| |

জনাব কিছু ফেলে গেলেন কি?

আপডেটঃ 1:35 pm | May 14, 2020

Ad
আনোয়ার মাষ্টার
সেদিন অনেক আগের কথা। শরৎ এর কোনো এক ভোরবেলা। বিদ্যালয়ের কাজে ঢাকা বোর্ডে যাওয়ার জন্য বাসের অপেক্ষায় ছিলাম। হঠাৎ করে ত্রিশাল ব্রিজের সামনে একটি বাস এসে দাঁড়ালো। আমিও সুযোগটি হাতছাড়া করলাম না। তাৎক্ষণিক বাসে উঠে পড়লাম। কিন্তু বাসে উঠে ইতস্ততার মধ্যে পড়ে গেলাম। কারণ একটি মাত্র সিট খালি আছে যা ড্রাইভারের পেছনের সারিতে বামদিকে। ডান দিকে জানালার পাশে একজন ভদ্রমহিলা জানালার দিকে মুখ করে তাকিয়ে বসে আছেন।আমি অবশ্য কিছু না বলে আসনটিতে বসে পড়লাম বটে কিন্তু মনে মনে একটু অস্বস্তি বোধ করতেছিলাম। বাস দ্রুত গতিতে ঢাকার দিকে এগিয়ে চলছে। তখনকার সময় নিরাপদ ট্রাভেলসই ছিল সবচেয়ে দ্রুততম বাস। আমি আমার ব্যাগ থেকে এক খানা গল্পের বই বের করে পাতা উল্টোচ্ছিলাম। কি করব.? দুর্ভাগ্য আমার বাসে একজন মানুষও আমার পরিচিত ছিল না যে তার সাথে কথা বলে সময় কাটাব।তাছাড়া যিনি আমার ডান পাশে জানালার ধারে বসে আছেন তিনিত জানালার গ্লাস খোলে বাহিরের দৃশ্য অবলোকন করছিলেন। মনে হলো বাম দিকে চাওয়ার ফুরসুৎটুকুও তার নেই।প্রকৃতিতে তিনি অবগাহন করছেন।
যাক সে কথা বাস চলছেত চলছেই। শরৎ এর মৃদু মন্দ হাওয়া জানালা দিয়ে এসে গায়ে মাখছিল এবং বুকের মাঝে পরম শ্রান্তি এনে দিচ্ছিল। কিন্তু তাও আর বেশিক্ষণ সইলনা।ও… বলে রাখা ভালো, এতক্ষণে নিরাপদ বাসটি নিরাপদ এবং দ্রুত গতিতে আমাদের নিয়ে জয়দেবপুর চৌরাস্তা পাড়ি দিচ্ছিল। ভদ্রমহিলা তখন তন্দ্রাচ্ছন্ন।নীল শাড়ির আঁচল বাতাসে দোল খাচ্ছিল আর মাঝে মাঝে আমার মুখের উপর এসে কি যেন বলতে চাচ্ছিল। শুধু কি তাই ? মাথার সিল্কি চুলগুলো এসে আমার নাকে মুখে শুরশুরি দিচ্ছিল।
এবার অনেকটা বিরক্তই বলেন আর যাই বলেন কথা বলার সুযোগটা হাতছাড়া করলাম না। শাড়ির আঁচল ধরে বললাম মেডাম একটু সামলে রাখেন নয়ত আঁচল ছিঁড়ে যেতে পারে আর চুলগুলোও আমাকে শুরশুরি দিচ্ছে তাই এতোটুকু সামলে নিলে ভালো হয়।একথা শুনে ভদ্রমহিলা হতচকিত হয়ে আমাকে বললেন, ওকে আর হবে না ভাই Excuse me.আমি অবশ্য এবার তার মুখপানে চেয়ে ভদ্রতার খাতিরে বললাম, না ঠিক আছে আপনি একটু ঘুমিয়ে পড়ছিলেনত হয়ত Disturb করে ফেললাম।তিনি এবার আমার মুখপানে চেয়ে বললেন আরে…. আ.. বী.. র ভাই আপনি.…?
আমি আর তখন কিছুই বলতে পারলোমনা, শুধু বললাম সানু তুমি.. ….? কতদূর যাবে… ….?
এরপর কথা না বলার বন্ধ জানালা যেন চিচিংফাঁক। শুরু হলো কথামালা। অনেক কথা হলো জানা হলো একে অপরের অবস্থান ও গন্তব্যস্থল এবং না বলা কিছু কথা।
সে আমাকে বললো আমি সামনে এয়ারপোর্ট রোডে নেমে যাব।তখন হঠাৎ বুকের মাঝে যেন এক বড়। ইলেকট্টিক শক খেলাম। মনে হচ্ছিল আমি জানি কি হারাতে যাচ্ছি?বারবার মনে হচ্ছিল আরো আগে কেন কথা হলো না? ভাবতে ভাবতে নিরাপদ বাসটি নিরাপদে
এয়ারপোর্ট রোডের সামনে এসে হাজির। সানু (ছদ্দ নাম) হেলপারকে বললো আর একটু সামনে নামিয়ে দিয়ে যেও। এরই ফাঁকে সে আমার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে নিল, তার শেষ কথা ছিলো ভালো থেকো,দোয়া করো……..। সানু বাস থেকে নেমে গেল।আমি তার চলার পথে চেয়ে রইলাম।পড়নে ছিলো নীল শাড়ি যা বাতাসে দোল খাচ্ছে আর পায়ে ছিলো একজোড়া পায়েল পরিহিত লাল রঙের জুতো….।
দেখতে দেখতেই তাকে অতিক্রম করে বাস আড়াল করে দিলো।মনে হচ্ছিল পূরো পৃথিবীটা আমার নিকট আড়াল হয়ে গেছে। ভাবতে ভাবতে বাস মহাখালী চলে আসলো। সংযত কারনেই আমি সবার আগে নেমে
পড়লাম। কিন্তু নামার সময় দরজার উপর লিখা বাক্যটি আমাকে আজও পীড়া দেয়। বাক্যটি ছিলো, “ধন্যবাদ আবার আসবেন”।
এরপর বহুদিন বহুবার বাসে চড়েছি…কিন্তু সেইদিন যা ফেলে এসেছি তা আর কোন দিনও পাইনি… আর পাবও না।তাই বিশ্বকবি রবীঠাকুরের সেই চরণ খানি আজি মনে পড়ে……তুই ফেলে এসেছিস দিন দিনরে আমার…….।== আনোয়ার মাষ্টার
সেদিন অনেক আগের কথা। শরৎ এর কোনো এক ভোরবেলা। বিদ্যালয়ের কাজে ঢাকা বোর্ডে যাওয়ার জন্য বাসের অপেক্ষায় ছিলাম। হঠাৎ করে ত্রিশাল ব্রিজের সামনে একটি বাস এসে দাঁড়ালো। আমিও সুযোগটি হাতছাড়া করলাম না। তাৎক্ষণিক বাসে উঠে পড়লাম। কিন্তু বাসে উঠে ইতস্ততার মধ্যে পড়ে গেলাম। কারণ একটি মাত্র সিট খালি আছে যা ড্রাইভারের পেছনের সারিতে বামদিকে। ডান দিকে জানালার পাশে একজন ভদ্রমহিলা জানালার দিকে মুখ করে তাকিয়ে বসে আছেন।আমি অবশ্য কিছু না বলে আসনটিতে বসে পড়লাম বটে কিন্তু মনে মনে একটু অস্বস্তি বোধ করতেছিলাম। বাস দ্রুত গতিতে ঢাকার দিকে এগিয়ে চলছে। তখনকার সময় নিরাপদ ট্রাভেলসই ছিল সবচেয়ে দ্রুততম বাস। আমি আমার ব্যাগ থেকে এক খানা গল্পের বই বের করে পাতা উল্টোচ্ছিলাম। কি করব.? দুর্ভাগ্য আমার বাসে একজন মানুষও আমার পরিচিত ছিল না যে তার সাথে কথা বলে সময় কাটাব।তাছাড়া যিনি আমার ডান পাশে জানালার ধারে বসে আছেন তিনিত জানালার গ্লাস খোলে বাহিরের দৃশ্য অবলোকন করছিলেন। মনে হলো বাম দিকে চাওয়ার ফুরসুৎটুকুও তার নেই।প্রকৃতিতে তিনি অবগাহন করছেন।
যাক সে কথা বাস চলছেত চলছেই। শরৎ এর মৃদু মন্দ হাওয়া জানালা দিয়ে এসে গায়ে মাখছিল এবং বুকের মাঝে পরম শ্রান্তি এনে দিচ্ছিল। কিন্তু তাও আর বেশিক্ষণ সইলনা।ও… বলে রাখা ভালো, এতক্ষণে নিরাপদ বাসটি নিরাপদ এবং দ্রুত গতিতে আমাদের নিয়ে জয়দেবপুর চৌরাস্তা পাড়ি দিচ্ছিল। ভদ্রমহিলা তখন তন্দ্রাচ্ছন্ন।নীল শাড়ির আঁচল বাতাসে দোল খাচ্ছিল আর মাঝে মাঝে আমার মুখের উপর এসে কি যেন বলতে চাচ্ছিল। শুধু কি তাই ? মাথার সিল্কি চুলগুলো এসে আমার নাকে মুখে শুরশুরি দিচ্ছিল।
এবার অনেকটা বিরক্তই বলেন আর যাই বলেন কথা বলার সুযোগটা হাতছাড়া করলাম না। শাড়ির আঁচল ধরে বললাম মেডাম একটু সামলে রাখেন নয়ত আঁচল ছিঁড়ে যেতে পারে আর চুলগুলোও আমাকে শুরশুরি দিচ্ছে তাই এতোটুকু সামলে নিলে ভালো হয়।একথা শুনে ভদ্রমহিলা হতচকিত হয়ে আমাকে বললেন, ওকে আর হবে না ভাই Excuse me.আমি অবশ্য এবার তার মুখপানে চেয়ে ভদ্রতার খাতিরে বললাম, না ঠিক আছে আপনি একটু ঘুমিয়ে পড়ছিলেনত হয়ত Disturb করে ফেললাম।তিনি এবার আমার মুখপানে চেয়ে বললেন আরে…. আ.. বী.. র ভাই আপনি.…?
আমি আর তখন কিছুই বলতে পারলোমনা, শুধু বললাম সানু তুমি.. ….? কতদূর যাবে… ….?
এরপর কথা না বলার বন্ধ জানালা যেন চিচিংফাঁক। শুরু হলো কথামালা। অনেক কথা হলো জানা হলো একে অপরের অবস্থান ও গন্তব্যস্থল এবং না বলা কিছু কথা।
সে আমাকে বললো আমি সামনে এয়ারপোর্ট রোডে নেমে যাব।তখন হঠাৎ বুকের মাঝে যেন এক বড়। ইলেকট্টিক শক খেলাম। মনে হচ্ছিল আমি জানি কি হারাতে যাচ্ছি?বারবার মনে হচ্ছিল আরো আগে কেন কথা হলো না? ভাবতে ভাবতে নিরাপদ বাসটি নিরাপদে
এয়ারপোর্ট রোডের সামনে এসে হাজির। সানু (ছদ্দ নাম) হেলপারকে বললো আর একটু সামনে নামিয়ে দিয়ে যেও। এরই ফাঁকে সে আমার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে নিল, তার শেষ কথা ছিলো ভালো থেকো,দোয়া করো……..। সানু বাস থেকে নেমে গেল।আমি তার চলার পথে চেয়ে রইলাম।পড়নে ছিলো নীল শাড়ি যা বাতাসে দোল খাচ্ছে আর পায়ে ছিলো একজোড়া পায়েল পরিহিত লাল রঙের জুতো….।
দেখতে দেখতেই তাকে অতিক্রম করে বাস আড়াল করে দিলো।মনে হচ্ছিল পূরো পৃথিবীটা আমার নিকট আড়াল হয়ে গেছে। ভাবতে ভাবতে বাস মহাখালী চলে আসলো। সংযত কারনেই আমি সবার আগে নেমে
পড়লাম। কিন্তু নামার সময় দরজার উপর লিখা বাক্যটি আমাকে আজও পীড়া দেয়। বাক্যটি ছিলো, “ধন্যবাদ আবার আসবেন”।
এরপর বহুদিন বহুবার বাসে চড়েছি…কিন্তু সেইদিন যা ফেলে এসেছি তা আর কোন দিনও পাইনি… আর পাবও না।তাই বিশ্বকবি রবীঠাকুরের সেই চরণ খানি আজি মনে পড়ে……তুই ফেলে এসেছিস দিন দিনরে আমার…….।

 

ব্রেকিং নিউজঃ