| |

আতংকিত, স্তম্ভিত ও স্থবির বিশ্বে সচেতন একটুকরো বাংলাদেশ

আপডেটঃ 12:14 pm | May 09, 2020

Ad
শাহীন রাকিব :
মেধা আর প্রজ্ঞার মিশেলে জননেত্রী শেখ হাসিনা যখন একের পর এক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিচ্ছিলেন, বন্ধ করে দিলেন গন পরিবহন, শিল্প কারখানা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কেবল মাত্র দেশের উপাসনালয় গুলি খোলা রাখলেন তবে মানুষের সমাগমে দিলেন বাধ্যবাধকতা। সেই মুহুর্তে ফেসবুকে সমালোচনা ঝড় বইয়ে দেয়া হোল। লক ডাউন নিয়ে শুরু হোল ট্রল। মসজিদে নামাজ আদায় করতে না পেরে বাসার ছাদে জামাতের সহিত নামাজ আদায় শুরু করে দিল। ফেসবুকে পোস্ট দেয়া হোল আওয়ামী লীগ সরকার মসজিদ বন্ধ করে দিয়েছে।
এটা সেই দেশ যে দেশের আম জনতা সারাদিন সাবান দিয়ে হাত ধুবে তো দুরের কথা টয়লেট করে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া শুরু করে দিল। সামাজিক এই জাতি ২৪ ঘন্টা ঘরে থাকতে বাধ্য হোল রাস্তায় ফ্রন্টিয়ার যোদ্ধা দেশ প্রেমিক সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর সদস্য দের তৎপরতার কারনে। মানুষ অভ্যস্ত হওয়া শুরু করলো ঘরে থাকতে। সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর হাতে কোন অস্ত্র নেই। সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর আচরন আমুল পরিবর্তন হয়ে গেলো। ওরা ওদের আচার, ব্যবহার দিয়ে হয়ে গেলো জনগনের প্রকৃত বন্ধু। মানুষকে ঘরে থাকতে বাধ্য করে ওরা রয়ে গেলো রাস্তায়। শুরুতে ভয় আর শংকায় ডাক্তার ও নার্সদের মধ্যে দোদুল্যমানতা যাও ছিল সেটা ভেংগে দিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। উনার আহবানে ডাক্তার ও নার্স সকল শংকা পায়ে দলে দলে দলে হাসপাতালে এসে উপস্থিত। নিজেদের প্রিয়জনদের বাড়িতে রেখে রাত দিন সেবা দেয়া শুরু করে দিল ওরা। আর তাই ফ্রন্টিয়ার যোদ্ধাদের মাঝে প্রথম শহীদ একজন ডাক্তার। যিনি ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে করতেই নিজের জীবন বিলিয়ে দিলেন।
স্বীকার করি আমরা অসচেতন জাতি। আমাদের অসচেতনতা নিয়ে অনেক নেগেটিভ পোস্ট দেয়া হয়েছে, ট্রল করা হয়েছে আমাদের কে নিয়ে।
শেখ হাসিনা গত দুই মাসে আর কিছু করতে না পারুক এই জাতিকে যে সচেতন করে দিতে পেরেছেন এটাই বাংলাদেশের সফলতা। মানুষ এই দুই মাসে সচেতন হতে শিখেছে। এই জাতি এখন সারাক্ষন পরিস্কার রাখে নিজেকে। কিছুক্ষন পর পর সাবান দিয়ে হাত ধুচ্ছে। এই জাতিকে শেখ হাসিনা বুঝাতে পেরেছেন যে এই যুদ্ধ আক্রমনাত্মক নয়। সব টুকুই রক্ষনাত্মক। শত্রু দৃশ্যমান নয় আর এই শত্রু নিধনে কোন আমাদের নেই কোন অস্ত্র। শেখ হাসিনা বুঝাতে সক্ষম হলেন এই যুদ্ধে জয়ী হতে হলে আমাদের কে শত্রুর কাছ থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখতে হবে, আড়ালে রাখতে হবে নিজেকে। শুরুতে আমরা না মানলেও এখন তা মানতে শুরু করেছি। একটা উদাহরন দিচ্ছি তাহলেই বুঝতে পারবেন সার্বিক চিত্র। সরকার মসজিদে নামাজের বাধ্যবাধকতা তুলে নেয়ার পর গতকাল প্রথম জুম্মাহর জামাত হোল পুর্নাঙ্গভাবে। আমি আমার এলাকার মসজিদের সেক্রেটারী দীর্ঘদিন যাবত। বেশ বড় এই মসজিদ। তিন তলা বিশিষ্ট এই মসজিদে জুম্মাহর জামাতে মুসল্লী হয় প্রচুর। তিন ভরে মসজিদের বাইরেও মুসল্লী দের নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করতে হয়েছে বিগত দিন গুলিতে। অথচ মসজিদে জুম্মাহর জামাতে মুসল্লীর উপস্থিতি একদম নাই বললেই চলে। সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে কাতারে দাড়িয়েও নীচের তলা ভরে ২য় তলায় অল্প কিছু মুসল্লী জুম্মাহর নামাজ আদায় করেছেন। আজকে তো কোন বাধা ছিল না। সরকারের কোন বিধিনিষেধ ছিল না। তাহলে কেন মুসল্লীর উপস্থিতি কম হোল? এর এক মাত্র কারন গন সচেতনতা। এই জাতি আজ বুঝতে শিখেছে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে চলতে পারলে, ঘরে নিজেকে আবদ্ধ পারলেই নিজেকে এই যুদ্ধে জয়ী ভাবতে পারা যাবে।
সমস্ত বিশ্বে লক ডাউন ধীরে ধীরে তুলে দেয়া হচ্ছে। অর্থনৈতিক চাকা গুলি সচল হতে শুরু করেছে। গ্লোবাল কমিউনিকেশনের এই যুগে আলসেমি করার কোন অবকাশ নেই এবং থাকতে পারে না। বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের দেশের লক ডাউন শিথিল করা শুরু হয়েছে যা আগেও আমি বলেছি। জীবনের যেমন দরকার তেমনি জীবন বাচাতে দরকার জীবিকার। একে একে শিল্প কারখানা গুলি খুলে দেয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে একে একে খুলে দেয়া হবে বলেই বোধগম্য হচ্ছে।
সামনেই মুসলমানদের বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদ। ইদকে সামনে রেখে খুলে দেয়া হচ্ছে বড় বড় শপিং মল ও দোকান পাট। খুব সম্ভব খুলে দেয়া হবে সীমিত আকারে গন পরিবহন। সরকারের এই সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী বলে দুদিন ধরে টিভি চ্যানেল গুলিতে গলা ফাটাচ্ছেন। অথচ উনারা ভাবছেন না মানুষ দুটি কারনে মারা যেতে বসেছে। এক করোনা ভাইরাস আর দ্বিতীয় হচ্ছে জীবিকা। মানুষ দুটো কারনে মরবে কেন? একটি কারনেই মরুক। মানুষ খেতে খেতেই মরুক। কিন্তু বিস্ময়কর বিষয় যেটা বিশ্ববাসীর জন্য অপেক্ষা করছিল তা আজ এই জাতি দেখিয়ে দিচ্ছে। শেখ হাসিনা তার আম জনতা কে কত টুকু সচেতন করতে পেরেছেন তার জ্বলন্ত উদাহরন দেখিয়ে দিচ্ছে গর্বিত এই জাতি। সরকার ইদকে সামনে রেখে শপিং মল ও দোকান পাট খোলা রাখার ঘোষনা দেবার সাথে সাথেই একের পর এক ঘোষনা আসছে ঢাকার বসুন্ধরা, যমুনা,নিউমার্কেট, চন্দ্রিকা,আনারকলি সহ বেশির ভাগ মার্কেট ও শপিং মল বন্ধ রাখবে ব্যবসায়ী বৃন্দ নিজেরাই। সরকারের কাজ সরকার করেছে এখন জনতার কাজ জনগন করছে। ঢাকার পাশাপাশি চট্রগ্রামের ১১ টি শপিং মল, সিলেটের সকল দোকান পাট ইদের বাজারে বন্ধ রাখবে। ব্যবসায়ী নেতাদের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত আশা,করছি দেশের অন্য সকল বিভাগীয় ও জেলা শহরের শপিং মল গুলি অনুসরন করবে। আশা,করছি সারা বছর যারা কেনা কাটা করেন তাদের এবারের ইদে কেনাকাটা বন্ধ থাকবে আর যারা সারা বছর কিছুই কিনতে পারে না তারা কিনুক এবারের ইদে পাড়া মহল্লার ছোট ছোট দোকান গুলি থেকে।
আমরা গতকাল সচেতন ছিলাম না কিন্তু বাস্তবতার নিরীক্ষায় আজ আমরা অনেকটাই সচেতন। আশা করছি আমাদের এই সচেতনতার বৃদ্ধিতেই পরাজিত করতে পারবো অদৃশ্য শত্রুকে, রুখে দিতে পারবো মরনঘাতী এই করোনা ভাইরাসের আগ্রাসন। আর করোনা যুদ্ধের আমাদের সর্বাধিনায়ক জননেত্রী শেখ হাসিনা কে দাড়িয়ে দিচ্ছি স্যালুট। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।
শাহীন রাকিব
০৮/০৫/২০

 

ব্রেকিং নিউজঃ