| |

মনোনয়ন প্রত্যাশী বীরমুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম ৯নং উচাখিলা ইউনিয়নের জনপ্রিয় আওয়ামীলীগের ত্যাগীনেতা

আপডেটঃ 2:28 am | February 25, 2016

Ad

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঈম্বরগঞ্জ উপজেলায়র ইউনিয়ন গুলোতে চলছে নির্বাচনী হওয়া। দলীয় মনোনয়নের জন্য প্রার্থী স্থানীয় অনেকেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের পক্ষে চলছে লবিং গ্রুপিং।
প্রার্থী বাছাই পক্রিয়ায় বড় দু‘দলেরই হিমশিম অবস্থা চলছে। পর্যবেক্ষকেরা লক্ষ্য করেছেন আওয়ামীলীগের টিকেট পাওয়ার স্বপ্নের পেছনেই দৌড়ছেন অনেকে। এমনকি বিএনপি ঘরনার নেতারাও হাটছেন উল্টো পথে।
আর আওয়ামীলীগের এক শ্রেনীর নেতাদের সমর্থন আছে তাদের দিকে। এমন ঘটনায় আওয়ামীলীগের ভোটাররা মনোনয়নের দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন। এনিয়ে আলোচনা সমালোচনা চলছে।
ঈম্বরগঞ্জের ৯নং উচাখিলা ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম। জানাযায়, এছাড়াও এখানে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাপ করেছেন বর্তমান চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম।
শফিকুল ইসলাম গত নির্বাচনে বিজয়ী হলে বিএনপির সাফল্যের ঝুড়িতে তার নামও উঠে ছিল। স্থানীয় সুত্রগুলোর দাবি তিনি বিএনপি ঘরনার। আওয়ামীলীগে যোগদান পর্যন্ত করেনি। কিন্তু তার সমর্থনে আওয়ামীলীগের স্থানীয় একটি মহল সক্রিয় রয়েছেন। উচাখিলা আওয়ামীলীগে এ ব্যাপারে নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে।
অনেকেই মনে করেন কোন কারনে যদি শফিকুল ইসলামকে মনোনয়ন দেয়া হয় তাহলে নির্বাচনে বিপর্যয় হতে বাধ্য। ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগ দুই ভাগে বিভক্ত। একটি গ্র“প বিএনপির লোকজনকে আওয়ামীলীগ বলে চিন্থিত করে মনোনয়ন দেয়ার পক্ষে কাজ করছে। বর্তমান চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম ও তার পরিবার বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত।
উচাখিলার স্থানীয় জনগন চেয়ারম্যান পদে পরিবর্তনের প্রত্যাশী। স্থানীয় জনগন মনে করেন, প্রকৃত অর্থে আওয়ামীলীগ যারা করেন তাদের মধ্য থেকেই প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া উচিত। জনমত যার পক্ষে বেশি সোচ্চার তিনি হলেন, বীরমুক্তিযোদ্ধা আওয়ামীলীগের একনিষ্ট কর্মী আবুল কাশেম।
‘৭৫ পরবর্তী থেকে অদ্যবদি যে কয়জন হাতে গোনা রাজনীতিবীদ লড়াই সংগ্রামে নিজেদেরকে নিয়োজিত রেখেছেন তাদের মধ্যে আবুল কাশেম অন্যতম। সরকারী থানা মৎস্য কর্মকর্তা থাকাবস্থায়ও আবুল কাশেম বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য প্রতিটি সংগ্রামে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন।
প্রশাসনিক রক্ত চক্ষুকে তিনি ভয় পান নাই। এলাকাবাসীর সুখ দু:খে সার্বক্ষনিক সময় তিনি জনগনের পাশে থেকেছেন। সরকারী চাকুরী থেকে অবসর নেয়ার পর আওয়ামীলীগের একজন সার্বক্ষনিক কর্মী হিসাবে তিনি দলীয় কাজ করে গেছেন। জনশ্রে“তি আছে চাকুরী থেকে অবসর নেয়ার অল্প কিছুদিন পর তিনি নির্বাচনে প্রতিদন্দিতা করে প্রকৃত পক্ষে তিনিই জয়ী হয়ে ছিলেন।
কিন্তু প্রতিপক্ষের কোটি টাকার বিনিময়ে ইলেকশান ইঞ্জিনিয়ারিং করার ফলে দুর্ভাগ্য জনক ভাবে তিনি পরাজয় বরন করে নিয়ে ছিলেন। দলীয় নেতাকর্মীরা তাই প্রত্যাশা করে আওয়ামীলীগ থেকে আবুল কাশেমকে মনোনয়ন দেয়া হলে ইলেকশান ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিহত করে আওয়ামীলীগকে বিজয়ী করবে।
জনগনের অত্যন্ত প্রিয় আবুল কাশেম ও তার চার ভাই বীরমুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেমের বড় ভাই বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা ইউনিট কমান্ডার ছিলেন। উচাখিলার উন্নয়নের ব্যাপারে আবুল কাশেমের পরিবার এতটাই নিবেদিত ছিলেন যে, উচাখিলা ইউনিয়নবাসী তার বড় ভাই বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালামকে তিন তিন বার ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছিলেন।
জনপ্রিয় মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম কোন দিন দলীয় পদ পাওয়ার জন্য চেষ্টা করেন নাই, কিন্তু আওয়ামীলীগের জন্য নিবেদিত কর্মী হিসাবে কাজ করে গেছেন। উচাখিলা সদরে হরতাল অবরোধ থেকে শুরু করে ঢাকায় সমাবেশে তিনি প্রত্যক্ষ ভাবে অংশ গ্রহন করেছেন।
বিভিন্ন জাতীয় নির্বাচনে উনার সমর্থিত আওয়ামীলীগ প্রার্থীরাই বার বার বিজয়ী হয়েছেন। এ জন্য তাকে বলা হয় তিনি রাজণীতির বর পুত্র। উনি প্রার্থী হবেন শোনে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারন মানুষের মধ্যে এক ধরনের উন্মাদনা সৃষ্টি হয়েছে। সবাই কামনা করছে আওয়ামীলীগ অন্তপ্রান এমন একটি বীরমুক্তিযোদ্ধাকে যেন মনোনয়ন দিয়ে নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা পুরন করা হয়।
কিন্তু অনুসন্ধানে জানাযায়, উচাখিলা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি বিএনপি দলীয় লোকদের আওয়ামীলীগে ভিরিয়ে অন্য আরেকজনকে মনোনয়ন দেয়ার চিন্তা ভাবনা করছেন। এজন্য স্থানীয় নেতাকর্মীরা একধরনের হতাশায় ভুগছে।
একটি সুত্র জানায়, বর্তমান চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম ইউনিয়নবাসীর জন্য বরাদ্দকৃত বিজিএফ, বিজিডি, টিআর, কাবিখা, কাবিটা, ৪০দিনের কর্মসুচীর প্রায় দেড় কোটি টাকা দুর্নীতি করে আতœসাৎ করেছে। জনশ্রোতি রয়েছে, তার আগের চেয়ারম্যান সেলিম খা উচাখিলা বাজারে অবৈধ ভাবে অন্যের বাড়ী দখল করেছে। তার সাথে জামাতের সাথে সম্পৃক্ততা ছিল। বর্তমানে তিনি জাপায় যোগদিয়েছেন বলেও জানাগেছে।
জানাযায়, সফিকুল ইসলাম গত নির্বাচনে বিএনপির সাবেক এমপির ইফতার পার্টিতে অর্ধলক্ষ টাকা চাঁদা দেয়া সহ অংশ গ্রহন করেন। বীরমুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেমের পরিবার আওয়ামীলীগ রাজনীতির সাথে দীর্ঘদিন যাবৎ জড়িত। উনার পরিবারের রাজনীতিক ইতিহাস বলতে গেলে করতে হয়, ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামীলীগের ১০নং ওয়ার্ডের সাধারন সম্পাদক হলেন উনার বড় ছেলে মো: কামরুজ্জামান রাসেল।
যিনি ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক স্কুল ও ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যও ছিলেন। বীরমুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেমের ছোট ছেলে রাশেদুল হক রনি ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ন সাধারন সম্পাদক।
ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গুলো হাজী ও উচাখিলা সংলগ্ন ত্রিশাল থানার বালিপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা সাবেক জেলা যুবলীগ সভাপতি আওয়ামীলীগের আরেকজন একনিষ্ট কর্মী প্রদীপ ভৌমিক মনে করেন বীরমুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেমকে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন প্রদান করে দু:সময়ের এই কর্মীর যথার্থ মুল্যায়ন করা হবে এবং আবুল কাশেম বিজয় ছিনিয়ে এনে জনগনের প্রত্যাশা পুরন করবে।

ব্রেকিং নিউজঃ