা রিক্সা চালক হাসমত আলীর মনে। জমিটি কিনে হাসমত আলী তাঁর স্ত্রীকে বলে যে জমিটি কিনেছি এটি জাতির জনকের কন্যার। তাঁরতো বাবা নেই। কোথায় থাকবেন তিনি। এ নিয়ে হাসমত আলী ও তাঁর স্ত্রীর সাথে কথাবার্তাও হয়। অনেক কথা…। ঘটনাক্রমে রিক্সা চালক হাসমত আলীর সাথে সাক্ষাৎ হয় দৈনিক কালের কন্ঠের সাংবাদিক হায়দার আলীর সাথে। সাংবাদিক হায়দার আলী ঘটনার বর্ননা দিয়ে ফিচার নিউজ করেন। পরবর্তীতে রিক্সা চালক হাসমত আলী মারা যান। পত্রিকাটির নিউজ দৃষ্টিগোচর হয় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার। মমতাময়ী জননী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হাসমত আলীর জমি তাঁর পরিবারকে ফিরিয়ে দেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তত্বাবধানে সরকারী খরচে জমিতে বাড়ী নির্মান করে দেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজে গফরগাঁওয়ে পাচুয়ায় হাসমত আলীর বাড়ীতে উপস্থিত হয়ে হাসমত আলীর স্ত্রীর কাছে বাড়ীটি হস্তান্তর করেন। বিশ্ববাসী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উধারতা ও ভালবাসার নিদর্শন দেখতে পেল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যোগ্য উত্তরসুরী শেরপুরের জেলা প্রশাসক আনার কলি ভিক্ষুকের মানবতার সংবাদটি জানতে পেরে তাঁকে সসম্মানে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আমন্ত্রন জানান। ফুলের তোড়া উপহার দিয়ে সম্মানিত করেন। ছিন্নমুল অসহায় মানুষ হিসাবে পরিচিত ভিক্ষুককে সরকারী খরচে ঘর নির্মান করে দেয়ার ঘোষনা প্রদান করেন। নাজিমুদ্দিনের মত ব্যক্তিদের আলোয় আলোকিত হোক আমাদের সমাজ, আমাদের দেশ।

ব্রেকিং নিউজঃ