| |

“অন্তহীন ভালবাসা”

আপডেটঃ 1:33 pm | May 02, 2020

Ad

প্রদীপ ভৌমিক ॥

স্রীর প্রতি স্বামীর অন্তহীন ভালবাসার উজ্জল দৃষ্টান্ত এড, সাদেক খান মিল্কী টজুর তার সহধর্মীনি আসমাউল হোসনা টিটুর প্রতি ছিল। যার সাক্ষী আমরা যারা তার কাছের জন রাজনৈতিক সহকর্মী।টিটু ভাবির অসুস্হতার প্রথম দিকটা ছিল বিএনপি জামাত জোটের শাসনকাল।টজু তখন ময়মনসিংহ শহর আঃলীগের সাঃ সন্পাদক। টজু ভাই তখন
দিন রাত গনতনন্ত্র উদ্ধারের আন্দোলন নিয়ে ব্যাস্ত। কর্মীবান্দ্ধব এই নেতা তখন লড়াই সংগাম আর কর্মীদের নিয়ে আন্দোলনের কর্মসূচি প্রনয়নে ব্যাস্ত থাকত। লক্ষ একটাই জোট সরকারের পতন,গনতন্ত্র পুনরুদ্ধার।নিজের সহধর্মীনির প্রতি লক্ষ্য রাখার অবকাশ ছিলনা তার।এ নিয়ে তার স্রীর অভিমান ছিল অনেক। তারপর আঃলীগ ক্ষমতায় এল,দলীয় ক্ষমতাও হাতবদল হয়ে টজুভাই জেলা আঃলীগের সহ সভাপতি হলেন।ততদিনে মেঘে মেঘে অনেক বেলা হয়ে গেছে। টিটু ভাবি অসুস্হতা বেড়ে চরম পর্যায়ে পৌছল। ডাইবেটিসের কারনে কিডনি বিকল হয়ে গেল। বাংলাদেশে চিকিৎসার ফল না পেয়ে ভাবিকে নিয়ে দিল্লী গেলেন টজুভাই চিকিৎসার জন্য।কিন্তুু দূর্ভাগ্য সেখানেও কিডনি অপারেশন ব্যার্থ হল। শুরু মৃত্যুর প্রহর গুনা। একজন সফল ব্যাবসায়ী ও বিজ্ঞ রাজনীতিবিদ ছিলেন টজু ভাই।অসুস্হ স্রীর জন্য সব কিছু থেকে সরে এসে সর্বক্ষন সহধর্মীনির পাশে সময় দিতেন। টিটু ভাবি, টজু ভাইকে মা,বাবা বন্ধুর মত ভাবতেন এমনকি খাবার খেতে হলে টজু ভাইয়ের হাত ছাড়া অন্য কারো হাতে খেতেন না। ।টজু ভাই প্রতিরাতে নির্ঘূম রাত কাটাতেন ভাবির পাশে বসে। অবশেষে টজু ভাই হারিয়ে ফেলেছেন ভাবিকে।টিটু ভাবির মৃত্যু খবর যখন টজু ভাই ফোনে আমাকে জানাল তখন কান্না জড়িত কন্ঠে বলল “পইদ্যা টিটু নেই আমি হারিয়ে ফেলেছি তাকে ধরে রাখতে পারলামনা “। খবর শুনে আমারও মনে হয়েছে আমিও হারিয়েছি আপনজনকে যে প্রতি রোজার ঈদের আগের রাতে ফোনে বলত দাদা সকালে আসবেন ভূনা সেমাই খাওয়াব। ভূনা সেমাই আমি পছন্দ করতাম তিনি তা জানতেন। এমনি অনেক স্মৃতী আছে যার সাগরে ভাসতে ভাসতে উনার বিদেহী আত্মার চির শান্তি কামনা করি।
42 Comments
1 Share

Comments

ব্রেকিং নিউজঃ