| |

দশ হাজার কোটি টাকা অনুদান দিয়ে সংবাদপত্র শিল্পকে বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিএসপি’র আকুল আবেদন

আপডেটঃ ৩:২৭ পূর্বাহ্ণ | মে ১১, ২০২০

Ad
করোনা মহামারির সর্বগ্রাসী প্রভাবে অন্যসব খাতের মতো দেশের সংবাদপত্র শিল্পও নজিরবিহীন সংকটের মধ্যে পড়েছে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় গিয়ে পৌঁছেছে সরকারের যথাযথ প্রণোদনা ও সুদৃষ্টি না পেলে মহামারি করোনার প্রভাব সংবাদপত্র শিল্পকে ধ্বংসের কাছাকাছি নিয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের সংবাদপত্র শিল্পকে বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দশ হাজার কোটি টাকার অনুদান/ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণার দাবি জানিয়েছে ‘বাংলাদেশ সংবাদপত্র পরিষদ (বিএসপি)। এ ব্যাপারে গত ২৭শে এপ্রিল মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে পত্র দিয়েছে বিএসপি।
দেশের সংবাদপত্র মালিকদের ঐতিহ্যবাহী এই সংঠনের সভাপতি দৈনিক আমাদের সময়ের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নুর আলী ও মহাসচিব দৈনিক বাংলা ও দৈনিক গণকণ্ঠের সম্পাদক-প্রকাশক মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন জিটু।
গতকাল ১০ মে ২০২০ গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি জানিয়েছেন সংগঠনের মহাসচিব মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন জিটু। একই সঙ্গে সৃষ্ট বিপর্যয় এড়াতে সরকারের নেওয়া নানা ধরনের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) প্রভাবে সৃষ্ট বিপর্যয়ে বাংলাদেশের মানুষ বিপর্যস্ত। উদ্ভূত বাস্তবতায় ঝুঁকি এড়াতে সরকার নানা ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। আমরা একে স্বাগত জানাই। এর পাশাপাশি অর্থনৈতিক ঝুঁকি এড়াতে সরকার বিভিন্ন খাতে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, যা অর্থনীতিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করি। আমরা অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছি, করোনাভাইরাসের প্রভাবে এক নজিরবিহীন সংকটের মুখোমুখি গণমাধ্যম। প্রায় আট সপ্তাহের ছুটিতে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় পত্রিকার বিলি ও বিতরণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বিজ্ঞাপনও কমছে দ্রুতগতিতে। মূলধারার গণমাধ্যম তথা সংবাদপত্র শুধু মানুষকে তথ্যসেবাই দিচ্ছে না, অনেক সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত গুজব ও অসত্য তথ্য প্রচারকেও মোকাবিলা করে চলেছে। আমরা মনে করি, মহামারি সংকটে প্রকৃত স্বাস্থ্যসেবা যেমন জরুরি, তেমনি সত্যনিষ্ঠ তথ্যসেবাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
এমন পরিস্থিতিতে গণমাধ্যম উদ্যোক্তাদের ভাবতে হচ্ছে, চলমান সংকট দীর্ঘ হলে তারা তাদের সাংবাদিক ও কর্মচারীদের বেতন দেবেন কোত্থেকে? সংকটের সময় নিজস্ব সঞ্চয় থেকে সাংবাদিক, কর্মচারীদের মজুরি প্রদানসহ তথ্য সংগ্রহ ও পরিবেশন এবং প্রাতিষ্ঠানিক ব্যয় নির্বাহ কঠিন হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের গণমাধ্যম অতীতে অনেক বড় বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছে। তবে এবারের মতো বৈরী পরিস্থিতি সাম্প্রতিককালে আর আসেনি।
বিশেষ করে, ২৬ মার্চ থেকে আগামী ১৬মে পর্যন্ত সকল অফিস আদালত বন্ধ থাকায় সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন নেই, পত্রিকার বিক্রিও অনেক কম। সংবাদপত্রের বিপণন ও বিতরণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ঢাকাসহ সারাদেশে পত্রিকা বিক্রি আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। তাই প্রতিদিন খেটে খাওয়া হকারদের আয়ও শূন্যের কাছাকাছি নেমে গেছে।
আমাদের বিশ্বাস, করোনাভাইরাসের এই আগ্রাসন থেকে নিজ নিজ সংবাদকর্মীদের জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তার কৌশল সকল সংবাদপত্র গ্রহণ করলেও চারজন সাংবাদিক করোনা আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেছেন। আমরা তাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করছি। মহামারী করোনা থেকে পশ্চিমা ও উন্নত দেশে আর্থিক সামর্থ্য এবং প্রযুক্তির সুবিধা নিয়ে সোশ্যাল ডিসট্যান্স যতটা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে, দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা ততটা পারছি না। তারপরও, বাংলাদেশের নিবেদিতপ্রাণ সাংবাদিকরা অত্যন্ত দৃঢ় মনোবল, অঙ্গীকার ও দায়িত্ববোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে সাহসের সাথে সাধারণ নাগরিকদের সকল খবর পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে নিজেদের দিনরাত নিয়োজিত রেখেছেন। তাদের সকলকে আমাদের অভিবাদন। বর্তমান করোনা পরিস্থিতির আকার দিন দিন প্রকট হওয়ায় অধিকাংশ পত্রিকাই হয়তো এপ্রিল মাসের বেতন ও ঈদের বোনাস দিতে পারবে না। তাই দুর্যোগকবলিত এই সময়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, শ্রদ্ধেয় বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার কাছে বাংলাদেশ সংবাদপত্র পরিষদের প্রত্যাশা:
* দেশের সংবাদপত্র শিল্পের জন্য জরুরিভিত্তিতে দশ হাজার কোটি টাকার একটি অনুদান/প্রণোদনা প্যাকেজ অবিলম্বে দেওয়ার ব্যবস্থা করা। সরকারের তরফে বিভিন্ন শিল্পের জন্য যেমন প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হয়েছে, তেমনি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সংবাদপত্রের ব্যয় নির্বাহ এবং বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য প্রয়োজনমতো সুদমুক্ত ব্যাংক ঋণ সহায়তা দিতে হবে।
* বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে পাওনা বিজ্ঞাপনের বকেয়া বিল জরুরি ভিত্তিতে দ্রুত ছাড়করণের জন্য বিশেষ নির্দেশনা প্রয়োজন। এখন সংবাদপত্রের এই দুঃসময় ও ক্রান্তিলগ্নে বিজ্ঞাপনের এই বকেয়া পরিশোধের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া খুবই প্রয়োজন।
* বেসরকারি খাতের বকেয়া বিল আদায়ে সহায়তা প্রদান।
* বিজ্ঞাপনের আয়ের ওপর থেকে সব ধরনের ভ্যাট মওকুফ করা।
* করোনা ঝুঁকিতে থাকা মালিক, সম্পাদক, প্রকাশক ও গণমাধ্যমকর্মীদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি মারা গেলে পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান।
* মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে কর্তব্যরত গণমাধ্যম কর্মীদের জন্য পৃথকভাবে বিশেষ প্রণোদনা প্রদান করা।
* গণমাধ্যমের জন্য বিজ্ঞাপন বাজেট বর্তমান বাজেটের কমপক্ষে তিনগুণ বৃদ্ধি করে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করা।
* জরুরি ভিত্তিতে দরিদ্র কর্মজীবী হকারদের জন্য সরকারি আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা।
* দেশে ই-টেন্ডারিং প্রচলনে সংবাদপত্র বড় ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু এই ই-টেন্ডারিং প্রচলনের পর প্রথমেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে খোদ সংবাদপত্র শিল্প। ই-টেন্ডারিংয়ের ফলে প্রচলিত টেন্ডার বিজ্ঞপ্তির আকার ও সংখ্যা উভয়ই আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে। আমাদের দাবি: যত শীঘ্র সম্ভব ই-টেন্ডার বিজ্ঞপ্তিগুলো অনলাইনে প্রকাশের পাশাপাশি আগের মত পূর্ণাঙ্গ বিজ্ঞাপন হিসেবে সংবাদপত্রে প্রকাশের ব্যাপারে সুস্পষ্ট নীতি প্রণয়ন করতে হবে। এতে ই-টেন্ডারিং আরো স্বচ্ছতা পাবে এবং সংবাদপত্র টিকে যেতে সক্ষম হবে।
* সরকারি-বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন বিল বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ১ মাসের মধ্যে পরিশোধ বাধ্যতামূলক, এই মর্মে আদেশ জারি করা।
* সরকারের সকল বিজ্ঞাপন পুনরায় চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর (ডিএফপি)’র অধীনে এনে সুষ্ঠু বন্টনের ব্যবস্থা করা।
* তথ্য মন্ত্রণালয়-এর অধীনে সকল ক্রোড়পত্র মিডিয়া ভুক্ত সকল পত্রিকায় দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।
* মৃত্যুবরণ করা সাংবাদিকদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। মৃত্যুবরণ কৃত সাংবাদিক পরিবারের মাঝে সরকারের পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্য ক্ষতিপূরণ প্রদানের অনুরোধ করছি।
ধন্যবাদান্তে
মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন জিটু
মহাসচিব
বাংলাদেশ সংবাদপত্র পরিষদ (বিএসপি)
মোবাইল : ০১৯২৬৬৬৭০০১
বার্তা প্রেরক
এসএম আবু সাঈদ
দপ্তর সম্পাদক
বাংলাদেশ সংবাদপত্র পরিষদ (বিএসপি)
মোবাইল : ০১৯১১৩৪৩২৬৮

 

ব্রেকিং নিউজঃ