| |

দেশের এই সংকটময় সময়ে দলিল লিখকদের কথা কেউ মনে করেননি -ময়মনসিংহ সদর দলিল লেখক সমিতি

আপডেটঃ 12:58 pm | May 13, 2020

Ad

 

মো: নাজমুল হুদা মানিক ॥ বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজাহান সরকার বলেন, দেশের এই সংকটময় সময়ে দলিল লিখকদের কথা কেউ একটিবারের জন্য মনেও করেননি। বিগতদিনে দেশের এই উন্নয়ন যাত্রায় দলিল লিখকদের কি কোনো ভূমিকা ছিলোনা?’ তিনি বলেন, আমরা ময়মনসিংহ সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক। সমাজের ছোট থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের নাগরিকদের আমরা সেবা দিয়ে থাকি। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের রাজস্ব আহরণের বড় অংকের একটা রাজস্ব সরাসরি আমরা আহরণ করে থাকি। করোনার কারনে আজ আমাদের করোনদশা।
এমনি ভাবে নিজেদের কষ্ট ও ক্ষোভের কথা জানিয়ে নিজের ফেইসবুক ওয়ালে পোস্ট দেন ময়মনসিংহ সদর দলিল লেখক সমিতির ফরিদ আহমেদ স্বপন। তিনি জানান, ময়মনসিংহ সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা রাজস্ব আসে দলিল লিখকদের মাধ্যমে। বিশেষ করে ময়মনসিংহ জেলায় রাজস্ব আহরণের এমন দ্বিতীয় কোন দপ্তর নেই। দলিল লেখকরা সরকারি কোনো বেতন ভাতা পান না। আজ প্রায় ৫০ দিন যাবত দলিল লেখকদের সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ। দলিল লেখক স্বপন বলেন, আমাদের মধ্যে ৩০-৪০জন দলিল লেখক ছাড়া প্রায় সবাই খুব কষ্ট করে জীবনযাপন করে। দলিল লিখেই তাদের জীবন চলে। করোনার জন্য দীর্ঘদিন যাবৎ অফিস বন্ধ। জানা যায়, ময়মনসিংহ সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে তালিকাভুক্ত ৩৬২ জন দলিল লেখক কর্মরত আছেন। ময়মনসিংহ জেলায় ১৫টি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে প্রায় ২২০০ দলিল লেখক রয়েছে। এক্সট্রা মোহরার বা নকলনবিশ রয়েছে প্রায় ৭০০। দলিল লেখক বা নকলনবিশ কারোরই নেই কোন মাসিক বেতন। দলিল লেখকরা দলিল লিখে দাতা বা গ্রহীতার কাছ থেকে মজুরি নেন। নকলনবিশরা নকল লিখে পৃষ্ঠা প্রতি সম্মানি পান। দলিল না থাকলে থাকেনা তাদের কোন আয়। করোনা ভাইরাসের প্রভাবে প্রায় দুই মাস যাবৎ বেকার বসে আছেন দলিল লেখক ও নকলনবিশরা। এ অবস্থায় অনেকে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

ব্রেকিং নিউজঃ