| |

জামালপুরে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার জন্য চালু হলো পিসিআর ল্যাব ও শুভ উদ্বোধন

আপডেটঃ 10:41 pm | May 12, 2020

Ad
মোঃ রিয়াজুর রহমান লাভলু ঃ
জামালপুর শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার জন্য চালু হয়েছে রিয়েল টাইম পলিমারেজ চেইন রি-অ্যাকশন (আরটি-পিসিআর) ল্যাব। মঙ্গলবার দুপুরে এই ল্যাবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মোঃ মুরাদ হাসান এম পি।
একটি সূত্র জানায়, ভেটিরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ে অব্যবহৃত পড়ে থাকা একটি পিসিআর ল্যাব জামালপুরে শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ল্যাবের করোনা পরীক্ষার মূল যন্ত্রটি বিনামূল্যে পাওয়া গেলেও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মির্জা এমপি এবং তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মোঃ মুরাদ হাসানসহ স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বেশ কয়েকজন নেতার অর্থায়নে এবং গণপূর্ত বিভাগের অর্থায়নে ল্যাব স্থাপনের বাকি কাজ সম্পন্ন করা হয়। ল্যাবটি স্থাপন করা হয়েছে মেডিক্যাল কলেজটির প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায়।
সূত্রটি আরো জানান, এই ল্যাবটি পরিচালিত হবে শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের তত্ত্বাবধানে। ল্যাবটিতে প্রথম পর্যায়ে একটি ব্যাচে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. এ কে এম মুসাসহ তিনজন অধ্যাপক ও ছয়জন মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টসহ ১৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে ল্যাবের যাত্রা শুরু হলো। একটি ব্যাচে সারাদিনে এই ল্যাবে ৯৪টি নমুনা পরীক্ষা করা যাবে। জনবল বাড়ালে এই ল্যাব থেকে প্রতিদিন তিনটি ব্যাচে ৩০০ থেকে ৩৫০টি নমুনা পরীক্ষা করা যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
চট্টগ্রাম থেকে আনার ১২ দিনের মাথায়  মঙ্গলবার দুপুরে নামফলক উন্মোচনের মধ্য দিয়ে ল্যাবটির শুভ উদ্বোধন করেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মোঃ মুরাদ হাসান এম পি। এ সময় সাবেক প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম, সংসদ সদস্য মোঃ ফরিদুল হক খান দুলাল, সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মোঃ মোজাফফর হোসেন. সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য হোসনে আরা বেগম, শিক্ষা সচিব মোঃ মাহবুব হোসেন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক আহাম্মেদ চৌধুরী, সিভিল সার্জন ডা. প্রণয় কান্তি দাস, জামালপুর পৌরসভার মেয়র মির্জা সাখাওয়াতুল আলম মনি, শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোঃ সালেহ ইসলাম ও মেডিক্যাল কলেজটির প্রকল্প পরিচালক ডা. মোঃ মোশায়ের উল ইসলাম রতন, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. কে এম শফিকুজ্জামান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুহাম্মদ বাকী বিল্লাহ ও সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ ছানোয়ার হোসেন ছানু প্রমুখ।
অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও নামফলক উন্মোচনে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক।
অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম এম পি বলেন, আমাদের শতাব্দির এই ভয়াবহ দুর্যোগে সারাবিশ্বে আজ এক অজানা শত্রু করোনাভাইরাসের সাথে যুদ্ধ করছে। সারা বিশ্বে বহু মানুষ মারা যাচ্ছে। বাংলাদেশেও এই করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে জামালপুরবাসীর খুবই সৌভাগ্য যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই জেলায় করোনা পরীক্ষার ল্যাব স্থাপন করে দিলেন। ল্যাবটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিধায় এই ল্যাব চট্টগ্রাম থেকে জামালপুরে স্থানান্তরের ব্যাপারে শতকরা ৮০ ভাগ ভূমিকা রাখেন শিক্ষা সচিব মোঃ মাহবুব হোসেন। আজকে এই ল্যাব স্থাপনের মধ্য দিয়ে জামালপুর জেলায় করোনার নমুনা পরীক্ষায় আর কোনো ভোগান্তি থাকবে না। এতে করে করোনার রোগীদের দ্রুত সময়ের মধ্যে শনাক্ত করে তাদেরকে চিকিৎসার আওতায় আনা যাবে।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মোঃ মুরাদ হাসান এম পি তার বক্তব্যে বলেন, আজকে করোনার নমুনা পরীক্ষার ল্যাব হলো, এটা কিন্তু জেলাবাসীর খুবই আনন্দের বিষয়। কিন্তু সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, কেউ কিন্তু আমরা নিরাপদ নই। করোনাভাইরাস কিন্তু দালানকোঠা খোঁজে না। করোনাভাইরাস শুধু মানুষকেই খোঁজে। করোনাভাইরাস মানুষের নাক-মুখ দিয়েই ঢুকে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে এবং আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিতে যারা সন্মুখযুদ্ধে কাজ করছেন তাদের প্রত্যেকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।
তথ্য প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, করোনাযুদ্ধে আমাদেরকে সফল হতেই হবে। কিন্তু আজকে জামালপুর শহরের সব মার্কেট, দোকানপাট খুলেছে। মানুষের ভিড়ে শহর ভরে গেছে। শহরজুড়ে তীব্র যানজট চলছে। লোক সমাগমের ভয়াবহ যে চিত্র আজকে দেখলাম। এই পরিস্থিতিতে কোনো অবস্থাতেই করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সফল হতে পারবো না আমরা। এতো কিছু করে কি লাভ হলো? হাজার হাজার মানুষ কেনাকাটা করতেছে। জেলা প্রশাসক সরকারি নির্বাহী আদেশে জামালপুর জেলাকে লকডাউন করেছেন। সেই লকডাউন বলতে কিছু নেই এখন। এতে করে করোনাভাইরাস ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ে আজকে আমাদের পিসিআর ল্যাব স্থাপনের ইতিহাসসহ সব কিছুকেই ম্লান করে দিতে পারে।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, সরকার ঈদের সামনে দেশের মানুষের সুবিধার জন্য সীমিত আকারে যেসব শর্ত দিয়ে দোকানপাট খোলা রাখার সুযোগ দেন। ব্যবসায়ীরা সেইসব শর্ত ভঙ্গ করে করোনাভাইরাসের ঝুঁকি আরো বাড়িয়ে দিয়েছেন। এই অবস্থা চলতে দেওয়া যায় না। প্রতিমন্ত্রী করোনার ঝুঁকি কমিয়ে আনতে জামালপুর শহরের অসহনীয় জনসমাগম ও দোকানপাট বন্ধে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকলকেই আরো কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেন।

 

ব্রেকিং নিউজঃ