| |

রমযানে কি সব শয়তানই বন্দী থাকে?, থাকলে মানুষ গুনাহ করে কেন?

আপডেটঃ 3:02 pm | May 13, 2020

Ad
আলহাজ্ব হাফেজ আবু সাঈদ ইমদাদুল্লাহ :
রমযান মাস আল্লাহর পক্ষ থেকে মুসলমানদের জন্য অশেষ কল্যাণের মাস। এই মাসের মাহত্য আর কল্যাণের বিবেচনায় মুমিনদের প্রতি নরম দিল হয়ে আল্লাহ তাআলা জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেন, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করেন আর পবিত্রতাকে ধরে রাখার জন্য শয়তানকে কারাবাসে রাখেন। যারা সত্যিকারের মুসলিম তারা আত্মাকে শুদ্ধ করে, সকল পাপ থেকে দূরে সরে, ঈমানকে নবায়ন করে আল্লাহর ইবাদতে নতুন মাত্রায় গতি সঞ্চার করে। যার ফলে সমাজে আধ্যাত্মিকতা বিরাজ করে এবং শয়তানের প্রভাব মুক্ত হয়।
আমরা যারা আলেম সমাজ বা তালিবে ইলম তাদের কাছে শয়তান বন্দীর বিষয়টি স্পষ্ট কিন্তু সাধারণ মানুষদের কাছে এই বিষয়টি অস্পষ্ট। তাদের মনে একটি সন্দেহ মূলক প্রশ্ন কাজ করে, শয়তানকে যদি বন্দীই করা হয় তাহলে মানুষ রমযান মাসে পাপ করে কেন?
শয়তান যদি বন্দীই থাকত তাহলে তো পাপ করার কথা না। কারণ পাপ তো শয়তানের কুমন্ত্রনাতেই হয়। তখন কেউ কেউ বলেন, ইবলিশ শয়তানকে বন্দী করা হয় আর বাকি সব ছাড়া থাকে ওগুলোর কারণেই মানুষ পাপ করে।
শয়তান বন্দীর ব্যাপারে স্বচ্ছ ধারণা পাওয়ার জন্য সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ওলামা পরিষদের অন্যতম শাইখ সালেহ আল উসায়মী (হাফি:) এর দারস গ্রহণ করা যেতে পারে। তিনি বলেন,
শয়তানকে বন্দী করা হয় এটা সত্য তবে কোন শয়তানকে বন্দী করা হয় এতে আলেমদের মাঝে মতানৈক্য আছে একেকজন একেক রকম মত দিয়েছেন। শয়তান বন্দীর ব্যাপারে বিশুদ্ধ মত হচ্ছে, ইবলিশ সহ ছোট বড় সব শয়তানকে বন্দী করা হয়। পুরো মাস জুড়ে সব শয়তান বন্দী থাকে শুধুমাত্র একটি শয়তান মুক্ত থাকে।তার পরিচয় হলো “ক্বারীন” বা সঙ্গী শয়তান। অর্থাৎ, প্রত্যেকটি মানুষের সাথে আবশ্যকীয় ভাবে একটা করে শয়তান থাকে সেটাকেই ক্বারীন বলা হয়েছে।
এ কথার প্রমাণ হলো, সহীহ বুখারী ও মুসলিমে রাসুলের স্ত্রী সাফিয়্যা (রা:)এর একটি ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। একবার সাফিয়্যা (রা:) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে রাতের বেলা কোন প্রয়োজনে কথা বলার জন্য আসলেন। রাসুল তখন রমজানে ইতিকাফ অবস্থায় ছিলেন। হঠাৎ দুজন আনসারী সাহাবী পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। আল্লাহর রাসূল তাদেরকে ডাকলেন এবং বললেন,সে হচ্ছে সাফিয়্যা (আমার স্ত্রী)। রাসুলের এমন কথায় তারা অবাক হলো।
রাসুল বললেন,
إني خشيت أن يلقي الشيطان في نفوسكما شيئا
অর্থাৎ, আমি ভয় পেলাম যে শয়তান তোমাদের মনে কোন কুধারণা দিয়ে দেয় কিনা (এজন্য তোমাদেরকে ডেকে স্পষ্ট করে দিলাম)।
এখানে শয়তান দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, ক্বারীন শয়তান।
অনুরুপ ভাবে বুখারী ও মুসলিমে সাফিয়্যা রা এর আরেকটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে,
إن الشيطان يجري ابن ادم مجرى الدم
অর্থাৎ, শয়তান আদম সন্তানের রক্ত প্রবাহিত হওয়ার রগে রগে চলে।
এখানে যে শয়তান মানুষের রগে রগে চলে সেটা হলো ক্বারীন শয়তান। ঠালাওভাবে সকল শয়তান নয়।
(আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন)
من شرح “فضل صيام رمضان و قيامه” و”فضل شهر رمضان” لابن باز رحمه الله.

ব্রেকিং নিউজঃ