| |

অাজ ১৭ মে বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা’র ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস স্বেচ্ছাসেবক লীগ ইফতার সামগ্রী বিতরণের কর্মসূচী

আপডেটঃ 11:49 am | May 17, 2020

Ad

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালের ১৭ মে নির্বাসিত জীবন শেষে জনগণের ডাকে ফিরে অাসেন প্রিয় মাতৃভূমিতে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ঘাতকচক্র সপরিবারে হত্যা করলেও তার দুই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকার কারনে ঘাতকদের হাত থেকে রক্ষা পান।
১৯৮১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল অধিবেশনে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নের দৃঢ় অঙ্গীকার, সপরিবারে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতা হত্যার বিচার, স্বৈরতন্ত্রের চির অবসান ঘটিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার বজ্র শপথ নিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর রক্তে রঞ্জিত বাংলায় ১৭ মে ১৯৮১ সালে সারাদেশের গ্রাম-গঞ্জ-শহর-নগর-বন্দর হতে লক্ষ লক্ষ অধিকার বঞ্চিত মুক্তিকামী জনতা সেদিন ছুটে এসেছিল রাজধানী ঢাকায়। জয় বাংলা ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয়েছিল ঢাকার আকাশ বাতাস। জনতার কণ্ঠে সেদিন ঘোষিত হয়েছিল ‘হাসিনা তোমায় কথা দিলাম পিতৃ হত্যার বদলা নেব’।
‘শেখ হাসিনার আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’, ধ্বনিতে মুখরিত হয়েছিল আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি, রাজধানী শহর ঢাকা। লক্ষ লক্ষ জনতার প্রাণঢালা উষ্ণ সম্ভাষণ এবং গোটা জাতির ভালবাসার ডালা মাথায় নিয়ে প্রিয় নেত্রী স্বদেশে ফিরে এসেছিলেন। সেদিন গগন বিদারী মেঘ গর্জন, ঝাঞ্ঝা-বিক্ষুব্ধ প্রকৃতি যেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার বদলা নেওয়ার লক্ষ্যে গর্জে উঠেছিল, আর অবিরাম মুষল ধারে বারি-বর্ষনে যেন ধূয়ে-মুছে যাচ্ছিল বাংলার মাটিতে পিতৃ হত্যার জমাট বাঁধা পাপ আর কলঙ্কের চিহ্ন।
ঝড়-বাদল উপেক্ষা করে শেরে বাংলা নগরে লাখ লাখ জনতার সংবর্ধনার জবাবে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘সব হারিয়ে আমি আপনাদের মাঝে এসেছি; বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে তাঁর আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে জাতির জনকের হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণে আমি জীবন উৎসর্গ করতে চাই।’ ‘‘আমার আর হারাবার কিছুই নেই। পিতা-মাতা, ভাই রাসেল সকলকে হারিয়ে আমি আপনাদের কাছে এসেছি, আমি আপনাদের মাঝেই তাদেরকে ফিরে পেতে চাই। আপনাদের নিয়েই আমি বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে তা বাস্তবায়ন করে বাংলার দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটাতে চাই, বাঙালি জাতির আর্থ-সামাজিক তথা সার্বিক মুক্তি ছিনিয়ে আনতে চাই।’’
আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ফলে দেশে গণ-জাগরণের ঢেউ জাগল, গুণগত পরিবর্তন সূচিত হলো আন্দোলনের, রাজনীতির, গণসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি পেল সংগঠনের। দেশবাসী পেল নতুন আলোর দিশা।
দেশে ফেরার পর থেকেই তিনি নিরলসভাবে দেশের অধিকারহারা মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য নিরবচ্ছিন্ন লড়াই সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছেন। গণমানুষের মুক্তির লক্ষ্যে আন্দোলন সংগ্রাম করার অপরাধে তাঁকে বারবার ঘাতকদের হামলার শিকার ও কারা নির্যাতন ভোগ করতে হয়েছে। তিনি নীতি ও আর্দশে অবিচল থেকে ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠার মধ্যেদিয়ে গণতন্ত্রকে পুনঃ প্রতিষ্ঠা করেছেন। জনগণের ভালবাসায় অভিষিক্ত হয়ে চতুর্থবারের ন্যায় রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়ে তিনি দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং সকল শ্রেণী ও পেশার মানুষের কল্যাণে যুগান্তকারী অবদান রেখে চলেছেন।
মহামারি করোনা পরিস্থিতিতে তিনি দেশের মানুষকে রক্ষা করার পাশাপাশি অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ‘‘রূপকল্প ২০২১’’ এর মধ্যম আয়ের বাংলাদেশকে ‘‘রূপকল্প ২০৪১’’ এর বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি উন্নত আধুনিক সমৃদ্ধ অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক কল্যাণকামী রাষ্ট্র গঠনে বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ অাওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ অাজ বিকাল ৪ টায় মিরপুর ১৪ নম্বরে অবস্থিত ঢাকা ডেন্টাল কলেজের সম্মুখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা’র সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে মিলাদ মাহফিল, দোয়া ও অসহায়-দরিদ্র মানুষের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণের কর্মসূচী গ্রহণ করেছে।
উক্ত অনুষ্ঠানে সংগঠনের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ ও সাধারণ সম্পাদক একেএম অাফজালুর রহমান বাবুসহ কেন্দ্রীয় এবং ঢাকা মহানগর উত্তর দক্ষিণের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।
দিবসটি ব্যাপকভাবে উদযাপনের জন্য প্রতিটি জেলা, মহানগর,উপজেলা ও থানার নেতৃবৃন্দকে অনুরুপ কর্মসূচী গ্রহনের জন্য সংগঠনের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ ও সাধারণ সম্পাদক একেএম অাফজালুর রহমান বাবু বিশেষভাবে অাহবান জানিয়েছেন।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

ব্রেকিং নিউজঃ