| |

নগরবাসীর জীবনযাত্রার মানউন্নয়নে করোনা পরিস্থিতির পাশাপাশি ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র টিটু‘র উদ্যোগে চলছে ড্রেন পরিস্কার ও মশক নিধন কার্যক্রম

আপডেটঃ 3:30 pm | May 07, 2020

Ad

 

মো: নাজমুল হুদা মানিক ॥ ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের জননন্দিত মেয়র মো: ইকরামুল হক টিটু নগরবাসীর জীবনযাত্রার মানউন্নয়নে জীবনবাজি রেখে করোনা পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে জনগনের আস্তার কেন্দ্র বিন্দুতে রয়েছেন। মহামারি করোনা পরিস্থিতি মানুষের মনে আতঙ্ক সৃষ্টির পুর্বেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার আহবানে জনসচেতনতাবৃদ্ধি, সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে লিফলেট বিতরন, হেন্ড সেনিটাইজার বিতরন, হাতধোয়ার সাবান বিতরন সহ বিভিন্ন জনসচেতনতা মুলক কাজ শুরু করেন। সরকারের নিদের্শে লকডাউন শুরু হলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে মেয়র টিটু ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন সহ আশপাশের এলাকায় সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর ও দলীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে সমাজের লক্ষাদিক অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরন করেছেন। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত জনপ্রিয় মেয়র টিট‘র এ জনকল্যান মুলক কার্যক্রম অভ্যাহত থাকবে ভলে জানাগেছে। জনগনের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও গতিশীল জীবন উন্নত করার লক্ষ্যে মেয়র টিটু করোনা পরিস্থিতির পাশাপাশি ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের মশক নিধন কার্যক্রম অভ্যাহত রেখেছেন। মশক নিধন কার্যক্রমটি শুরু হয়েছিল মার্চ মাসের শুরুর দিকে। এরপর দেশে করোনার আক্রমণ। করোনা পরিস্থিতির কারনে মেয়র টিটু এবং সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা কর্মচারীদের ব্যস্ততা বেড়ে যায় বহুগুণে। মাঠে থেকে করোনা কার্যক্রমের তদারকি, জনসাধারণকে সচেতন করা, সংক্রমণ বাড়লে তার প্রস্তুতি গ্রহণ এসব কিছুর মাঝেও জননন্দিত মেয়র মোঃ ইকরামুল হক টিটু অনুভব করলেন মশক নিধন কার্যক্রমকে আরো পরিকল্পিত এবং ব্যাপক করা দরকার। মেয়র টিটু‘র পরিকল্পনা মোতাবেক মার্চ মাসের ২ তারিখ থেকে ৯ তারিখ পর্যন্ত পরিচালিত হয় মশক নিধনে ক্রাশ প্রোগ্রাম। প্রতিটি ওয়ার্ডের প্রতিটি এলাকাকে আলাদা আলাদা ভাবে নজরে এনে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। ক্রাশ প্রোগ্রাম শেষ হওয়ার পর একটি দিনের জন্যও মশক নিধন কার্যক্রম বন্ধ হয় নি। পরিকল্পনা মোতাবেক চলছে এলাকা ভিত্তিক মশক নিধন কার্যক্রম এবং তা অব্যাহত থাকবে। সিটি কর্পোরেশন সাধারণত এডাল্টিসাইড ফগিং (ফগার মেশিনের সাহায্যে) এবং লার্ভিসাইড স্প্রের মাধ্যমে মানুষের একান্ত শত্রু মশাকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে থাকে। সমাজের অনেকের মাঝে প্রশ্ন তৈরি হয়, ছোট্ট মশা নিয়ন্ত্রণে এত কার্যক্রম, তবু মশার উপদ্রব কমছে কই? মশার কামড় যখন অস্থির অবস্থা তৈরি করে তখন মনের অজান্তেই দীর্ঘশ্বাসের সাথে এই কথাই মনে আসে উফ! সিটি কর্পোরেশন যে কী করে!!। কিন্তু গবেষণা বলে, মশক নিধন একটি সমন্বিত এবং নিরবিচ্ছিন্ন কার্যক্রম। সিটি কর্পোরেশন বা সরকারের একার পক্ষে মশক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। মশার বংশবিস্তার ঘটে জমে থাকা পানিতে বা স্থির জলে। সমাজের মানুষ যদি বাড়িতে বা বাড়ির আশে পাশে অব্যবহৃত, পরিত্যক্ত বা স্বল্পব্যবহৃত পাত্রে, পরিত্যক্ত টায়ারে, ফুলের টবে, ফ্রিজের নিচে, এসির পানি যেখানে জমছে সে স্থানে, ঘরের পাশের গাছের গুড়িতে, উঠোনের কোনায় তৈরি হওয়া গর্তে, ইন্সট্রাকশন সাইটে, বিল্ডিং এর এখানে ওখানে, ছাদে, পানির ট্যাংক ভরে যাবার পর যেখানে পানি পড়ছে, সে স্থানে জমে থাকা পানি পরিস্কার না করেন, তবে মশক নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণরূপে সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন সকলের সচেতনতা। পাশাপাশি সচেতনতাকে কাজে রূপান্তর করা। চিন্তার বিষয় হচ্ছে মে থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত দেশে ডেংগু মশা বা এডিস মশার মৌসুম। মে মাস চলমান। এবং ডেংগু জ্বর সৃষ্টিকারী এডিস মশা তিন দিন বা তার বেশি জমা থাকতে পারে এমন সকল স্থানে বংশ বিস্তার করতে পারে। সমাজের প্রতিটি ঘরেই তার বসবাস, তার বংশবৃদ্ধি। তাই ব্যাক্তি পর্যায়ের সচেতনতার কোন বিকল্প নেই। আশার বিষয় হল, গত বছর সারা দেশ যখন ডেংগু জ্বরে আক্রান্ত তখনও সমাজের সকলের কার্যক্রমে সচেতনতায় ময়মনসিংহবাসী স্থানীয় এডিস মশার কামড়ে সৃষ্ট ডেংগু জ্বর থেকে মুক্ত ছিল। এবারও তাই থাকবে ইনশাল্লাহ। এদিকে বর্ষা মওসুমে নগরীর পানি নিস্কাশনের জন্য বিভিন্ন ড্রেন পরিস্কারের কাজ চলমান রয়েছে। সুত্র জানায়, নগরীর টাইনহল মোড় থেকে স্টেশন রোড হয়ে র‌্যালীর পর্যন্ত ড্রেন পরিস্কারের কাজ করা হয়েছে। তাছাড়া বলাশপুর রাস্তার ২পাশ, টাউনহল মোড় হতে কাচিঝুলি মোড়, বাউন্ডারী রাস্তার ২পাশ, ত্রিশাল বাসস্ট্যোন্ড হতে চড়পাড়া পুলিশবক্স, ত্রিশালবাসস্ট্যান্ড মোড় হতে মিন্টু কলেজ মোড় পর্যন্ত, কাশর লাকিবাড়ী রাস্তার ২পাশ, জেলা স্কুল মোড় হতে সানকিপাড়া হয়ে পুলিশ লাইন পর্যন্ত সহ বিভিন্ন ড্রেন সংস্কার ও পরিস্কারের কাজ চলছে। এর মধ্যে আন্ডার গ্রাউন ড্রেনও রয়েছে। এদিকে নোভেল করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের (মসিক) মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো: ইকরামুল হক টিটু সরকারি ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে লক্ষাধিক দিনমজুর, বস্তির দুস্থ, পত্রিকার হকারসহ কর্মহীন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রীর মানবিক সহায়তা প্রদান করছেন। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এই খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে ছিল চাল, ডাল, তেল, আলু, লবণ, সাবান ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার। রাতের আঁধারে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিজে গাড়ি চালিয়ে মেয়র কখনো নিজে, কখনো স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেন। মেয়র মো: ইকরামুল হক টিটু বলেন, ময়মনসিংহ নগরীর একজন মানুষও না খেয়ে থাকবে না। সেই লক্ষ্যে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিগত উদ্যোগে দিনমজুর, অসহায়, বয়োবৃদ্ধ, কর্মহীন, প্রতিবন্ধী ও কর্মহীনদের ৩৫ হাজার প্যাকেট খাদ্যসামগী ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছেন। আর সরকারি সহযোগিতায় কাউন্সিলরদের মাধ্যমে ৩৩ ওয়ার্ডে ৭০ হাজার প্যাকেট, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ এমপির দেওয়া ১ হাজার ৫০০ প্যাকেট, ময়মনসিংহ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির দেওয়া ৪ হাজার প্যাকেট খাদ্যসামগ্রীর আমার কর্মীদের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে। নগরবাসীর উদ্দেশে মেয়র টিটু বলেন, আপনারা নিজ ঘরে থাকুন, নিরাপদে থাকুন। আমাদের এ কার্যক্রমকে সহযোগিতা করুন। ময়মনসিংহ জেলা জাসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম চুন্নু বলেন, দেশের অন্য জনপ্রতিনিধিদের তুলনায় অনেক বেশি কর্মতৎপর মেয়র টিটু। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানবতার ফেরিওয়ালা হিসেবে তিনি মানবিক সহযোগিতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাকে নিয়ে আমরা গর্ববোধ করি। অধ্যক্ষ লে. কর্নেল (অব.) ড. মো. শাহাব উদ্দিন বলেন, মেয়র টিটুর মানবিক সহায়তা কার্যক্রম প্রশংসার যোগ্য। জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ডা. সুজিত বর্মণ বলেন, টিটু ময়মনসিংহের একমাত্র নেতা, যিনি দলমত নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে মানবতার ফেরিওয়ালা হিসেবে ঘরে ঘরে মানবিক সাহায্য পৌঁছে দিয়েছেন।

ব্রেকিং নিউজঃ