| |

৭ মে ২০০৭ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ২য় স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ইতিহাস

আপডেটঃ 1:49 pm | May 07, 2020

Ad

 

আব্দুল কদ্দুছ মাখন ॥

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস একটি। আর বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস দুটি। পিতা-কন্যার এই তিনটি প্রত্যাবর্তন দিবসই বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করে। ৮ জানুয়ারি পাকিস্তানি কারাগার থেকে মুক্তি লাভের পর লন্ডন ও ভারত হয়ে বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি তার স্বপ্নের স্বাধীন সোনার বাংলায় প্রত্যাবর্তন করেন। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ৬ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে ১৯৮১ সালের ১৭ মে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা স্বদেশে ফিরে আসেন। এরপর সেনাসমর্থিত অনির্বাচিত সরকারের সঙ্গে লড়াই করে ২০০৭ সালের ৭ মে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন শেখ হাসিনা।
তবে দ্বিতীয়বার ২০০৭ সালে শেখ হাসিনা সেনাসমর্থিত সরকারের সঙ্গে যেভাবে লড়াই করে দেশে আসেন, এর কোনো তুলনা হয় না। ৩ কোটি টাকার চাঁদাবাজির মামলা, খুনের মামলায় চার্জশিট, গ্রেফতারি পরোয়ানা, সর্বশেষ ‘রাষ্ট্রের জন্য বিপজ্জনক ব্যক্তি’ ঘোষণা করেও শেখ হাসিনাকে ই,ফ,ম (ইয়াজউদ্দিন, ফখরুদ্দীন, মঈনউদ্দীন) সরকার বিদেশের মাটিতে আটকে রাখতে পারেনি। একটি ক্ষমতাসীন সরকারের সঙ্গে একজন মানুষের এমন লড়াই করার অনন্য নজির বিশ্ব রাজনীতিতে দ্বিতীটি খুঁজে পাওয়া যায় না। শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবন পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে তিনি তার সিদ্ধান্ত থেকে এক চুলও সরে আসেন না। তিনি দেশ ও জাতির স্বার্থে যখন যা ভালো মনে করেন, তা বাস্তবায়িত করেন।
শেখ হাসিনা ২০০৭ সালের ৭ মে স্বদেশে ফিরে আসেন সেনাসমর্থিত তিন উদ্দীনের (ইয়াজউদ্দীন, ফখরুদ্দীন ও মইনউদ্দীন) সরকারের সঙ্গে সরাসরি লড়াই করে। কি কঠিন পরিস্থিতিতে বঙ্গবন্ধুকন্যা ৭ মে দেশে ফিরে আসেন তা জানতে হলে আমাদের একটু পেছনে ফিরে যেতে হবে। বঙ্গবন্ধু হত্যার ১৯ বছর পর ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হয়ে খুবই ভালোভাবে দেশ পরিচালনা করেন শেখ হাসিনা। স্বাধীনতার পর প্রথম সরকার প্রধান হিসাবে শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করে রেকর্ড সৃষ্টি করেন জননেত্রী শেখ হাসিনা।
২০০১ সালে ষড়যন্ত্রের নির্বাচনে শেখ হাসিনার দল আওয়ামীলীগকে হারিয়ে দেয়া হয়।স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত-শিবিরকে সঙ্গে নিয়ে খালেদা জিয়া ও তদীয় পুত্র তারেক রহমান দেশে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন। মেয়াদ শেষে সংবিধান লংঘন করে খালেদা জিয়া দলীয় রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহামেদকে একই সঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বানিয়ে তার কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন প্রধান উপদেষ্টার পদ দখল করে কারচুপির নির্বাচনে আবারও খালেদা-নিজামীকে ক্ষমতায় বসানোর নীলনকশা প্রণয়ন করেন। শেখ হাসিনা আন্দোলনের কঠিন কর্মসূচি প্রদান করেন। খালেদা গংয়ের প্ররোচনায় রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন দেশে গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি সৃষ্টি করলে সেনাপ্রধানের সমর্থনে ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে একটি অসাংবিধানিক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা দখল করে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দীন আহমেদ হলেও ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন সেনাপ্রধান মঈনউদ্দীন আহমেদ। খালেদা জিয়া সেনাপ্রধান মঈনউদ্দীন আহমেদকে সরাসরি ক্ষমতা নিতে অনুরোধ করেছিলেন। সেনাসমর্থিত ফখরুদ্দীন সরকার ক্ষমতা দখল করলে আওয়ামীলীগ উল্লসিত না হলেও অখুশি হয়নি। সবার ধারণা ছিল, ফখরুদ্দীন সরকার অল্প সময়ের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠান করবে। আওয়ামীলীগের ধারনা ছিলো , নির্বাচনে বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে তারা ক্ষমতায় আসবে। দেশের মানুষ বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ্য করল, দুই বড় দলের দুই নেত্রীকে রাজনীতি থেকে দূরে রেখে সেনাসমর্থিত সরকার ৫-৭ বছর ক্ষমতায় থাকার পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। ওই সময় নোবেল পুরস্কার জয়ী ড. ইউনূসকে ক্ষমতায় বসানোর জন্যও চেষ্টা করা হয়। ড. ইউনূস রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণাও দিয়েছিলেন। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত সাড়া না পাওয়ায় দল গঠন সম্ভব হয়নি। সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদ ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিনকে প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে সরিয়ে ড. মোহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টার পদে বসাতে চেয়েছিলেন। ১১ জানুয়ারি রাতে সেনা কর্মকর্তারা বাসায় গিয়ে প্রধান উপদেষ্টার পদ গ্রহণ করতে ড. ইউনূসকে আমন্ত্রণ জানান। ড. ইউনূস ওই পদ গ্রহণ করতে বিনয়ের সঙ্গে অস্বীকার করেন। সেনা কর্মকর্তারা তার পছন্দের অন্য কোনো নাম দিতে ড. ইউনূসকে অনুরোধ করেন।
যতদূর জানা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফখরুদ্দীনের নাম ড. ইউনূসই সিলেক্ট করে দেন। ১২ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার পদ গ্রহণ করেন ড. ফখরুদ্দীন আহমেদ। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ২০০৭ সালের ১৫ মার্চ অসুস্থ পুত্রবধুকে দেখতে ব্যক্তিগত সফরে যুক্তরাষ্ট্রে যান। সেনাসমর্থিত ফখরুদ্দীন সরকার তখন শেখ হাসিনাকে বিদেশে রেখে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেশের বাইরে পাঠানোর পরিকল্পনা নেয়। এ সময় সেনাসমর্থিত সরকার নিযুক্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) হঠাৎ করে ঘোষণা করেন ‘দেড় বছরের আগে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব নয়।’ শেখ হাসিনা বুঝে গেলেন আলামত সুবিধার নয়। ক্ষমতা দখলকারীরা ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার ষড়যন্ত্র করছে। চুপ করে থাকতে পারলেন না বিদেশ সফররত শেখ হাসিনা। ৬ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে সিইসির বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, ‘নির্বাচন অনুষ্ঠানে বিলম্ব করলে জনগণের ধৈর্যচ্যুতি ঘটবে। যতদূর সম্ভব তাড়াতাড়ি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে হবে।’ শেখ হাসিনার প্রতিবাদী বক্তব্য ক্ষমতাসীনরা সহজভাবে গ্রহণ করেনি। মাত্র ৩ দিনের মাথায় ৯ এপ্রিল শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ৩ কোটি টাকার চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়।
জনৈক তাজুল ইসলাম তেজগাঁও থানায় এ মামলা করেন। মামলার কথা শুনে ক্ষুব্ধ হন শেখ হাসিনা। ক্রুদ্ধ বঙ্গবন্ধুকন্যা ব্যক্তিগত সফর সংক্ষিপ্ত করে অতিশয় দ্রুততার সঙ্গে দেশে ফেরার ঘোষণা দেন। সরকার এবং তাদের মুরব্বিদের ধারণা ছিল, মামলার কথা শুনে শেখ হাসিনা ধীরে সুস্থে পদক্ষেপ নেবেন এবং তার সফর কিছুটা হলেও বিলম্বিত হবে। কিন্তু বাস্তবে ঘটল এর বিপরীত। এদিকে সরকারেরও লেজ গুটানোর সুযোগ নেই। চাঁদাবাজির মামলার ২ দিন পর ৬ মাস আগের ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর পল্টনে সহিংসতার ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ ৪২ জন দলীয় নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। চার্জশিটের কথা শুনে ১১ এপ্রিল ২০০৭ ওয়াশিংটনে এক সভায় শেখ হাসিনা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, হয়রানি ও ভয় দেখাতেই তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের এবং খুনের মামলায় চার্জশিট দেয়া হয়েছে। সাহসী মুজিবের দুঃসাহসী কন্যা জোরের সঙ্গে বলেন, ‘প্রয়োজনে জীবন দেব কিন্তু কোনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করব না।’ তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে টালবাহানা করায় ক্ষমতাসীনরা জনসমর্থন ও গ্রহণযোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছে। ওই দিনই বার্তা সংস্থা এপির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে জননেত্রী বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে আনা হত্যা ও চাঁদাবাজির মামলা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। আইনি পথেই মামলার মোকাবিলা করা হবে। হেয় করতেই এ মামলা দেয়া হয়েছে। আমি নির্ধারিত তারিখের আগেই আমার দেশে ফিরে যাব। ইতিমধ্যে বিমানের টিকিটও কাটা হয়ে গেছে।’
আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর দেশে আসার কথা ছিল ২৩ এপ্রিল। আরো ৯ দিন এগিয়ে তিনি ১৪ এপ্রিল দেশে ফেরার ঘোষণা দেন। শেখ হাসিনার দুঃসাহসী কর্মকান্ড এবং দেশে ফেরার তারিখ এগিয়ে আনায় সেনাসমর্থিত সরকারের কর্তাব্যক্তিরা হতভম্ভ হয়ে পড়েন। এ সময় সরকার কিছুটা পিছু হটে। সরকারের পক্ষ থেকে পূর্বনির্ধারিত তারিখে দেশে ফিরতে শেখ হাসিনার প্রতি অনুরোধ জানানো হয়। ১১ এপ্রিল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘সরকারের একজন উঁচু পর্যায়ের কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের নেত্রী এবং ঢাকায় আমার সঙ্গে কথা বলেছেন। ওই কর্মকর্তা নেত্রীর দেশে আসার তারিখ পরিবর্তন না করে পূর্ব নির্ধারিত ২৩ এপ্রিল আসার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।’
সরকার চেয়েছিল শেখ হাসিনা দেশে না এলে বেগম জিয়াকে এ সুযোগে বিদেশে পাঠিয়ে দেয়া হবে। দুই পুত্রের বিরুদ্ধে পর্বতসম দুর্নীতির অভিযোগ থাকার কারণে বেগম জিয়ার বিদেশে যাওয়ার ব্যাপারে তেমন জোরালো আপত্তি করার কথা নয়। ওই অবস্থায় শেখ হাসিনাকে আমেরিকায় রেখে ওই সময়ের মধ্যে বেগম জিয়াকে বিদেশ প্রেরণের প্রস্তুতি চলে। ফখরুদ্দীন গং মনে করেছিলেন বেগম জিয়াকে বিদেশে পাঠানোর পর শেখ হাসিনাকে হয়তো বুঝিয়ে সুঝিয়ে হলেও আরও কিছুদিন বাইরে রাখা যাবে। বিদেশে যাওয়ার প্রস্তাব শুনে বেগম জিয়া তার দুই পুত্রকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। কিন্তু গ্রেফতারকৃত তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতিসহ হরেক রকমের বড় বড় অভিযোগ থাকায় তাকে কোনোভাবেই ওই সময় বাইরে যেতে দেয়া হবে না বলে বেগম জিয়াকে জানানো হয়। অগত্যা বেগম জিয়া কনিষ্ঠ পুত্র কোকো এবং দুই পুত্রবধূকে নিয়েই বিদেশে পাড়ি জমাতে সম্মত হন। ওই সময় জানাজানি হয়ে যায়, বেগম জিয়া যে কোনো সময় বিদেশের উদ্দেশে দেশত্যাগ করবেন।
২১ এপ্রিল ২০০৭ বেগম জিয়া কারাগারের বাইরে বিশেষ ব্যবস্থায় অতিশয় গোপনে বন্দি পুত্র তারেক রহমানের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেন। তখন বিএনপি নেত্রীর বিদেশ যাত্রার ব্যাপারে সবাই শতভাগ নিশ্চিত হয়ে যান। বেগম জিয়া বিদেশে চলে গেলে শেখ হাসিনাকে যে সরকার কোনোভাবেই দেশে ফিরতে দেবে না, এ চিন্তায় অস্থির শেখ হাসিনা যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফিরতে একরকম মরিয়া হয়ে ওঠেন। শেখ হাসিনা হয়তো তখন এ বিষয়টি ভেবে উদ্বিগ্ন ছিলেন যে, দুই বড় দলের শীর্ষ নেত্রী বিদেশে থাকলে সেনাসমর্থিত সরকার আবার ৫-৭ বছরের জন্য ক্ষমতায় জেঁকে বসবে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা বিলম্বিত হবে। ওই অবস্থায় বেগম জিয়ার দেশ ত্যাগের পূর্বেই শেখ হাসিনা দেশে ফিরতে সর্বশক্তি নিয়োগ করেন। তখন সরকার দেখল, খালেদা কোনো সমস্যা নয়। প্রধান সমস্যা শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা যদি দেশে চলেই আসেন, তাহলে খালেদাকে বিদেশে পাঠিয়েই লাভ কী? তাছাড়া ওরা জানতো, হাসিনাকে যে কোনোভাবে বাইরে আটকাতে পারলে, খালেদাকে বিদেশে পাঠাতে তাদের জন্য কোনো সমস্যাই হবে না।
শুধু দেশ ও জাতির স্বার্থের কথা মাথায় রেখেই জনতার নেত্রী মামলা, হামলাসহ জীবনের ঝুঁকি নিয়েই স্বদেশে ফেরার সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। কিন্তু কোনোভাবেই যখন আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর বিদেশে থাকতে রাজি হচ্ছিলেন না, তখনই সরকার তার দেশে ফেরার ব্যাপারে এক অদ্ভুত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে বসে। ২০০৭ সালের ১৮ এপ্রিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রেসনোটে সাবেক প্রধানমন্ত্রী, তিন বার জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেত্রী, দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দলের সভানেত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক ব্যক্তি’ ঘোষণা করে তার দেশে আসার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
এরপরও শেখ হাসিনা দমে গেলেন না। চাঁদাবাজির মামলা, খুনের মামলায় চার্জশিট, গ্রেফতারি পরোয়ানা, ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক ব্যক্তি ঘোষণা’ কোনো কিছুকেই পরোয়া করলেন না অসম সাহসী মুজিবের দুঃসাহসী কন্যা। শেখ হাসিনার নেতৃত্বের এটাই সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য যে, জাতীয় স্বার্থে দেশের জনগণের জন্য পিতার মতোই যে কোনো ত্যাগ স্বীকার এমনকি মৃত্যুকে পর্যন্ত আলিঙ্গন করতে সর্বদা প্রস্তুত থাকেন।
এভাবে পর্বতসম বাধার মুখে ২৩ এপ্রিল ২০০৭ সালে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজে ঢাকা ফেরার ঘোষণা দিয়ে শেখ হাসিনা ওয়াশিংটন থেকে ১৯ এপ্রিল লন্ডন পৌঁছেন। ২২ এপ্রিল সিএমএম আদালত পল্টন সহিংসতা মামলার চার্জশিট গ্রহণ করে শেখ হাসিনা ও মোহাম্মদ নাসিমসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও ২২ এপ্রিল ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ শেখ হাসিনাকে বিমানে উঠার অনুমতি দেয়নি। সেনাসমর্থিত সরকারের দমন-নীতির মুখে শেখ হাসিনার স্বদেশে ফেরার আকুলতা ও ব্যাকুলতায় শুধু দেশের মানুষ নন, বিদেশের মানুষও খুশি হন। সাহস, দেশপ্রেম এবং মাতৃভূমিতে ফিরে আসার অদম্য আকাঙ্ক্ষার জন্য শেখ হাসিনা রাতারাতি বিশ্বনেত্রীতে পরিণত হন। ২৩ এপ্রিল বিশ্বের ৪১টি দেশের ১৫১টি শীর্ষস্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় শেখ হাসিনা বিষয়ক খবর ছাপা হয়েছিল বলে একটি সমীক্ষায় জানা যায়।
শেষ পর্যন্ত ফখরুদ্দীন সরকার পিছু হটলো। দেশ-বিদেশের সমালোচনার মুখে ২৫ এপ্রিল ২০০৭ বুধবার উপদেষ্টা পরিষদের একটি আনুষ্ঠানিক বৈঠকে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। ওই বৈঠকের পর আরও বলা হয়, বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে প্রেরণের ব্যাপারেও সরকার কোনো চাপ দেয়নি বা এখনও দিচ্ছে না।
৭ মে ২০০৭ স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করলে জরুরী অবস্থার মাঝেও হাজার হাজার মানুষ আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে সাদর অভ্যর্থনা জানিয়ে বিমানবন্দর থেকে ৩২ নং ধানমন্ডি পর্যন্ত নিয়ে আসেন। সেদিন প্রবল প্রতিকুল অবস্থার মাঝে শেখ হাসিনা যদি দেশে না আসতেন তবে হয়ত বেগম জিয়া পুত্র কোকো ও পুত্রবধুদের নিয়ে বিদেশ চলে যেতে বাধ্য হতেন।
হয়ত ই,ফ,ম সরকার সুবিধাবাদী দের নিয়ে প্রহসনের নির্বাচন দিয়ে বা না দিয়ে লম্বা সময় ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করতো।
লড়াই করে বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশে আসাতেই বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশ যেতে হয়নি। এজন্যে বেগম জিয়ারও শেখ হাসিনার কাছে ঋনী থাকা উচিত।
নেত্রী দেশে আসার পর থেকে নির্বাচনের পূর্ব পর্যন্ত সুধা সদনে মানুষ জনের আগমন /ভীড় কম থাকায় প্রায় প্রত্যহ নেত্রীর সাথে দেখ হতো। এই লেখা নেত্রীর সেই সময়কার স্মৃতিচারণ। সন তারিখ ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত।
সুপ্রিয় পাঠক ক্ষমা সুন্দর মনোভাব নিয়ে পড়বেন। ভুলত্রুটি সংশোধনের লক্ষ্যে মতামত জানাবেন।

 

ব্রেকিং নিউজঃ