| |

চাল চুরি

আপডেটঃ 10:26 pm | May 08, 2020

Ad
এইচ এম খায়রুল বাসার
সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো ত্রাণের চাল বা দরিদ্র মানুষের জন্য সরকারের দেয়া চাল চুরি করে কালোবাজারে বিক্রি। যার সাথে বেশ ক’জন জনপ্রতিনিধির সম্পর্ক থাকার ফলে তাদের শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। তারপর বাংলাদেশ বলে কথা! শুরু হয়ে গেলো পত্র-পত্রিকা, টেলিভিশন থেকে শুরু করে ভার্চুয়াল জগতে বা সোস্যাল মিডিয়া পর্যন্ত প্রচন্ড গতির ঝড়। যেনো এটা আমাদের দেশের সম্পূর্ণ একটা নতুন ঘটনা। ভাবখানা এমন যে এ দেশে এর আগে কখনও চাল চুরি বা পুকুর চুরি কেউ দেখেননি বা শুনেনি। যদিও কম্বল থেকে শুরু করে চাল কিংবা বালিশ বা তালগাছ চুরি বহু পুরনো আমল থেকেই প্রায় একটা ছোট্ট বিষয় বলতে গেলে। যদিও আমার দাবি, এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা গত দশ বছরের আমাদের দেশে ব্যাপক হারে কমছে বা কমার মতো লক্ষণ তৈরীর তীব্র চেষ্ঠা বিদ্যমান আছে বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। কিছু বিষয় বাদ দিয়ে সুক্ষ্ন হিসেব করতে গেলে ‘’পরিবর্তন’’ এর পাল্লাটাই ভারি হবে।
যাই হোক মূল কথায় আসি। কয়েকটা প্রশ্ন আমার মনে ঘোরপাক খায় প্রতিনিয়ত। আচ্ছা আপনি একজন নাগরিক হিসেবে সত্যিই কি চান দেশে চুরি-বাটপারী বা দুর্ণীতির ঘটনা কমুক বা একটি স্বচ্ছ দেশ হোক? মন থেকে চান একটি সুন্দর আগামী আপনার ভবিষ্যতের জন্য রেখে যেতে? চান আপনার বা আপনার সন্তানের বিদ্যাপীঠ আসলেই সন্ত্রাসমুক্ত থাকুক? দেশ থেকে ধর্মন্ধতা বিতারিত হয়ে ৭১এর চেতনায় একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ বিনির্মাণ হোক? যদি উত্তর হ্যাঁ হয় তবে নিজেকে একবার প্রশ্ন করুন তো? যেমন দেশ চাই তা গঠনে ব্যক্তি হিসেবে আপনার কি ভূমিকা? বলবেন তো……? করছিনা? সততার সাথে জীবন যাপন করছি, অন্যের টাকা মেরে খাচ্ছিনা, পেশাগত কাজ মন দিয়ে করছি ইত্যাদি ইত্যাদি। আপনার সকল ‘ইত্যাদি ইত্যাদি’ মেনে নিয়েও সমর্থন করতে পারছিনা বলে দু:খিত। কারণ আপনার জন্যই আপনারই কঙ্ক্ষিত স্থানে দেশরূপান্তর পুরোভাগ সম্ভব হচ্ছেনা । কারণ কি জানেন? আপনি সব করছেন কিন্তু রিমোট কন্ট্রোল যে সিস্টেমের হাতে বা যেই গুরুত্বপূর্ণ বাটনটিতে সেখানে আপনি যত্ন করে চেপে ধরবেন তো দূরের কথা ইচ্ছে করে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখছেন, আপনার আশপাশকেও দূরে রাখতে উৎসাহিত করছেন। তার নাম হলো ‌‌‌‌’’রাজনীতি’’। বুঝেনতো ? রাজনীতি ঠিক তো সব ঠিক? রাজনৈতিক নেতা ঠিক তো কর্মী ঠিক? রাজনৈতিক পরিবেশ ঠিক তো সুন্দর আগামী ঠিক। এতোকিছু যা করছেন তার একটু কম করেও যদি কষ্ট করে নিজে রাজনীতি সচেতন ও আপনার পরিবারকে রাজনৈতিকভাবে উর্বর করার চিন্তা ও কাজ করতেন তবে আপনার কষ্ট অনেকটাই কমতো। পত্রিকার পাতা বা টিভির পর্দা কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম দেখে এতোটা নাক সিঁকটাতে হতোনা। কারণটা পরিষ্কার। আপনি এতো পরিশ্রম করছেন নিজের জন্য, পরিবার-পরিবেশ বা রাষ্ট্রের জন্য। কিন্তু ফলাফল হচ্ছে শূন্য, কেননা আপনি তো রাজনীতি পছন্দ করেননা। অথচ, দিনশেষে রাজনীতিই আপনাকে পরিচালনা করছে। কখনও কখনও গলা টিপে ধরছে। প্রশ্ন করতে পারেন আপনারা তো করছেন, আপনাদের দলের অনেক বড় বড় নেতা সবাই তো রাজনীতিই করে তবে কেনো পরিবর্তন হচ্ছেনা? যারা এসব অসভ্য কাজের সাথে জড়িত তাদের প্রায় সবাই তো রাজনীতিরই লোক বা এই যে সারাদিন শেখ হাসিনার গুনকীর্তন গেয়ে বেড়ান তিনি কেনো পারছেননা? শোনেন, আপনি সব করছেন কিন্তু রাজনীতিকে অপছন্দ করায় আপনার চোখে একটা কালো চশমা প্রকৃতি কর্তৃক নির্ধারিত হয়ে গেছে তাই আপনি ইতিহাসের সাথে বর্তমানের ফারাক করতে পারছেন না বা বুঝে উঠতে পারছেন না। আমরা যারা রাজনৈতিক সংস্কৃতির চর্চাটা করছি আমরা কিন্তু ঠিকই পরিবর্তনটা সঠিকভাবে খেয়াল করছি। সে জন্যই শুরুতেই বলেছি আমার দাবি গত দশ বছরে অনেক পরিবর্তন হয়েছে এবং হচ্ছে। এটা তো রাজনীতিরই ফসল। আবার এ ও বলতে পারেন আপনি তো একটা দলের প্রতিনিধিত্ব করেন, আপনার কাছে যা মনে হচ্ছে সাধারণের কাছে তা বস্তুত ঢাহা মিথ্যা। হ্যাঁ, মিথ্যাও যদি হয় তবুও মনে রাখবেন, এই মিথ্যার মাথায় কিন্তু সজোরে আঘাতটা আপনাকে রাজনীতি দিয়েই করতে হবে। এমনটি এই যে উচ্চ পর্যায়ের জীবন ধারণ করে উচ্চাবিলাসী সুশীলীয় মন্ত্র পাঠ করে মানুষকে স্বপ্ন দেখানোর বৃথা চেষ্ঠা করেন তার জন্যও কিন্তু প্রয়োজন রাজনীতির। সবশেষ ভ্রু কুচকিয়ে এটাও বলতে পারেন, সবাই কি খালি রাজনীতিই করবে? না তা কেনো করবে ? সবকিছুর ভিতরে রাজনীতিকে স্থান দিতে হবে। বলার চেষ্ঠা করছি রাজনীতিকে ভালোবাসে উৎসাহিত করতে হবে। তারপর আপনি ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার যতো বড় কর্পোরেট অফিসার হতে চান হতে পারেন।
ছাত্রজীবনে প্রাইভেট শিক্ষকতা, কর্মজীবনে সমাজকর্মী ও একজন ক্ষুদ্র রাজনৈতিক এক্টিভিস্ট হিসেবে তো দেখছি। সামান্য বুঝেন যে অভিভাবক তাঁর থেকে শুরু করে সচেতন অভিভাবক (যদিও এদের আমি বলি পুগিঁগত বিদ্যায় শিক্ষিত বলদ) পর্যন্ত সবাই চান তাঁর সন্তান বড় হয়ে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, পাইলট, সেনাকর্মকর্তা বা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হোক। আজ পর্যন্ত কোনদিন শুনিনি ‘’আমার সন্তানটা বিদ্যার্জন করে বড় হয়ে বড় রাজনৈতিক নেতা হোক, দেশের সেবা করুক। কিংবা কোনদিন শুনিনি সন্তানকে নিয়মিত পাঠের পাশাপাশি রাজনীতি সম্পর্কে মোটের ওপর একটা সম্মক ধারণা দিতে। এই আপনি কখনও চাননি যে আপনার সন্তান রাজনীতি করুক বা রাজনৈতিক শিক্ষা অর্জন করুক তারই ফল কিন্তু আজকের আপনার দেখা মন্দ কাজগুলো। আপনি নিজের মনকে একটিবার বুঝাতে ব্যর্থ হয়েছেন যে, আপনার সন্তান যতোই শিক্ষিত হোক, মানুষের মতো মানুষ হোক, তাকে পরিচালনা যে পদ্ধতিটি করে তার নাম ‘’রাজনীতি’’। তো সময়মতো রাজনীতির পাঠোভ্যাস করাবেননা, রাজনীতিকে ঘৃণা করতে শিখাবেন আবার আশা করবেন আপনার ভোটের মেম্বার, চেয়ারম্যান বা জনপ্রতিনিধি সততার মন্ত্র পাঠ করে দায়িত্ব পালন করবেন এমনটা আশা করা কেমন জানি একটু হাস্যকর মনে হয়না?
যদিও আমরা হয়ে গেছি অনেকটা ইস্যুভিত্তিক জাতি! যেমন এখন বিশ্বময় করোনা- সবাই করুনা করে ছুটছি করোনার পেছনে। ক’দিন আগে ধরুন কোথাও একটা সন্ত্রাসী কাজ হয়েছে- মিডিয়া ও আমাদের চোখ সেখানে। এরপর ধরুন কোথাও ধর্ষণ- আমরা সেদিকে। সাম্প্রাদায়িক গোলযোগ- আমরা সেদিকে। আমরা প্রতিনিয়ত একটা বিষয় বা ইস্যুর পিছে ধাওয়া করতে করতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। এভাবে ভাবছি কি কখনও? সবকিছুর মূলে হলো রাজনীতি। রাজনীতি ঠিক তো সব ঠিক এবং এটাই বর্তমান কিংবার ইতিহাসের গাণিতিক হিসাব অনুযায়ী চরম ও বাস্তব সত্য। তো সবাই যদি একযোগে রাজনীতিটাকেই মেরামত করে ফেলি তবে যেমন চাই ঠিক তেমন দেশই তো পাবো?
প্রসংগত আরেকটা কথা বলতেই হয়। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি স্ট্যাটাস বহুল প্রচারিত হতে দেখলাম। তা হলো- নির্বাচনের সময় ভোট দেবেন টাকার বিনিময়ে পরে আশা করবেন জনপ্রতিনিধি হবে ফেরেশতা! শতভাগ প্রমাণ করার জন্য নির্ভরযোগ্য কথা এটা না হলেও বাস্তবতার নিরিখে এটাই সত্য যে, কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ ভালো মানুষগুলো রাজনীতি, নির্বাচনে না আসার কারণে নির্বাচনের সময় প্রার্থী সিলেকশন ও নির্বাচন প্রক্রিয়ায় টাকার খেলা অশুভ প্রভাব বিস্তার করে। যার ফলে অনেকক্ষেত্রে এটি একটি বাণিজ্যিক প্রোডাক্টের মতো বানিয়ে ফেলতে যাচ্ছি আমরা। Invest and Earn.
প্রকৃতার্থে, আমাদের রাজনীতি করতে হবে বা আগামী তৈরী করতে হবে রাজনীতি সচেতন। না হয় উপায় নেই। I Hate Politics না বলে আসুন সবাই সবার জায়গা থেকে রাজনীতিকে ভালোবাসি।

 

ব্রেকিং নিউজঃ